বিশেষ্য পদ কয় প্রকার ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ছয়।
বাংলা ব্যাকরণে পদ প্রধানত পাঁচ প্রকার হলেও, নামপদ বা বিশেষ্য পদকে অর্থ ও রূপের দিক থেকে প্রধানত ছয়টি ভাগে ভাগ করা হয়।
- ব্যক্তিবানি বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য
- জাতিবাচক বিশেষ্য
- বস্তু বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য
- সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
- ভাববাচক বিশেষ্য
- গুণবাচক বিশেষ্য
খুব সহজেই মনে রাখার জন্য এই ছয়টি প্রকারের নাম মাথায় রাখলেই উত্তর করা সহজ হয়ে যায়!
নিচের কোনটি গুণ-বিশেষ্য-এর উদাহরণ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সরলতা।
খুব সহজ কথায়, যে শব্দ দিয়ে কোনো কিছুর দোষ, গুণ বা অবস্থার নাম বোঝায়, তাকে গুণ-বাচক বা গুণ-বিশেষ্য বলে। 'সরলতা' শব্দটি মানুষের সরল বা ভালো গুণটিকে প্রকাশ করে, তাই এটি গুণ-বিশেষ্যের একটি সুন্দর উদাহরণ।
'তৃতীয়' কোন ধরনের বিশেষণ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো পূরণবাচক বিশেষণ।
খুব সহজ কথায়, সংখ্যা দিয়ে যখন কোনো ক্রম বা অবস্থান বোঝানো হয়, তখন তাকে পূরণবাচক শব্দ বলে। যেমন:
- এক $\rightarrow$ প্রথম
- দুই $\rightarrow$ দ্বিতীয়
- তিন $\rightarrow$ তৃতীয়
যেহেতু 'তৃতীয়' শব্দটি দিয়ে তিন নম্বরের ক্রম বা পূরণ বোঝানো হয়েছে, তাই এটি নিশ্চিতভাবেই একটি পূরণবাচক বিশেষণ।
শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম নিচের কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো তুমি।
খুব সহজেই মনে রাখার উপায় হলো সর্বনাম পদ মূলত তিন প্রকার:
- উত্তম পুরুষ: বক্তা নিজে (যেমন: আমি, আমরা)।
- মধ্যম পুরুষ: শ্রোতা বা যার সাথে কথা বলা হয় (যেমন: তুমি, তোমরা, আপনি)।
- প্রথমা/অনাম পুরুষ: যার সম্পর্কে কথা বলা হয় (যেমন: সে, তিনি)।
যেহেতু প্রশ্নটি "শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম" নিয়ে, তাই এটি মধ্যম পুরুষ হবে। আর অপশনগুলোর মধ্যে শ্রোতাকে সরাসরি বোঝাতে তুমি শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
পদ কয় প্রকার?
এখানে সঠিক উত্তর হলো আট। খুব সহজে মনে রাখার জন্য নিচের পয়েন্টগুলো দেখে নিতে পারো:
- বাংলা ব্যাকরণে পদ প্রধানত আট প্রকার।
- এগুলো হলো: বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, অব্যয়, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ, অনুসর্গ এবং যোজক।
- বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত প্রতিটি অর্থবোধক শব্দকেই এক একটি পদ বলা হয়।
কোন বাক্যটি প্রযোজক ক্রিয়া দ্বারা গঠিত ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো মা শিশুটিকে হাসান।
প্রযোজক ক্রিয়া চেনার সহজ উপায় হলো—যে ক্রিয়ায় মূল কর্তা নিজে কাজ না করে অন্যকে দিয়ে কাজটি করায়, তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
- বাক্যটিতে মা নিজে হাসছেন না, বরং শিশুকে হাসান (হাসাচ্ছেন)।
- এখানে 'মা' হলেন প্রযোজক কর্তা এবং 'শিশু' হলো প্রতক্ষ্য কর্তা।
- তাই এটি একটি প্রযোজক ক্রিয়ার চমৎকার উদাহরণ।
কোন বাক্যে অসমাপিকা ক্রিয়া আছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো: আমরা হাত-মুখ ধুয়ে বেড়াতে বের হব।
বিষয়টা খুব সহজ! যে ক্রিয়া বা কাজটি দিয়ে মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশ পায় না এবং শোনার পর আরও কিছু শোনার বা জানার ইচ্ছা থাকে, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
- বাক্যটিতে 'ধুয়ে' এবং 'বেড়াতে' শব্দ দুটি দ্বারা কাজ শেষ বোঝায়নি।
- এগুলো বাক্যটির মূল কাজ বা সমাপিকা ক্রিয়া ('বের হব') পর্যন্ত পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। তাই এখানে অসমাপিকা ক্রিয়া রয়েছে।
কোন বাক্যটি ঘটমান বর্তমানের ক্রিয়া দ্বারা গঠিত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো: এ কথা জানতে তুমি।
ক্রিয়ার যে রূপ বর্তমানে ঘটে চলেছে বা যার কাজ এখনও শেষ হয়নি, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে। 'এ কথা জানতে তুমি' বাক্যটিতে অতীত বা বর্তমানের একটি চলমান অবস্থাকে নির্দেশ করছে, যা ঘটমান বর্তমান কালের সঠিক উদাহরণ।
কোন বাক্যে পুরাঘটিত অতীত কালের ক্রিয়া আছে ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option C: সে কি গিয়েছিল?
সহজ কথায়, যে কাজ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে এবং তার ফল বা রেশ আর বর্তমান সময়ে নেই, সেটাই হলো পুরাঘটিত অতীত কাল। 'গিয়েছিল' শব্দটি দিয়ে অতীতে কাজটি সম্পূর্ণ হওয়ার কথা বোঝানো হয়েছে। তাই এটি স্পষ্টতই পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ।
কোন বাক্যে অসমান কর্তা আছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো: সে এলে আমি যাব ।
বাক্যটিতে অসমান কর্তা থাকার সহজ নিয়মটি হলো:
- জটিল বা শর্তসূচক বাক্যে যখন দুটি ভিন্ন খণ্ডবাক্যের কর্তা আলাদা হয়, তখন তাকে অসমান কর্তা বলে।
- এখানে প্রথম অংশের কর্তা হলো 'সে' (এলে) এবং দ্বিতীয় অংশের কর্তা হলো 'আমি' (যাব)।
- যেহেতু দুটি খণ্ডবাক্যের কর্তা ভিন্ন বা অসমান, তাই এটি অসমান কর্তার উদাহরণ।