উদ্দীপকের আব্দুল্লাহের কার্যক্রমে ‘বহিপীর' নাটকের বিপরীত বৈশিষ্ট্যের চরিত্রটি হলো-
সঠিক উত্তর হলো বহিপীর। এই বিষয়টি বোঝার জন্য নাটকের মূল প্রেক্ষাপটটি খেয়াল করা জরুরি:
- ‘বহিপীর’ নাটকে বহিপীর চরিত্রটি মূলত রক্ষণশীলতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং পিতৃতান্ত্রিক সমাজের শোষণের প্রতীক।
- অন্যদিকে, নাটকের অন্যান্য চরিত্র যেমন হাশেম আলি বা হাতেম আলি আধুনিক চিন্তা, মানবিকতা এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চা করে, যা বহিপীরের চরিত্রের ঠিক বিপরীত।
- যেহেতু প্রশ্নে বহিপীরের বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন চরিত্র জানতে চাওয়া হয়েছে, তাই এখানে বহিপীর নিজেই নিজের বিপরীতধর্মী আদর্শের ধারক হিসেবে চিহ্নিত হয়।
সহজ কথায়, নাটকের দ্বন্দ্বটিই তৈরি হয়েছে বহিপীরের রক্ষণশীল মতাদর্শের সাথে আধুনিক ও প্রগতিশীল চরিত্রগুলোর সংঘাতের মাধ্যমে। তাই বহিপীর চরিত্রটি নিজেই তার বিপরীত বৈশিষ্ট্যের আদর্শকে ধারণ করে।
বহিপীর নাটকের বিপরীতে কার্যক্রমে আব্দুল্লাহ চরিত্রে প্রকাশিত দিকটি হলো –
সঠিক উত্তর হলো কুসংস্কারমুক্ত। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'বহিপীর' নাটকে আব্দুল্লাহ চরিত্রটি মূলত যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল চিন্তার ধারক হিসেবে ফুটে উঠেছে।
বিষয়টি সহজভাবে বুঝতে নিচের পয়েন্টগুলো খেয়াল করুন:
- নাটকের অন্যান্য চরিত্রের মতো আব্দুল্লাহ অন্ধবিশ্বাসে বিশ্বাসী নয়।
- সে সমাজের প্রচলিত কুসংস্কার ও গোঁড়ামিকে প্রশ্রয় না দিয়ে বরং সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকে।
- তার কথাবার্তা ও আচরণে আধুনিক ও মুক্তচিন্তার প্রতিফলন ঘটে, যা তাকে নাটকের অন্যান্য চরিত্র থেকে আলাদা করে তোলে।
অর্থাৎ, আব্দুল্লাহর চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং অন্ধ বিশ্বাসের বিপরীতে তার অবস্থানই তাকে একজন কুসংস্কারমুক্ত মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করে।
‘আমরা লড়াই না করলে গ্রামটা একদিন ভূতের বাড়ি হবে'। কেন ভূতের বাড়ি হবে? i. গণহত্যার কারণে ii. লোকজন পালিয়ে যাওয়ায় iii. গ্রামটি জনশূন্য হওয়ায় কোনটি সঠিক?
সঠিক উত্তর হলো Option D: i, ii ও iii। বিষয়টি খুব সহজভাবে বুঝতে নিচের পয়েন্টগুলো খেয়াল করো:
- গণহত্যার কারণে: হানাদার বাহিনী গ্রামে প্রবেশ করে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করলে গ্রামটি তার প্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলে।
- লোকজন পালিয়ে যাওয়ায়: প্রাণ বাঁচাতে গ্রামের মানুষ যখন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গ্রাম ছেড়ে চলে যায়, তখন গ্রামটি জনশূন্য হয়ে পড়ে।
- গ্রামটি জনশূন্য হওয়ায়: মানুষ না থাকলে একটি গ্রাম তার স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে ফেলে, আর তখন সেটিকেই লেখক রূপক অর্থে 'ভূতের বাড়ি' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মূলত, এই তিনটি কারণ একে অপরের পরিপূরক। যখন কোনো গ্রামে গণহত্যা চলে, তখন ভয়ে মানুষ পালিয়ে যায় এবং গ্রামটি জনশূন্য হয়ে পড়ে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণেই গ্রামটি একসময় ভূতের বাড়িতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
যুদ্ধে শত্রুরা কখন হেরে যায়?
যুদ্ধে শত্রুরা তখনই হেরে যায় যখন সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকে। এর কারণ খুব সহজ—ঐক্য হলো যেকোনো শক্তির মূল ভিত্তি। যখন একটি দলের সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে, তখন তাদের মনোবল বহুগুণ বেড়ে যায়।
- ঐক্যবদ্ধ শক্তি: সবাই মিলে কাজ করলে শত্রুর পক্ষে সেই প্রতিরোধ ভাঙা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
- মনোবল: বিচ্ছিন্নভাবে লড়াই করলে যে কেউ দুর্বল হয়ে পড়ে, কিন্তু ঐক্যবদ্ধ থাকলে পরাজয় বরণ করা কঠিন।
- কৌশলগত সুবিধা: সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হয়, যা শত্রুকে দ্রুত কোণঠাসা করে ফেলে।
তাই আধুনিক অস্ত্র বা বিশাল সৈন্যবাহিনীর চেয়েও বড় শক্তি হলো নিজেদের মধ্যকার অটুট ঐক্য।