প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান (কর্ণফুলী) ২০১২
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য কোনো দেশের মোট আয়তনের শতকরা কত ভাগ বনভূমি থাকা আবশ্যক?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ২৫ ভাগ। পরিবেশের ভারসাম্য ঠিকঠাক রাখতে একটি দেশের মোট আয়তনের অন্তত ২৫% বা এক চতুর্থাংশ এলাকা জুড়েই বনভূমি থাকা জরুরি।
কোন প্রকার মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option B: এটেল মাটি।
বিষয়টা খুব সহজ! এটেল মাটির কণাগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং এদের ফাঁকফোকর বা ছিদ্রগুলো খুব ছোট হয়। এই কারণে পানি সহজে নিচে চুইয়ে যেতে পারে না এবং দীর্ঘদিন পানি ধরে রাখতে পারে। এর ফলে এই মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি হয়।
একটি জ্বলন্ত মোমবাতিতে কাঁচের গ্লাস দ্বারা ঢাকলে মোমবাতি নিভে যায়, কারণ —–
এখানে সঠিক উত্তর হলো: গ্লাসের ভিতর অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
খুব সহজ একটা ব্যাপার! যেকোনো কিছু জ্বলে থাকার জন্য অবিরাম অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়।
- যখন মোমবাতিটিকে কাঁচের গ্লাস দিয়ে ঢাকা হয়, তখন গ্লাসের ভেতরের সীমিত অক্সিজেন দিয়ে মোমটি কিছুক্ষণ জ্বলে।
- গ্লাসের ভেতরের সমস্ত অক্সিজেন ফুরিয়ে যাওয়ার পর বাইরে থেকে নতুন বাতাস বা অক্সিজেন ঢোকার পথ বন্ধ থাকে।
- অক্সিজেনের এই সাপ্লাই বা সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই জ্বলন্ত মোমবাতিটি নিভে যায়।
আদমসুরত বলা হয় —
এখানে সঠিক উত্তর হলো কালপুরুষকে।
আকাশের অন্যতম পরিচিত এবং সহজেই চেনার মতো একটি নক্ষত্রমণ্ডল হলো কালপুরুষ (Orion)। এর তারার বিন্যাস অনেকটা মানুষের শরীরের আকৃতির মতো দেখায় বলেই একে প্রাচীনকাল থেকে 'আদমসুরত' বা মানুষের আকৃতিবিশিষ্ট মণ্ডল বলা হয়ে থাকে। রাতের আকাশে একে খুঁজে পাওয়া খুবই সহজ!
পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে ভিতরে গেলে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি —-
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: কমে যাবে।
পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে যত নিচের দিকে বা কেন্দ্রের দিকে যাওয়া যায়, ততই পৃথিবীর কার্যকরী ভর কমতে থাকে। মহাকর্ষীয় সূত্র অনুযায়ী, গভীরতা বৃদ্ধির সাথে সাথে পৃথিবীর যে অংশটি বস্তুকে নিজের কেন্দ্রের দিকে টানে তার পরিমাণ হ্রাস পায়। এর ফলে পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণ বা মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং ঠিক কেন্দ্রের কাছে এর মান শূন্য হয়ে যায়।
কুয়েত কোন সাগরের তীরে অবস্থিত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো পারস্য উপসাগর। খুব সহজে মনে রাখার কৌশল হলো, মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ কুয়েত ভৌগোলিকভাবে পারস্য উপসাগরের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত। মানচিত্রে তাকালে দেখা যায় কুয়েতের পূর্ব দিকে এই উপসাগরের নীল জলরাশি বিস্তৃত রয়েছে।
কোনো স্থানে সময় যখন রবিবার সকাল ৬টা তখন এর ১৮০ ডিগ্রী পশ্চিম দিকে অবস্থিত স্থানের সময় হবে—
এখানে সঠিক উত্তর হলো শনিবার সন্ধ্যা ৬টা। খুব সহজ একটা নিয়মে এটা বের করা যায়:
- পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘোরে, তাই দ্রাঘিমা বাড়লে সময় বাড়ে আর কমলে সময় কমে।
- আমরা জানি, প্রতি $1^\circ$ দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের ব্যবধান হয় $4$ মিনিট।
- তাহলে, $180^\circ$ দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য মোট সময়ের পার্থক্য হবে: $$180 \times 4 \text{ মিনিট} = 720 \text{ মিনিট}$$
- ঘণ্টায় রূপান্তর করলে পাই: $$\frac{720}{60} = 12 \text{ ঘণ্টা}$$
- যেহেতু নির্দিষ্ট স্থানটি থেকে ১৮০ ডিগ্রি পশ্চিম দিকে বলা হয়েছে, তাই সময় ১২ ঘণ্টা পিছিয়ে যাবে। রবিবার সকাল ৬টা থেকে ১২ ঘণ্টা পিছিয়ে গেলে আগের দিন অর্থাৎ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা হয়।
ইবনে বতুতা কোন শতকে বাংলাদেশে আসেন?
এখানে সঠিক উত্তর হলো চতুর্দশ শতক। বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩০৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৩৩ থেকে ১৩৪২ সালের মধ্যে মুহাম্মদ বিন তুঘলকের শাসনামলে ভারতীয় উপমহাদেশে ভ্রমণ করেন। এই সময়টিই মূলত চতুর্দশ শতক (১৪ শতক) হিসেবে পরিচিত, যখন তিনি বাংলাও ভ্রমণ করেছিলেন।
পূর্ব পাকিস্তানে গণঅভ্যুত্থান কত সালে হয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ১৯৬৯ সালে। আইয়ুব খানের সরকারের পতন ঘটানোর দাবিতে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব আন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল। এই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই বাঙালি জাতির মুক্তির পথ আরও সুগম হয়।
ভারতবর্ষে ‘ঘোড়ার ডাক‘ এর প্রচলন করেন —-
এখানে সঠিক উত্তর হলো শেরশাহ।
মধ্যযুগের ভারতবর্ষে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে শেরশাহ এক যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি সাম্রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুত খবর আদান-প্রদান এবং প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য ঘোড়ার ডাক বা ডাক ব্যবস্থা চালু করেন। এর মাধ্যমেই মূলত বাংলায় বা সমগ্র ভারতবর্ষে আধুনিক পোস্টাল বা ডাক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়।