কোন বিষয়কে সকল প্রকৃতিবিজ্ঞানের জননী বলা হয়?
সঠিক উত্তর হলো ভূগোল ও পরিবেশ। একে সকল প্রকৃতিবিজ্ঞানের জননী বলা হয় কারণ আমাদের চারপাশের পৃথিবী, প্রকৃতি এবং পরিবেশের সাথে সম্পর্কিত যাবতীয় মৌলিক বিষয়গুলো এখান থেকেই উদ্ভূত হয়েছে।
- ভিত্তি: পৃথিবী কীভাবে কাজ করে, আবহাওয়া, জলবায়ু এবং প্রাকৃতিক সম্পদের বণ্টন—এই সবকিছুর মূল ভিত্তি হলো ভূগোল।
- সংযোগ: পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন বা জীববিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলো প্রকৃতির যে নিয়ম নিয়ে কাজ করে, সেই প্রকৃতির প্রেক্ষাপট বা মঞ্চ তৈরি করে দেয় ভূগোল।
- সহজ কথায়: পৃথিবী এবং এর পরিবেশকে না বুঝে অন্য কোনো প্রকৃতিবিজ্ঞান চর্চা করা সম্ভব নয়, তাই একে সব বিজ্ঞানের সূতিকাগার বা জননী হিসেবে গণ্য করা হয়।
আহ্নিক গতির ফলে- i. পৃথিবীতে দিবারাত্রি সংঘটিত হয় ii. ঋতু পরিবর্তন হয় iii. তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি হয় নিচের কোনটি সঠিক?
সঠিক উত্তর হলো i ও iii। বিষয়টি খুব সহজভাবে এভাবে বোঝা যায়:
- দিবারাত্রি সংঘটিত হওয়া: পৃথিবী তার নিজ অক্ষের ওপর অনবরত লাটিমের মতো ঘুরছে। এই আহ্নিক গতির কারণেই পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের সামনে আসে সেখানে দিন হয় এবং বিপরীত দিকে রাত হয়।
- তাপমাত্রার তারতম্য: আহ্নিক গতির ফলে দিন ও রাতের সৃষ্টি হয়। দিনের বেলা সূর্যের আলোয় ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয় এবং রাতে তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়। এই চক্রাকার পরিবর্তনের কারণেই প্রতিদিনের তাপমাত্রায় তারতম্য দেখা দেয়।
উল্লেখ্য যে, ঋতু পরিবর্তন আহ্নিক গতির কারণে হয় না; এটি মূলত পৃথিবীর বার্ষিক গতি এবং অক্ষের হেলানো অবস্থানের কারণে ঘটে থাকে। তাই এখানে সঠিক উত্তরটি হলো i ও iii।
কোন গ্রহের ২৭ টি উপগ্রহ আছে?
সঠিক উত্তর হলো ইউরেনাস। আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে ইউরেনাস বেশ রহস্যময় এবং এর উপগ্রহের সংখ্যা নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে এটি বেশ সুনির্দিষ্ট।
- ইউরেনাসের মোট উপগ্রহের সংখ্যা হলো ২৭টি।
- এর প্রধান পাঁচটি বড় উপগ্রহ হলো মিরান্ডা, অ্যারিয়েল, আম্ব্রিয়েল, টাইটানিয়া এবং ওবেরন।
- সহজভাবে মনে রাখার জন্য, ইউরেনাসকে মনে রাখতে পারেন এর ২৭টি উপগ্রহের তালিকার মাধ্যমে, যা একে অন্যান্য গ্যাসীয় দানব গ্রহ থেকে আলাদা করে।
GPS কীসের সাহায্যে ভূ-উপগ্রহ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে?
সঠিক উত্তর হলো রিসিভার। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ জিপিএস (GPS) প্রযুক্তি মূলত সিগন্যাল আদান-প্রদানের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- ভূ-উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট থেকে প্রতিনিয়ত রেডিও সিগন্যাল পাঠানো হয়।
- আমাদের স্মার্টফোন বা জিপিএস ডিভাইসে থাকা রিসিভার সেই সিগন্যালগুলো গ্রহণ করে।
- এই সিগন্যাল প্রসেস করেই রিসিভারটি আমাদের সঠিক অবস্থান বা লোকেশন নির্ণয় করতে পারে।
সহজ কথায়, স্যাটেলাইট হলো তথ্যের উৎস আর রিসিভার হলো সেই তথ্য গ্রহণকারী যন্ত্র, যা ছাড়া জিপিএস কাজ করা অসম্ভব।
তার ভ্রমণকৃত অঞ্চলটির ভূমিরূপ কেমন?
সঠিক উত্তর হলো পাদদেশীয় পলল সমভূমি। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় যদি আমরা ভৌগোলিক অবস্থানটা খেয়াল করি:
- পাহাড় বা পর্বত থেকে যখন নদী সমভূমিতে নেমে আসে, তখন তার গতিবেগ হঠাৎ কমে যায়।
- এই পরিবর্তনের ফলে পাহাড়ের পাদদেশে নদী তার সাথে বয়ে আনা পলি, বালি ও পাথর জমা করতে শুরু করে।
- এই সঞ্চয় থেকেই তৈরি হয় সুবিস্তৃত পাদদেশীয় পলল সমভূমি।
সহজ কথায়, পাহাড়ের ঠিক নিচেই সমতল ভূমিতে পলি জমে যে বিস্তীর্ণ এলাকা তৈরি হয়, সেটিই হলো পাদদেশীয় পলল সমভূমি।
কোন সম্পর্কটিকে কাম্য জনসংখ্যা বলা হয় ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো মানুষ ও ভূমির ভারসাম্য। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায়:
- কাম্য জনসংখ্যা বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায়, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদের সাথে জনসংখ্যার একটি নিখুঁত সামঞ্জস্য থাকে।
- সহজ কথায়, যখন কোনো দেশের মোট সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যা এমন পর্যায়ে থাকে যে মাথাপিছু উৎপাদন সর্বোচ্চ হয় এবং জীবনযাত্রার মান সবচেয়ে ভালো থাকে, তখনই তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে।
- এই ভারসাম্য মূলত ওই অঞ্চলের ভূমি বা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হয়, কারণ ভূমিই হলো উৎপাদনের প্রধান উৎস।
জনসংখ্যা বন্টনের কোনটি অপ্রাকৃতিক প্রভাবক ?
জনসংখ্যা বন্টনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক প্রভাবকটি হলো অপ্রাকৃতিক। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায়:
- প্রাকৃতিক প্রভাবকগুলো মূলত প্রকৃতি প্রদত্ত, যেমন: মৃত্তিকা, পানি বা খনিজ সম্পদ, যা মানুষ নিজে তৈরি করতে পারে না।
- অন্যদিকে, অর্থনৈতিক প্রভাবক যেমন—শিল্পায়ন, নগরায়ন বা কর্মসংস্থানের সুযোগ—এগুলো মানুষ তার প্রয়োজনে তৈরি করে নেয়।
- যেহেতু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মানুষের তৈরি এবং এটি প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল নয়, তাই একে অপ্রাকৃতিক বা মানবিক প্রভাবক বলা হয়।
সাদিয়ার এলাকাটির প্রকৃতি কিরূপ ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সমভূমি। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় যদি আমরা ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যগুলো খেয়াল করি। সাধারণত যে অঞ্চলে মাটি সমতল, কৃষি কাজের জন্য উপযোগী এবং জনবসতি ঘন হয়, তাকেই আমরা সমভূমি অঞ্চল বলি।
- ভৌগোলিক অবস্থান: সমভূমি অঞ্চল সাধারণত নদী বিধৌত পলিমাটি দিয়ে গঠিত হয়, যা অত্যন্ত উর্বর।
- সহজ বৈশিষ্ট্য: এই অঞ্চলে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত থাকে এবং সমতল ভূমির কারণে ঘরবাড়ি বা স্থাপনা তৈরি করা খুব সহজ হয়।
- উপযোগিতা: সাদিয়ার এলাকার প্রকৃতি যদি কৃষি ও বসতির জন্য আদর্শ হয়, তবে সেটি নিশ্চিতভাবেই সমভূমি অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য বহন করে।
এই ধরনের শিল্পের অবস্থান হয়ে থাকে- i. শহরের পাশে ii. শহরের কাছাকাছি iii. শহরের ভিতর নিচের কোনটি সঠিক?
সঠিক উত্তর হলো i ও ii। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ শিল্পকারখানা সাধারণত এমন জায়গায় স্থাপন করা হয় যেখানে যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো থাকে কিন্তু শহরের মূল জনবহুল এলাকার কোলাহল বা জায়গার অভাব থাকে না।
- শহরের পাশে: শিল্পকারখানার জন্য প্রচুর জায়গার প্রয়োজন হয়, যা শহরের পাশে সহজেই পাওয়া যায়।
- শহরের কাছাকাছি: কাঁচামাল আনা-নেওয়া এবং উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছানোর জন্য শহরের কাছাকাছি অবস্থান করাটা ব্যবসায়িক দিক থেকে সবচেয়ে সুবিধাজনক।
শহরের একদম ভেতরে শিল্পকারখানা স্থাপন করলে পরিবেশ দূষণ এবং যানজটের মতো বড় সমস্যা তৈরি হয়, তাই সাধারণত শিল্প এলাকা শহরের মূল কেন্দ্রের বাইরেই গড়ে ওঠে।
বাংলাদেশ নদী ভরাটের কারণ- i. পানিতে মিশ্রিত মাটির অবক্ষেপ i নদীর উজানে বনভূমি ধ্বংস iii. নদীর ধারে পরিকল্পিত বাধঁ নির্মাণ নিচের কোনটি সঠিক?
এখানে সঠিক উত্তর হলো i ও ii। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় এভাবে:
- পানিতে মিশ্রিত মাটির অবক্ষেপ: পাহাড়ি ঢল বা স্রোতের সাথে প্রচুর পলি ও মাটি নদীতে এসে জমা হয়। এই পলি নদীর তলদেশে জমে নদী ভরাট করে ফেলে, যা নদী ভরাট হওয়ার একটি প্রধান প্রাকৃতিক কারণ।
- নদীর উজানে বনভূমি ধ্বংস: উজানে গাছপালা না থাকলে বৃষ্টির পানি সরাসরি মাটি ধুয়ে নদীতে নিয়ে আসে। ফলে নদীর তলদেশ দ্রুত ভরাট হয়ে যায়।
অন্যদিকে, নদীর ধারে পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ নদী ভরাটের কারণ নয়, বরং এটি নদীকে নির্দিষ্ট সীমানায় রাখতে এবং ভাঙন রোধে সহায়তা করে। তাই সঠিক উত্তরটি হলো i ও ii।