দিবালোকের দৈর্ঘ্য ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে থাকলে নিচের কোন উদ্ভিদে ফুল ফুটবে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া (সঠিক অপশন ডি অনুযায়ী)।
খুব সহজ কথায় বলতে গেলে, উদ্ভিদের ফুল ফোটার ক্ষেত্রে দিনের আলোর দৈর্ঘ্যের বা সময়ের একটা বড় প্রভাব থাকে। একে ফোটোপিরিয়ডিজম বা দীপ্তিকালিতা বলা হয়। কিছু উদ্ভিদ আছে যাদের ফুল ফোটার জন্য কম আলোর (স্বল্প দিন) প্রয়োজন হয়। চন্দ্রমল্লিকা এবং ডালিয়া হলো সেই সমস্ত স্বল্প-দিবসী উদ্ভিদ, যাদের ফুল ফোটার জন্য দিবালোকের দৈর্ঘ্য ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে থাকা প্রয়োজন।
নিচের ফোনটি আমাদের আতীয় পাখির বৈজ্ঞানিক নাম?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: Copsychus saularis।
খুব সহজেই এটি মনে রাখতে পারো যে, আমাদের জাতীয় পাখি হলো দোয়েল। আর এই দোয়েল পাখিরই বৈজ্ঞানিক নাম হলো Copsychus saularis। সাধারণ জ্ঞান বা সাধারণ বিজ্ঞানের এই প্রশ্নগুলো মনে রাখার জন্য পাখির নাম ও তার বৈজ্ঞানিক নামটি সরাসরি এভাবে মুখস্থ রাখাই সবচেয়ে সহজ উপায়!
প্রাণিকোষের কোন অঙ্গাণু প্রোটিন সংশ্লেষণের স্থান নির্ধারণ করে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো রাইবোজোম। কারণ, রাইবোজোমকে কোষের প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়। এটি কোষের ভেতরে প্রোটিন সংশ্লেষণের প্রধান স্থান হিসেবে কাজ করে এবং প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি করে দেহ গঠনে ও বিপাকীয় কাজে সাহায্য করে।
কোষ বিভাজনের কোন ধাপে ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক খাটো ও মোটা হয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো মেটাফেজ। খুব সহজে মনে রাখার টেকনিক হলো, কোষ বিভাজনের এই পর্যায়ে এসে ক্রোমোজোমগুলো কুণ্ডলীকৃত হয়ে সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট, খাটো এবং মোটা দেখায়। ঠিক এই কারণেই যেকোনো আদর্শ কোষ বিভাজনে বা ক্যারিওকিনেটিক্সে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ও গঠন নিখুঁতভাবে গণনা করার জন্য মেটাফেজ ধাপটিকেই সবচেয়ে উপযোগী ধরা হয়।
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ম্যাক্রেন উপাদান কোনগুলো?
এখানে সঠিক উত্তর হলো N, Ca, Mg (নাইট্রোজেন, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম)।
উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানের মধ্যে যেগুলোকে বেশি পরিমাণে প্রয়োজন হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা প্রধান খাদ্য উপাদান বলা হয়। সহজে মনে রাখার একটি দারুণ কৌশল হলো:
- "ম্যাগাজিনে ক্যাবল নাই" — এই ছোট্ট ছন্দটি দিয়ে খুব সহজেই ম্যাক্রো উপাদানগুলো মনে রাখা যায়।
- এখানে, ম্যা-তে ম্যাগনেসিয়াম ($\text{Mg}$), ক্যা-তে ক্যালসিয়াম ($\text{Ca}$) এবং নাই-তে নাইট্রোজেন ($\text{N}$) নির্দেশ করে।
তাই উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এই তিনটি উপাদান অত্যন্ত জরুরি।
সালোকসংশ্লেষণের জন্য পরিমিত তাপমাত্রা কত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ২২° সে.-৩৫° সে.। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের পাতার ক্লোরোপ্লাস্ট ও এনজাইমগুলো সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করতে পারে যখন তাপমাত্রা এই নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে। তাপমাত্রা এর চেয়ে অনেক কম বা বেশি হলে উদ্ভিদের ভেতরের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোর গতি কমে যায়, ফলে সালোকসংশ্লেষণের হারও হ্রাস পায়।
আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স- i. পেপসিন এনজাইম নিঃসরণ করে ii. শরীরের শর্করা বিপাকে সহায়তা করে iii. ইনসুলিন হরমোন নিঃসরণ করে নিচের কোনটি সঠিক?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ii ও iii। কারণ অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স বা ল্যাঙ্গারহ্যান্সের দ্বীপিকা থেকে মূলত ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা সরাসরি আমাদের শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ বা বিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর পেপসিন হলো পাকস্থলী থেকে নিঃসৃত একটি পরিপাককারী এনজাইম, যার সাথে আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সের কোনো সম্পর্ক নেই।
স্বরযন্ত্রের উপর জিহ্বা আকৃতির ঢাকনাটির নাম কী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Epiglottis বা এপিগ্লটিস।
খাবার খাওয়ার সময় খাদ্য যাতে ভুল করে শ্বাসনালীতে ঢুকে না যায়, তার জন্য প্রকৃতির এক চমৎকার ব্যবস্থা হলো এই এপিগ্লটিস। এটি জিহ্বার ঠিক পেছনে ঢাকনার মতো কাজ করে এবং খাবার গিল (Swallowing) করার সময় শ্বাসনালীর মুখ বন্ধ করে দেয়, যাতে খাবার সোজা খাদ্যনালীতে চলে যেতে পারে।
কোন খাদ্যটি খেলে মূত্রে এসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: ডিম।
ডিম, মাংস এবং মাছের মতো আমিষ জাতীয় খাবারে সালফার ও ফসফরাসের পরিমাণ বেশি থাকে। আমাদের শরীর যখন এই আমিষ জাতীয় খাবারগুলো হজম করে, তখন বিপাকক্রিয়ার (metabolism) ফলে এসিডের উপজাত তৈরি হয়। এই কারণে ডিম বা আমিষ জাতীয় খাবার বেশি খেলে মূত্রে এসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, শাকসবজি ও ফলমূল শরীরকে ক্ষারীয় রাখতে সাহায্য করে।
সুপারি গাছে পান গাছ আরোহণ করা কোন ধরনের আন্তঃক্রিয়া?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কমেনসেলিজম (Commensalism)।
বিষয়টা খুব সহজ:
- কমেনসেলিজম এমন এক ধরণের আন্তঃক্রিয়া, যেখানে দুটি জীবের মধ্যে একটি উপকৃত হয় কিন্তু অন্যটির কোনো ক্ষতি বা লাভ হয় না।
- সুপারি গাছে পান গাছ কেবল ওপরের দিকে ওঠার জন্য বা আলোর খোঁজে আশ্রয় নেয়, কিন্তু সুপারি গাছের থেকে কোনো খাবার গ্রহণ করে না বা গাছটির কোনো ক্ষতিও করে না।
- তাই সুপারি গাছে পানের আরোহণ করাকে কমেনসেলিজম বা সহভোজিতা বলা হয়।