বিস্তারিত সমাধান
ফ্রি ২০টি প্রশ্নের পড়ার কোটা সমাপ্ত!
লগইন ছাড়া আপনি সর্বোচ্চ ২০টি প্রশ্ন পড়তে পারবেন।
আরও শত শত প্রশ্ন, সমাধান ও ব্যাখ্যা পড়তে চান?
আমাদের সকল প্রশ্ন ব্যাংক, ব্যাখ্যা ও মডেল টেস্টে সম্পূর্ণ অ্যাক্সেস পেতে এখনই লগইন করুন অথবা সম্পূর্ণ ফ্রিতে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট খুলুন।
সম্পর্কিত পরীক্ষা সমূহ
সম্পর্কিত বিষয় সমূহ
সম্পর্কিত অন্যান্য প্রশ্ন
সুশাসনের মূলভিত্তি-
সঠিক উত্তর হলো আইনের শাসন। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায়—একটি রাষ্ট্রে সুশাসন তখনই নিশ্চিত হয়, যখন সেখানে আইনের চোখে সবাই সমান থাকে।
- আইনের শাসন মানে হলো দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
- যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনের ঊর্ধ্বে থাকে না, তখনই সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সুশাসনের মূল লক্ষ্যই হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, যা একমাত্র আইনের শাসনের মাধ্যমেই সম্ভব।
সহজ কথায়, আইনের শাসন ছাড়া সুশাসন কল্পনা করা অসম্ভব, কারণ এটিই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
‘শর্তহীন আদেশ’ ধারণাটির প্রবর্তক কে?
সঠিক উত্তর হলো ইমানূয়েল কান্ট। নৈতিক দর্শনের ক্ষেত্রে কান্টের এই ধারণাটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ।
বিষয়টি খুব সহজভাবে বুঝতে নিচের পয়েন্টগুলো খেয়াল করুন:
- কান্টের মতে, নৈতিকতা কোনো শর্তের ওপর নির্ভর করে না। অর্থাৎ, কোনো কিছু পাওয়ার আশায় বা কোনো ভয় থেকে কাজ করা নৈতিকতা নয়।
- শর্তহীন আদেশ বা Categorical Imperative হলো এমন একটি নিয়ম, যা আমাদের কোনো ফলাফল চিন্তা না করেই পালন করতে হয়।
- সহজ কথায়, কাজটি নিজে থেকেই সঠিক—তাই এটি করা আমাদের কর্তব্য। কান্ট মনে করতেন, আমাদের এমনভাবেই কাজ করা উচিত যেন সেই কাজের নিয়মটি একটি সার্বজনীন আইন হিসেবে গণ্য হতে পারে।
তাই দর্শনের আলোচনায় যখনই 'শর্তহীন আদেশ' বা কর্তব্যের নৈতিকতার কথা আসে, তখন সবার আগে ইমানূয়েল কান্টের নামই চলে আসে।
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সুশাসনের কোন দিকটির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে?
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য বা Millennium Development Goals (MDG) অর্জনে সুশাসনের সামাজিক দিকটির ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর কারণগুলো খুব সহজ:
- MDG-এর মূল লক্ষ্যই ছিল দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার প্রসার, লিঙ্গ সমতা এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন।
- এই বিষয়গুলো সরাসরি সমাজের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সাথে জড়িত।
- সুশাসনের সামাজিক দিকটি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং মৌলিক অধিকারগুলো পূরণ করা সম্ভব হয়, যা সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রার মূল ভিত্তি।
সহজ কথায়, সমাজের মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নই যেহেতু এই লক্ষ্যমাত্রার কেন্দ্রবিন্দু, তাই সুশাসনের সামাজিক দিকটি এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভালো-মন্দ কোন ধরনের মূল্যবোধ?
সঠিক উত্তর হলো নৈতিক। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কোন কাজটা সঠিক আর কোন কাজটা ভুল—এই বিচারবোধই মূলত নৈতিকতার ভিত্তি।
- মানুষের আচরণের ভালো-মন্দ বা উচিত-অনুচিত যাচাই করার মাপকাঠিই হলো নৈতিক মূল্যবোধ।
- এটি আমাদের বিবেককে জাগ্রত রাখে এবং সমাজে একজন ভালো মানুষ হিসেবে চলতে সাহায্য করে।
- যেহেতু ভালো-মন্দ বিচার করা সরাসরি আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণের শুদ্ধতার সাথে জড়িত, তাই একে আমরা নৈতিক মূল্যবোধ হিসেবেই জানি।
সুশাসনের পূর্বশর্ত কী?
সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা। এটি কেন সঠিক, তা খুব সহজে বোঝা যায়:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকরা যখন নির্ভয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারেন, তখনই সরকারের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলে সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের ভুলত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিতে পারে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরাসরি ভূমিকা রাখে।
- এটি নাগরিকদের সচেতন করে তোলে এবং রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণকে অর্থবহ করে।
সহজ কথায়, জনগণের কণ্ঠস্বর যখন অবাধ থাকে, তখনই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সুশাসন বজায় রাখা সম্ভব হয়। তাই সুশাসনের পূর্বশর্ত হিসেবে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
‘Utilitarianism’-গ্রন্থের লেখক কে?
‘Utilitarianism’ বা উপযোগবাদ দর্শনের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা হলেন জন স্টুয়ার্ট মিল। তিনি ১৮৬১ সালে এই বিখ্যাত গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- উপযোগবাদ বা 'Utilitarianism' তত্ত্বটি মূলত জেরেমি বেন্থাম শুরু করলেও, একে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়ে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন জন স্টুয়ার্ট মিল।
- পরীক্ষায় যখনই এই বইটির নাম আসবে, মনে রাখবেন এটি মিলের নৈতিক দর্শনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
সুশাসন প্রত্যয়টির উদ্ভাবক কে?
সঠিক উত্তর হলো বিশ্বব্যাংক। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ সুশাসন বা 'Good Governance' ধারণাটি মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে প্রথম সামনে নিয়ে আসে বিশ্বব্যাংক।
সহজভাবে মনে রাখার কৌশল:
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক তাদের একটি প্রতিবেদনে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে সুশাসন শব্দটি ব্যবহার করে।
- তাদের মূল লক্ষ্য ছিল উন্নয়নমূলক কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনি কাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরা।
- তাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুশাসন প্রত্যয়টির উদ্ভাবক বা প্রবক্তা হিসেবে বিশ্বব্যাংককেই ধরা হয়।
‘জ্ঞান হয় পুণ্য’-এই উক্তিটি কার?
সঠিক উত্তর হলো সক্রেটিস।
সক্রেটিসের দর্শনের মূল ভিত্তিই ছিল জ্ঞান। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষ যদি কোনো বিষয়ে সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে, তবে সে কখনোই ভুল বা অনৈতিক কাজ করবে না। তার মতে, অজ্ঞতাই হলো সব পাপের মূল। তাই তিনি খুব সহজভাবে বলতেন, ‘জ্ঞানই পুণ্য’ (Knowledge is Virtue)। অর্থাৎ, কেউ যদি সত্যিকার অর্থে ভালো কী তা জানে, তবে সে অবশ্যই ভালো কাজই করবে।
মূল্যবোধের উৎস কোনটি?
মূল্যবোধের মূল উৎস হলো নৈতিক চেতনা। বিষয়টি একদম সহজ—আমাদের ভেতরের ভালো-মন্দের যে বোধ বা বিবেক, সেটাই মূলত আমাদের মূল্যবোধ তৈরি করে।
- বিবেকের ভূমিকা: মানুষের নিজের ভেতরের সঠিক ও ভুলের পার্থক্য করার ক্ষমতাই হলো নৈতিক চেতনা।
- মূল ভিত্তি: সমাজ বা ধর্ম আমাদের অনেক কিছু শেখালেও, সেই বিষয়গুলোকে নিজের জীবনের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করার জন্য প্রয়োজন নিজস্ব নৈতিক বিচারবুদ্ধি।
- সহজ কথায়: যখন আমরা কোনো কাজ করার আগে নিজের বিবেক দিয়ে যাচাই করি যে কাজটি সঠিক কি না, তখনই আমাদের নৈতিক চেতনার প্রকাশ ঘটে, যা আমাদের মূল্যবোধকে গড়ে তোলে।
নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষকে কী বলে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো শুদ্ধাচার। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায় এভাবে:
- শুদ্ধাচার বলতে মূলত নৈতিকতা, সততা এবং নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করাকে বোঝায়।
- যখন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আচরণে নৈতিক মানদণ্ড এবং সততার প্রতিফলন ঘটে, তখন তাকেই শুদ্ধাচার বলা হয়।
- সহজ কথায়, শুদ্ধাচার হলো এমন একটি আচরণগত উৎকর্ষ যা একজন মানুষকে সঠিক পথে চলতে এবং স্বচ্ছভাবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে।
তাই নৈতিকতা ও সততার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা আচরণগত উৎকর্ষকে এক কথায় শুদ্ধাচার বলা হয়।