কোন বাক্যের কর্তা নিরপেক্ষ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো: Option A: আকাশে চাঁদ উঠলে আড্ডা ভাঙে।
বিষয়টা খুব সহজে এভাবে বুঝতে পারো—বাক্যের ক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য যখন মূল কর্তার ওপর নির্ভর না করে অন্য একটি স্বাধীন কর্তা ব্যবহৃত হয় এবং প্রধান খণ্ডবাক্যের কর্তার সঙ্গে তার কোনো মিল থাকে না, তখন তাকে নিরপেক্ষ কর্তা বলে।
- এখানে মূল বাক্যটির ক্রিয়া হলো "ভাঙে", আর তার কর্তা হলো "আড্ডা"।
- কিন্তু ঠিক তার আগের অংশে "আকাশে চাঁদ উঠলে" পদগুচ্ছের নিজস্ব একটি কর্তা রয়েছে, যা হলো "চাঁদ"।
- এই "চাঁদ" কর্তাটি প্রধান বাক্যের কর্তা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং স্বাধীন, তাই এটি নিরপেক্ষ কর্তার চমৎকার একটি উদাহরণ।
তুচ্ছার্থক বা ঘনিষ্ঠার্থক মধ্যম পুরুষের ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞার চলিত রীতির বিভক্তি কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো – স। বিষয়টি খুব সহজেই মনে রাখতে পারো।
- বাংলা ব্যাকরণে তুচ্ছার্থক বা ঘনিষ্ঠার্থক মধ্যম পুরুষের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞায় চলিত রীতিতে ক্রিয়ার শেষে – স বিভক্তি যুক্ত হয়।
- যেমন: তুই কাজটি করস, বা তুই বাড়ি যাস।
- এভাবে একটু খেয়াল রাখলেই এই ধরনের প্রশ্নগুলোর উত্তর খুব সহজেই দেওয়া সম্ভব।
কোন ক্রিয়াটি ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞায় সম্ভাবনা বোঝাচ্ছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো চেষ্টা কর, বুঝতে পারবে।
ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞায় সম্ভাবনা বোঝাতে এই বাক্যটি ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে কাজটা ভবিষ্যতে হবে এবং তা বোঝার একটা সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে, যা অনুজ্ঞার নিয়ম অনুযায়ী ভবিষ্যতের সম্ভাবনা প্রকাশ করে।
নহ্-ধাতুর সাধারণ বর্তমান উত্তম পুরুষের চলিত রূপ কোনটি ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো নই।
খুব সহজ কথায়, 'নহ্' ধাতুর সাধারণ বর্তমান কালে উত্তম পুরুষে (আমি এর ক্ষেত্রে) সাধু ভাষায় 'নহি' ব্যবহার করা হলেও, এর আধুনিক চলিত রূপটি হলো 'নই'। যেমন—আমি এটা জানি নই।
প্রযোজক যা-ধাতুর পুরাঘটিত অতীত কালের প্রথম পুরুষের চলিত রূপ কোনটি ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো গিয়েছিল।
বিষয়টা খুব সহজ! 'যা' ধাতুর পুরাঘটিত অতীত কালের প্রথম পুরুষের রূপ নির্ণয় করার নিয়মটি নিচে দেখে নাও:
- 'যা' ধাতু সাধুীতিতে 'গম্' বা 'যা' হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং এর পুরাঘটিত অতীতে রূপ হয় 'গিয়াছিল'।
- এর চলিত রূপটি হলো 'গিয়েছিল' (যেমন: সে কাজটি আগেই করে গিয়েছিল)।
- অন্য অপশনগুলোর মধ্যে 'গেল' সাধারণ অতীত এবং 'যেত' নিত্যবৃত্ত অতীত কাল নির্দেশ করে। তাই সঠিক উত্তর অপশন D।
কোন বাক্যটিতে কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি হয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ডাক্তার ডাক।
বাক্যটিতে 'ডাক্তার' হলো কর্মকারক। কাকে ডাকবে? উত্তর—ডাক্তারকে। এখানে কর্মপদটি অপ্রাণিবাচক বা বিশেষ অর্থে নির্দেশ করায় এর সাথে কোনো অতিরিক্ত বিভক্তি যুক্ত হয়নি, তাই এটি শূন্য বিভক্তি (বা প্রথমা বিভক্তি)।
অনুসর্গ সাধারণত কোথায় বসে ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো শব্দের পরে। বিষয়টা খুব সহজভাবে মনে রাখতে পারেন, অনুসর্গগুলো (যেমন: মতো, ছাড়া, দিয়ে, কর্তrum ইত্যাদি) একা স্বাধীনভাবে বসে না। এগুলো সব সময় কোনো পদের বা শব্দের ঠিক পরেই বসে শব্দের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে দেয়। যেমন—'দেশছাড়া' বা 'তোনার মতো'। তাই অনুসর্গ মানেই মনে রাখবেন—সে সবসময় শব্দের পরেই বসবে!
অনুসর্গ কী ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অব্যয়।
খুব সহজ কথায়, অনুসর্গগুলো স্বাধীনভাবে বাক্যে বসে এবং মূলত অব্যয় পদেরই একটি বিশেষ রূপ। এরা শব্দের পরে বসে কারক বোঝাতে এবং বাক্যের অর্থ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। যেমন—'থেকে', 'হতে', 'চেয়ে', 'দ্বারা' ইত্যাদি হলো অনুসর্গ, যা ব্যাকরণের বিচারে অব্যয় পদের অন্তর্ভুক্ত।
বাক্যে এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছাকে কী বলে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো আকাঙ্ক্ষা।
একটি সার্থক বাক্য তৈরি করার জন্য মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশ পাওয়া জরুরি। যখন আমরা বাক্যের একটি পদ শোনার পর তার পরের পদ কী হবে বা আরও কিছু শোনার ইচ্ছা বা আগ্রহ বোধ করি, তখন তাকে ব্যাকরণের ভাষায় আকাঙ্ক্ষা বলা হয়। যেমন—"বাপা বাজারে গিয়ে..." বলার পর থেমে গেলে শোনার যে আগ্রহ তৈরি হয়, সেটাই মূলত আকাঙ্ক্ষা।
অসমাপিকা ক্রিয়াপদ বাক্যের কোথায় বসে ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: প্রথমে।
খুব সহজ করে মনে রাখার নিয়ম হলো, অসমাপিকা ক্রিয়া বাক্যকে সম্পূর্ণ করে না এবং এটি সাধারণত বাক্য বা বাক্যাংশের প্রথমে বা মাঝখানে বসে অন্য কোনো সমাপিকা ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। যেমন—"সূর্য উঠলেতে অন্ধকার দূর হয়।" এখানে "উঠলে" একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যা বাক্যের শুরুতেই বসেছে।