বিস্তারিত সমাধান
ফ্রি ২০টি প্রশ্নের পড়ার কোটা সমাপ্ত!
লগইন ছাড়া আপনি সর্বোচ্চ ২০টি প্রশ্ন পড়তে পারবেন।
আরও শত শত প্রশ্ন, সমাধান ও ব্যাখ্যা পড়তে চান?
আমাদের সকল প্রশ্ন ব্যাংক, ব্যাখ্যা ও মডেল টেস্টে সম্পূর্ণ অ্যাক্সেস পেতে এখনই লগইন করুন অথবা সম্পূর্ণ ফ্রিতে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট খুলুন।
সম্পর্কিত পরীক্ষা সমূহ
সম্পর্কিত বিষয় সমূহ
সম্পর্কিত অন্যান্য প্রশ্ন
প্রমাণ অবস্থায় 2 গ্রাম হাইড্রোজেন গ্যাসের আয়তন কত?
প্রমাণ অবস্থায় (STP) যেকোনো ১ মোল গ্যাসের আয়তন সবসময় 22.4 লিটার হয়। এই অংকটি খুব সহজেই সমাধান করা যায়:
- হাইড্রোজেন গ্যাসের ($H_2$) আণবিক ভর হলো $2 \times 1 = 2$ গ্রাম।
- যেহেতু আমাদের কাছে ঠিক 2 গ্রাম হাইড্রোজেন আছে, তার মানে এটি হলো ১ মোল গ্যাস।
- আমরা জানি, ১ মোল যেকোনো গ্যাসের আয়তন প্রমাণ অবস্থায় হয় $22.4$ লিটার।
অর্থাৎ, 2 গ্রাম হাইড্রোজেন গ্যাসের আয়তন সরাসরি 22.4 লিটার।
তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের ফলে যে বিটা চৌম্বক নির্গত হয় তা আসলে কী?
তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের সময় নির্গত বিটা রশ্মি বা বিটা কণা আসলে উচ্চ গতিসম্পন্ন ইলেকট্রনের একটি স্রোত। বিষয়টি খুব সহজভাবে এভাবে বোঝা যায়:
- নিউক্লিয়াসের ভেতর যখন একটি নিউট্রন ভেঙে প্রোটনে পরিণত হয়, তখন ভারসাম্য বজায় রাখতে একটি ইলেকট্রন তৈরি হয়।
- এই ইলেকট্রনটিই নিউক্লিয়াস থেকে প্রচণ্ড বেগে বেরিয়ে আসে, যাকে আমরা বিটা কণা বলি।
- যেহেতু ইলেকট্রনের আধান ঋণাত্মক, তাই বিটা রশ্মি মূলত ঋণাত্মক ইলেকট্রন স্রোত হিসেবেই পরিচিত।
সহজ কথায়, তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে নির্গত এই ইলেকট্রনগুলোর আধান $q = -1.6 \times 10^{-19} \text{ C}$ এবং ভর ইলেকট্রনের ভরের সমান, যা বিটা ক্ষয়ের মূল বৈশিষ্ট্য।
কপারের সাথে অন্য কোন ধাতুকে গলিয়ে ব্রোঞ্জ তৈরি করা হয়?
সঠিক উত্তর হলো টিন। ব্রোঞ্জ বা কাঁসা তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ, যেখানে মূলত দুটি ধাতুর সংমিশ্রণ ঘটানো হয়:
- প্রধান উপাদান হিসেবে থাকে কপার বা তামা।
- এর সাথে নির্দিষ্ট অনুপাতে মেশানো হয় টিন।
সাধারণত ব্রোঞ্জে কপারের পরিমাণ থাকে প্রায় $88\%$ এবং টিনের পরিমাণ থাকে প্রায় $12\%$। এই দুই ধাতুকে উচ্চ তাপমাত্রায় গলিয়ে মিশ্রিত করলেই তৈরি হয় মজবুত ও টেকসই ব্রোঞ্জ।
আধুনিক পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি কী?
আধুনিক পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি হলো ইলেকট্রন বিন্যাস। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ কোনো মৌলের রাসায়নিক ধর্ম মূলত তার সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন বিন্যাসের ওপর নির্ভর করে।
- পর্যায় সারণিতে একই গ্রুপের মৌলগুলোর ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের মিল থাকার মূল কারণ হলো তাদের সর্বশেষ শক্তিস্তরের ইলেকট্রন বিন্যাস একই রকম।
- মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে ইলেকট্রনগুলো নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বিভিন্ন অরবিটালে বিন্যস্ত হয়, যা পর্যায় সারণির পর্যায় ও গ্রুপ নির্ধারণে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
- তাই আধুনিক পর্যায় সারণিকে ইলেকট্রন বিন্যাসের একটি ছক বা প্রতিফলন বলা হয়।
কোনটির কার্যপ্রণালিতে তড়িৎ চৌম্বক আবেশকে ব্যবহার করা হয়?
সঠিক উত্তর হলো ট্রান্সফরমার। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ ট্রান্সফরমার মূলত ফ্যারাডের তড়িৎ চৌম্বক আবেশ সূত্রের ওপর ভিত্তি করেই কাজ করে।
সহজ কথায় এর কার্যপদ্ধতিটি এমন:
- ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি কয়েলে যখন পরিবর্তনশীল তড়িৎ প্রবাহ পাঠানো হয়, তখন সেখানে একটি পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়।
- এই পরিবর্তনশীল চৌম্বক ফ্লাক্স সেকেন্ডারি কয়েলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে তড়িৎ চালক শক্তি বা ভোল্টেজ আবিষ্ট করে।
- এই পুরো প্রক্রিয়াটিই হলো তড়িৎ চৌম্বক আবেশ বা Electromagnetic Induction।
গাণিতিকভাবে, আবিষ্ট তড়িৎ চালক শক্তি $e$ এবং চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তনের হারের সম্পর্কটি হলো:
$$e = -N \frac{d\phi}{dt}$$এখানে $N$ হলো কয়েলের পাক সংখ্যা এবং $\frac{d\phi}{dt}$ হলো সময়ের সাথে চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তনের হার। এই নীতি মেনেই ট্রান্সফরমার ভোল্টেজকে কম বা বেশি করতে পারে।
উত্তল দর্পণ কোথায় ব্যবহার হয়?
সঠিক উত্তর হলো গাড়িতে। এর কারণটা খুব সহজ এবং মজার!
উত্তল দর্পণের প্রধান কাজ হলো অনেক বড় কোনো বস্তুর ছোট এবং সোজা প্রতিবিম্ব তৈরি করা। গাড়ির লুকিং গ্লাসে এই বৈশিষ্ট্যটি দারুণ কাজে লাগে:
- প্রশস্ত ভিউ: উত্তল দর্পণ ব্যবহার করলে চালক গাড়ির পেছনের অনেক বড় এলাকা একসাথে দেখতে পান।
- নিরাপত্তা: এটি পেছনের গাড়ি বা রাস্তার বড় অংশকে ছোট করে আয়নায় ফুটিয়ে তোলে, ফলে চালক সহজেই বুঝতে পারেন তার পেছনে কী আছে।
- সহজ হিসাব: সমতল দর্পণের তুলনায় উত্তল দর্পণে দৃষ্টিসীমা বা Field of View অনেক বেশি থাকে, যা ড্রাইভিংয়ের জন্য সবচেয়ে জরুরি।
তাই নিরাপত্তার খাতিরে এবং পেছনের ট্রাফিক দেখার সুবিধার জন্য সব গাড়িতেই উত্তল দর্পণ ব্যবহার করা হয়।
শব্দের বেগ কোন মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি?
শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি হয় কঠিন মাধ্যমে। এর কারণ হলো পদার্থের অণুগুলোর বিন্যাস।
- শব্দ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার জন্য মাধ্যমের অণুগুলোর কম্পনের ওপর নির্ভর করে।
- কঠিন পদার্থের অণুগুলো একে অপরের খুব কাছাকাছি থাকে, ফলে কম্পন বা শক্তি খুব দ্রুত এক অণু থেকে অন্য অণুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
- গ্যাসীয় বা তরল পদার্থের তুলনায় কঠিন পদার্থের ঘনত্ব এবং স্থিতিস্থাপকতা বেশি হওয়ায় সেখানে শব্দের গতিবেগ অনেক গুণ বেড়ে যায়।
সহজ কথায়, অণুগুলো যত কাছাকাছি থাকবে, শব্দ তত দ্রুত যাতায়াত করবে। তাই লোহা বা ইস্পাতের মতো কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ বায়ুর তুলনায় প্রায় ১৫ গুণ বেশি হয়।
‘বোজন’ কণা কথাটি কার নাম থেকে এসেছে?
সঠিক উত্তর হলো সত্যেন্দ্রনাথ বসু। বিষয়টি বেশ মজার এবং গর্বের!
পদার্থবিজ্ঞানের কোয়ান্টাম মেকানিক্সে এক বিশেষ ধরনের কণার নামকরণ করা হয়েছে বিখ্যাত বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নামানুসারে। এর পেছনের কারণগুলো হলো:
- সত্যেন্দ্রনাথ বসু ১৯২৪ সালে আলোর কোয়ান্টাম পরিসংখ্যান নিয়ে একটি যুগান্তকারী গবেষণাপত্র লিখেছিলেন।
- তার সেই কাজের ওপর ভিত্তি করেই আলবার্ট আইনস্টাইন পরবর্তীকালে 'বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান' তত্ত্বটি দাঁড় করান।
- পরবর্তীতে যে সব কণা এই পরিসংখ্যান মেনে চলে, তাদের সম্মান জানিয়েই নামকরণ করা হয় বোসন (Boson) কণা।
সহজ কথায়, বিশ্বখ্যাত এই কণাটির নামের পেছনে রয়েছে সত্যেন্দ্রনাথ বসুর অসামান্য মেধা ও অবদান।
পদার্থের চতুর্থ অবস্থার নাম কী?
সঠিক উত্তর হলো প্লাজমা। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় এভাবে:
- সাধারণত আমরা পদার্থকে কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়—এই তিন অবস্থায় চিনি।
- কিন্তু যখন কোনো গ্যাসকে প্রচণ্ড উত্তপ্ত করা হয়, তখন তা আয়নিত হয়ে যায়।
- এই আয়নিত গ্যাসীয় অবস্থাই হলো পদার্থের চতুর্থ অবস্থা, যাকে আমরা প্লাজমা বলি।
- সহজ কথায়, সূর্যের ভেতরে বা নক্ষত্রমন্ডলীতে পদার্থ যে অবস্থায় থাকে, সেটিই হলো প্লাজমা।
নিচের কোনটি সর্বাধিক আয়নায়ন (Ionization) ক্ষমতার অধিকারী?
সঠিক উত্তর হলো আলফা (α)। এর কারণ হলো আলফা কণা হলো হিলিয়াম নিউক্লিয়াস, যার ভর এবং চার্জ অনেক বেশি। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে এটি খুব সহজেই অন্য পরমাণুর ইলেকট্রনকে আঘাত করে বের করে আনতে পারে।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- আলফা কণার ভর অনেক বেশি হওয়ায় এটি খুব ধীরগতির হয়, ফলে এটি আশেপাশের পরমাণুর সাথে বেশি সময় ধরে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে।
- এর চার্জ $+2e$ হওয়ায় এটি অত্যন্ত শক্তিশালী তড়িৎ ক্ষেত্র তৈরি করে, যা আয়নায়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
- তুলনামূলকভাবে, আলফা কণার আয়নায়ন ক্ষমতা বেটা কণার চেয়ে প্রায় $100$ গুণ এবং গামা রশ্মির চেয়ে প্রায় $10,000$ গুণ বেশি।