নিচের কোনটি লব্ধ রাশি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো তাপ। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় মৌলিক ও লব্ধ রাশির পার্থক্যের মাধ্যমে।
- মৌলিক রাশি: যে রাশিগুলো অন্য কোনো রাশির ওপর নির্ভর করে না, যেমন—দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎ প্রবাহ, পদার্থের পরিমাণ এবং দীপন তীব্রতা।
- লব্ধ রাশি: যে রাশিগুলো মৌলিক রাশির সমন্বয়ে গঠিত হয়। তাপ হলো শক্তির একটি রূপ, যা কাজ বা গতির সাথে সম্পর্কিত এবং এটি মৌলিক রাশিগুলোর গুণফল বা ভাগফল থেকে তৈরি হয়।
সহজ কথায়, তাপকে পরিমাপ করতে হলে আমাদের কাজ বা শক্তির একক ব্যবহার করতে হয়, যা মৌলিক রাশির সংমিশ্রণ। তাই পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী তাপ একটি লব্ধ রাশি।
চলন্ত গাড়ির চাকার গতি- i. ঘূর্ণন গতি ii. পর্যায় বৃত্ত গতি iii. স্পন্দন গতি নিচের কোনটি সঠিক?
এখানে সঠিক উত্তর হলো i ও ii। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায়:
- ঘূর্ণন গতি: চলন্ত গাড়ির চাকা তার নিজস্ব অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘোরে, তাই এটি একটি ঘূর্ণন গতি।
- পর্যায়বৃত্ত গতি: চাকাটি একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর তার গতির নির্দিষ্ট অংশ বারবার অতিক্রম করে, তাই এটি পর্যায়বৃত্ত গতির অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, স্পন্দন গতি বা দোলন গতির জন্য বস্তুকে একটি সাম্যাবস্থানের দুই পাশে আসা-যাওয়া করতে হয়, যা গাড়ির চাকার ক্ষেত্রে ঘটে না। তাই সঠিক উত্তরটি হলো i ও ii।
যখন কোনো তারকে টানা হয় তখন তার ভেতরে যে বল কাজ করে তার নাম কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো টেনশন। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায়:
- যখন আমরা কোনো তার বা দড়ির দুই প্রান্ত ধরে বিপরীত দিকে টানি, তখন তারটির অণু-পরমাণুগুলো একে অপরকে ধরে রাখার জন্য এক ধরনের অভ্যন্তরীণ টান তৈরি করে।
- পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় এই টান বা বলকেই বলা হয় টেনশন (Tension)।
- সহজ কথায়, কোনো কিছুকে টানলে তার ভেতরে যে বলটি তৈরি হয়, সেটিই হলো টেনশন।
গাণিতিক বা ভৌত বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে যদি তারের ওপর প্রযুক্ত বল $F$ হয়, তবে তারের ভেতরে উৎপন্ন এই টেনশন বলও $F$ এর সমান হয়। অর্থাৎ, টেনশন = প্রযুক্ত বল।
পাত্রের তরলের ঘনত্ব কত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো $1000 \text{ kg m}^{-3}$। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় পানির ঘনত্বের মান থেকে।
- সাধারণত আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে বিশুদ্ধ পানির ঘনত্বকে প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়।
- পানির এই ঘনত্বের মান হলো $1000 \text{ kg m}^{-3}$ বা $1 \text{ g cm}^{-3}$।
- পদার্থবিজ্ঞানের অধিকাংশ গাণিতিক সমস্যায় তরল হিসেবে পানিকে বিবেচনা করা হলে এর ঘনত্ব সবসময় $1000 \text{ kg m}^{-3}$ হিসেবেই ধরে নিতে হয়।
তাই কোনো পাত্রে তরলের ঘনত্ব নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এই মানটিই সবচেয়ে পরিচিত এবং সঠিক।
তরঙ্গটির কম্পাংক কত হার্জ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো 80। তরঙ্গ বা পর্যাবৃত্ত গতির ক্ষেত্রে কম্পাংক বের করার নিয়মটা খুব সহজ।
- প্রথমে দেখতে হবে নির্দিষ্ট সময়ে কয়টি পূর্ণ তরঙ্গ তৈরি হয়েছে।
- মোট কম্পাংক বা কম্পাঙ্কের সূত্র অনুযায়ী, প্রতি সেকেন্ডে অতিক্রান্ত পূর্ণ তরঙ্গের সংখ্যাই হলো কম্পাংক ($f$)।
- এখানে সঠিক সূত্রটি প্রয়োগ করলে সরাসরি মান চলে আসে: $f = \frac{n}{t}$।
- হিসাব করলে ফলাফল পাওয়া যায় $80\text{ Hz}$।
চিত্রে 15 cm দূরে প্রতিবিম্ব পেতে হলে বস্তুকে কত cm দূরত্বে রাখতে হবে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অসীমে। কারণ লেন্স বা দর্পণের ক্ষেত্রে বস্তুকে ফোকাস বিন্দুতে রাখলে প্রতিবিম্ব অসীমে গঠিত হয়।
- যখন কোনো বস্তুকে অবতল দর্পণ বা উত্তল লেন্সের ফোকাস দূরত্বে অর্থাৎ $F$-এ রাখা হয়, তখন প্রতিসরণ বা প্রতিফলনের পর রশ্মিগুলো সমান্তরালে চলে যায়।
- সমান্তরাল রশ্মিগুলো অসীম দূরত্বে গিয়ে মিলিত হয় বলে মনে হয়।
- তাই $15\text{ cm}$ দূরে প্রতিবিম্ব পেতে হলে বস্তুকে অসীম দূরত্বে রাখতে হবে।
বর্তনীর তুল্য রোধ কত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো 7.5 Ω। বর্তনীর তুল্য রোধ বের করার নিয়মটা খুবই সহজ। সাধারণত সার্কিটে থাকা রোধগুলো কীভাবে যুক্ত আছে (শ্রেণি না সমান্তরাল সংযোগে), তা দেখে হিসাব করতে হয়:
- প্রথমে রোধগুলোর সংযোগ ভালো করে লক্ষ্য করতে হবে।
- যদি রোধগুলো সমান্তরাল সংযোগে থাকে, তবে সূত্র ব্যবহার করতে হবে: $\frac{1}{R_p} = \frac{1}{R_1} + \frac{1}{R_2}$।
- আর যদি শ্রেণি সংযোগে থাকে, তবে সরাসরি যোগ করতে হবে: $R_s = R_1 + R_2$।
- এভাবে সব হিসাব নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করলে চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যায় $7.5\ \Omega$।
AB ও EF বস্তু দ্বয়কে নিকটে রাখা অবস্থায় – নিচের কোনটি সঠিক?
এখানে সঠিক উত্তর হলো: F প্রান্ত ভূ-সংযোগ করলে F প্রান্তের নীট আধান শূন্য হবে। কারণটা খুবই সহজ ও জ্যামিতিক:
- যখন কোনো পরিবাহীর কোনো একটি প্রান্ত মাটিতে (ভূ-সংযুক্ত) যুক্ত করা হয়, তখন পরিবাহীর সেই প্রান্তের সঙ্গে পৃথিবীর আধানের আদান-প্রদান ঘটে।
- এর ফলে ভূ-সংযুক্ত প্রান্তের তড়িৎ বিভব শূন্য হয়ে যায়।
- তড়িৎ বিভব শূন্য হওয়ার কারণে ওই প্রান্তের নীট আধান বা মোট আধান সম্পূর্ণ neutralized হয়ে শূন্য ($0$) হয়ে যায়।
নিচের কোন যন্ত্রে ট্রান্সডিউসার দেখা যায়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো আলট্রাসনোগ্রাফি।
খুব সহজ কথায়, আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিনে মূলত শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের ভেতরের অঙ্গের ছবি তোলা হয়। আর এই কাজের জন্য শব্দতরঙ্গকে তড়িৎ সংকেতে (বা উল্টোটা) রূপান্তর করতে হয়, যা ট্রান্সডিউসার নামক যন্ত্রাংশটি করে থাকে। তাই এই প্রযুক্তিতে ট্রান্সডিউসারের ব্যবহার আবশ্যক।
কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন কোন বিজ্ঞানি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম যুগান্তকারী আবিষ্কার 'কোয়ান্টাম তত্ত্ব' (Quantum Theory) ১৯০০ সালে প্রথম প্রবর্তন করেন জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক। তাঁর এই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের বিশাল দ্বার উন্মোচিত হয়।