তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে উদ্দীপকের দেশ সুরিনামে কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান?
সঠিক উত্তর হলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা। সুরিনামের শাসনব্যবস্থা বোঝার জন্য নিচের পয়েন্টগুলো খেয়াল করো:
- সুরিনামে রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকার প্রধান উভয়ই হলেন রাষ্ট্রপতি।
- এখানে শাসন বিভাগ আইন বিভাগ থেকে আলাদা এবং রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে বা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন।
- রাষ্ট্রপতি এখানে মন্ত্রিসভার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের নির্বাহী ক্ষমতার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন।
সহজ কথায়, যেখানে রাষ্ট্রপ্রধানই সরকার পরিচালনার মূল দায়িত্ব পালন করেন এবং সংসদীয় পদ্ধতির মতো প্রধানমন্ত্রীর পদ থাকে না, সেটিই হলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। সুরিনামের ক্ষেত্রে এই নিয়মটিই কার্যকর।
কোনটি এককেন্দ্রীক রাষ্ট্রের প্রকৃষ্ট উদাহরণ-
সঠিক উত্তর হলো যুক্তরাজ্য। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ এককেন্দ্রীক রাষ্ট্র বলতে এমন শাসন ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে রাষ্ট্রের সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে।
কেন যুক্তরাজ্য এককেন্দ্রীক রাষ্ট্রের উদাহরণ, তা নিচের পয়েন্টগুলো দেখলে পরিষ্কার হবে:
- ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু: যুক্তরাজ্যে কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টই হলো ক্ষমতার মূল উৎস। স্থানীয় সরকার বা আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষগুলো তাদের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকেই পেয়ে থাকে।
- আইন প্রণয়ন: এখানে কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে যেকোনো সময় স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে, যা এককেন্দ্রীক রাষ্ট্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- একক শাসন: এখানে কোনো অঙ্গরাজ্য বা প্রদেশ নেই যারা নিজস্ব সংবিধান অনুযায়ী আলাদাভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করতে পারে, বরং পুরো দেশ একটি একক প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়।
সহজ কথায়, যেখানে শাসনক্ষমতা ভাগ না হয়ে একটি মাত্র কেন্দ্রের হাতে থাকে, সেটিই এককেন্দ্রীক রাষ্ট্র—আর যুক্তরাজ্য এই ধারার সবচেয়ে আদর্শ উদাহরণ।
জনাব জহুর আলীর পরিবারটি কোন ধরনের পরিবার?
এখানে সঠিক উত্তর হলো যৌথ। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ আমাদের সমাজে যখন বাবা-মা, দাদা-দাদি, চাচা-ফুফু এবং ভাইবোন সবাই মিলে একই ছাদের নিচে বসবাস করেন, তখন সেই পরিবারকে যৌথ পরিবার বলা হয়।
- যৌথ পরিবার: যেখানে একাধিক প্রজন্মের সদস্যরা একসাথে বসবাস করেন এবং তাদের রান্নাঘর ও সম্পদ সাধারণত একই থাকে।
- সহজ চেনার উপায়: যদি কোনো পরিবারে শুধু স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সন্তানরা থাকে, তবে সেটি একক পরিবার। কিন্তু এর চেয়ে বড় পরিসরে আত্মীয়-স্বজন নিয়ে গঠিত পরিবারই হলো যৌথ পরিবার।
জনাব জহুর আলীর পরিবারে যদি এমন বড় পরিসরের সদস্য সংখ্যা এবং সম্মিলিত বসবাসের চিত্র থাকে, তবে নিঃসন্দেহে সেটি একটি যৌথ পরিবার।
২০১১ সালের আদম শুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কত ছিল?
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১.৩৭%। এই তথ্যটি আমাদের দেশের জনমিতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
- ২০১১ সালের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নির্ধারিত হয়েছিল ১.৩৭ শতাংশ।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বের করার মূল সূত্রটি হলো: $$\text{বৃদ্ধির হার} = \frac{\text{বর্তমান জনসংখ্যা} - \text{পূর্বের জনসংখ্যা}}{\text{পূর্বের জনসংখ্যা}} \times 100$$
- সেই সময়ের তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পরিসংখ্যান ব্যুরো এই হারটি নিশ্চিত করেছিল।
সহজ কথায়, ওই সময় প্রতি ১০০ জন মানুষের বিপরীতে নতুন করে ১.৩৭ জন মানুষ যুক্ত হচ্ছিল।
পাঠ্যবইয়ের আলোকে আমরা জানতে পারি যে- i. বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৫ কোটি ii. ভারতের জনসংখ্যা প্রায় ১২১ কোটি iii. ব্রুনাইয়ে প্রায় ২ লক্ষ নিচের কোনটি সঠিক?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option D: i, ii ও iii। পাঠ্যবইয়ের তথ্য অনুযায়ী এই তিনটি তথ্যই সঠিক। বিষয়টি মনে রাখার জন্য নিচের পয়েন্টগুলো খেয়াল করো:
- বাংলাদেশের জনসংখ্যা: ভৌগোলিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশের জনসংখ্যা প্রায় $15$ কোটি ধরা হয়।
- ভারতের জনসংখ্যা: বিশাল আয়তনের দেশ ভারতের জনসংখ্যা প্রায় $121$ কোটি।
- ব্রুনাইয়ের জনসংখ্যা: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছোট দেশ ব্রুনাইয়ের জনসংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম, যা প্রায় $2$ লক্ষের কাছাকাছি।
অর্থাৎ, বইয়ের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই তিনটি তথ্যই নির্ভুল, তাই সঠিক উত্তরটি হলো i, ii ও iii।
হাবিব নাগরিকতা অর্জনের কোন পদ্ধতিতে কানাডার নাগরিকতা অর্জন করেছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো জন্মস্থান নীতি। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ কানাডার মতো দেশগুলোতে নাগরিকতা পাওয়ার ক্ষেত্রে 'জন্মস্থান নীতি' (Jus Soli) অনুসরণ করা হয়।
- এই নীতি অনুযায়ী, কোনো শিশু যদি কানাডার ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করে, তবে সে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কানাডার নাগরিকত্ব লাভ করে।
- বাবা-মায়ের নাগরিকতা যা-ই হোক না কেন, জন্মস্থান কানাডা হওয়ার কারণেই শিশুটি নাগরিক হিসেবে গণ্য হয়।
- সহজ কথায়, পৃথিবীর যে দেশে জন্ম, সেই দেশের আইন অনুযায়ী নাগরিকতা পাওয়াকেই জন্মস্থান নীতি বলা হয়।
সামাজিক স্বাধীনতার উদাহরণ কোনটি?
সামাজিক স্বাধীনতার মূল কথা হলো সমাজে একজন মানুষ হিসেবে নিরাপদে ও মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার অধিকার। এখানে সঠিক উত্তর হলো জীবন রক্ষা করা, কারণ বিষয়টি খুব সহজ:
- সামাজিক স্বাধীনতার প্রধান শর্তই হলো নিজের জীবনকে নিরাপদ রাখা।
- রাষ্ট্র বা সমাজ যখন একজন নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তখনই সে অন্যান্য স্বাধীনতা ভোগ করার সুযোগ পায়।
- সহজ কথায়, বেঁচে থাকার অধিকার বা জীবন রক্ষা করার অধিকার ছাড়া অন্য কোনো স্বাধীনতারই কোনো ভিত্তি থাকে না।
তাই, নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা বিধান করা সামাজিক স্বাধীনতার সবচেয়ে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানটি কোন পদ্ধতিতে প্রণয়ন করা হয়?
সঠিক উত্তর হলো ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে। বিষয়টি আসলে বেশ সহজ। যখন কোনো দেশের সংবিধান হঠাৎ করে কোনো বিপ্লব বা আলোচনার মাধ্যমে তৈরি না হয়ে বরং দীর্ঘ সময় ধরে প্রচলিত প্রথা, রীতিনীতি এবং আদালতের রায়ের ওপর ভিত্তি করে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে, তাকেই আমরা ক্রমবিবর্তনমূলক সংবিধান বলি।
সহজ কথায় এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- এটি কোনো নির্দিষ্ট দিনে বা সভায় তৈরি হয় না।
- দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতার আলোকে এটি নিজে থেকেই বিকশিত হয়।
- এর কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত দলিল না থাকলেও এটি অত্যন্ত কার্যকর ও স্থিতিশীল।
যেমন, যুক্তরাজ্যের সংবিধান হলো এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ, যা শত শত বছর ধরে ঐতিহ্যের হাত ধরে আজকের অবস্থানে এসেছে।
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর স্তর হলো- i. বিভাগীয় প্রশাসন ii. জেলা প্রশাসন iii. উপজেলা প্রশাসন নিচের কোনটি সঠিক?
সঠিক উত্তর হলো i, ii ও iii। বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোটি মূলত একটি সুশৃঙ্খল স্তরবিন্যাস মেনে চলে, যা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সেবা পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। এর মূল স্তরগুলো হলো:
- বিভাগীয় প্রশাসন: এটি প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বোচ্চ স্তর, যার নেতৃত্বে থাকেন বিভাগীয় কমিশনার।
- জেলা প্রশাসন: বিভাগীয় প্রশাসনের ঠিক নিচেই থাকে জেলা পর্যায়, যেখানে জেলা প্রশাসক (DC) পুরো জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
- উপজেলা প্রশাসন: এটি মাঠ পর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ইউনিট, যা সরাসরি জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা নিশ্চিত করে।
অর্থাৎ, বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে এই তিনটি স্তরই একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। তাই এখানে তিনটি অপশনই সঠিক।
রাজনৈতিক দল জনমত গঠনে গ্রহণ করে- i, বিভিন্ন সভা ii. মিছিল iii. গণসংযোগের কর্মসূচি নিচের কোনটি সঠিক?
এখানে সঠিক উত্তর হলো i, ii ও iii। কারণ রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সমর্থন পাওয়ার জন্য এবং তাদের দাবিগুলো সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই তিনটি মাধ্যমই সমানভাবে ব্যবহার করে থাকে।
- বিভিন্ন সভা: জনসভা বা পথসভার মাধ্যমে দলগুলো তাদের আদর্শ ও কর্মসূচি জনগণের সামনে তুলে ধরে।
- মিছিল: মিছিলের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট দাবি বা প্রতিবাদের বিষয়টি রাজপথে জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়।
- গণসংযোগের কর্মসূচি: সরাসরি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বা বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা হয়।
সহজ কথায়, জনমত তৈরি করতে এই তিনটি পদ্ধতিই রাজনৈতিক দলের প্রচারণার মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।