ট্যাপেটামের কাজ কি?
উদ্ভিদের পরাগধানীর ভেতরে থাকা ট্যাপেটাম হলো এক ধরণের বিশেষ কোষস্তর। এর মূল কাজ হলো বিকাশমান পরাগরেণুকে প্রয়োজনীয় খাদ্য বা পুষ্টি সরবরাহ করা। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখতে পারো:
- পরাগরেণু যখন তৈরি হয়, তখন তার দ্রুত বৃদ্ধির জন্য প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়।
- ট্যাপেটাম স্তরটি ঠিক সেই কাজটিই করে—এটি পরাগরেণুর চারপাশ থেকে পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে তাদের পূর্ণাঙ্গ হতে সাহায্য করে।
- সহজ কথায়, ট্যাপেটাম হলো পরাগরেণুর জন্য একটি 'পুষ্টির ভাণ্ডার'।
তাই সঠিক উত্তর হলো পুষ্টি যোগানো।
সিমবায়োটিক নাইট্রেপাজেন সংবন্ধনে লেগহিমোগ্লোবিল কোন ভূমিকা পালন করে?
কোনটি প্রয়োজনে টেরিডোফাইটগুলো সংকীর্ণ ভৌগলিক অঞ্চলে সীমাবদ্ধ?
টেরিডোফাইট বা ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদের প্রজনন প্রক্রিয়ার দিকে তাকালেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। এদের জীবনচক্র সম্পন্ন করার জন্য পানির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এর কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- টেরিডোফাইটের শুক্রাণুগুলো ফ্লাজেলাযুক্ত এবং সচল, তাই ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছানোর জন্য এদের অবশ্যই পানি বা জলীয় মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- পানির উপস্থিতি ছাড়া এদের নিষেক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়।
- যেহেতু প্রজননের জন্য এদের পানির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হয়, তাই যেখানে পানির সহজলভ্যতা কম, সেখানে এরা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না।
এ কারণেই টেরিডোফাইটগুলো সাধারণত আর্দ্র ও ছায়াময় স্থানে জন্মে এবং ভৌগোলিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে।
Polyembryony দেখা যায়-
সঠিক উত্তর হলো ক ও খ, অর্থাৎ সাইট্রাস বা লেবুজাতীয় ফল এবং জিমনোস্পার্ম উভয় ক্ষেত্রেই পলিএমব্রায়োনি বা বহুভ্রূণতা দেখা যায়। বিষয়টি খুব সহজভাবে এভাবে মনে রাখতে পারো:
- সাইট্রাস ফল: লেবু বা কমলার বীজের ভেতরে অনেক সময় একাধিক ভ্রূণ তৈরি হয়, যা পলিএমব্রায়োনির একটি চমৎকার উদাহরণ।
- জিমনোস্পার্ম: নগ্নবীজী উদ্ভিদের ক্ষেত্রেও একই বীজের ভেতর একাধিক ভ্রূণ গঠনের প্রবণতা দেখা যায়।
সহজ কথায়, যখন একটি মাত্র নিষিক্ত ডিম্বাণু বা ভ্রূণথলি থেকে একাধিক ভ্রূণ সৃষ্টি হয়, তাকেই আমরা পলিএমব্রায়োনি বলি। যেহেতু এই বৈশিষ্ট্যটি উল্লিখিত দুটি উদ্ভিদ গোত্রেই বিদ্যমান, তাই সঠিক উত্তরটি হবে ক ও খ।
কোষ বিভাজনের সময়ে কোষ প্লেট তৈরীতে সাহায্য করে কোন অঙ্গানু?
সঠিক উত্তর হলো গলগি বডি। উদ্ভিদ কোষ বিভাজনের সময় কোষ প্লেট তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ চমৎকার। এর পেছনের মূল কারণগুলো হলো:
- উদ্ভিদ কোষ বিভাজনের সময় সাইটোকাইনেসিস পর্যায়ে গলগি বডি থেকে আসা ছোট ছোট ভেসিকলগুলো কোষের মাঝখানে জমা হয়।
- এই ভেসিকলগুলোতে থাকা পেকটিন এবং অন্যান্য উপাদানগুলো মিলে একটি পর্দা তৈরি করে, যাকে আমরা কোষ প্লেট বলি।
- পরবর্তীতে এই কোষ প্লেট থেকেই কোষ প্রাচীর তৈরি হয়, যা একটি কোষকে দুটি আলাদা কোষে বিভক্ত করে ফেলে।
সহজ কথায়, গলগি বডি এখানে কোষের মাঝখানে দেয়াল তৈরির কাঁচামাল সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করে।
মূলের ত্বককে কি বলে?
মূলের ত্বককে এপিব্লেমা বলা হয়। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- উদ্ভিদের কাণ্ড বা পাতার বাইরের আবরণকে আমরা সাধারণ ভাষায় এপিডার্মিস বলি।
- কিন্তু মূলের ক্ষেত্রে এই বাইরের এককোষী স্তরটিকে বিশেষ নামে ডাকা হয়, যা হলো এপিব্লেমা।
- এটি মূলের একদম বাইরের পাতলা স্তর, যা মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণে সাহায্য করে।
সহজ কথায়, মূলের বাইরের আবরণ দেখলেই চোখ বন্ধ করে এপিব্লেমা দাগিয়ে দেবেন!
কোন উদ্ভিদে CAM প্রক্রিয়া দেখা যায়?
সঠিক উত্তর হলো পাথরকুচি। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ পাথরকুচি হলো একটি রসালো বা সাকুলেন্ট (Succulent) জাতীয় উদ্ভিদ।
কেন পাথরকুচিতে CAM প্রক্রিয়া দেখা যায়, তার মূল কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- CAM (Crassulacean Acid Metabolism) প্রক্রিয়া মূলত সেইসব উদ্ভিদে ঘটে যারা শুষ্ক বা মরু অঞ্চলে বাস করে।
- পাথরকুচি দিনের বেলা প্রখর রোদে পানি বাষ্পীভবন রোধ করার জন্য তাদের পত্ররন্ধ্র বন্ধ রাখে।
- এরা রাতের বেলা পত্ররন্ধ্র খুলে বাতাস থেকে $CO_2$ গ্রহণ করে এবং তা ম্যালিক অ্যাসিড হিসেবে জমা রাখে।
- দিনের বেলা সেই জমা রাখা অ্যাসিড থেকে $CO_2$ মুক্ত করে সালোকসংশ্লেষণ সম্পন্ন করে।
সহজ কথায়, পানির অপচয় কমানোর জন্য পাথরকুচি এই বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে, যা উদ্ভিদবিজ্ঞানে CAM চক্র নামে পরিচিত।
মাইক্রোস্পোরোজেনেসিস কোথায় ঘটে?
সঠিক উত্তর হলো অ্যানথার। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায়:
- উদ্ভিদের প্রজনন প্রক্রিয়ায় মাইক্রোস্পোর বা পরাগরেণু তৈরির প্রক্রিয়াকেই বলা হয় মাইক্রোস্পোরোজেনেসিস।
- পরাগরেণু মূলত ফুলের পুংস্তবকের পরাগধানী বা অ্যানথার-এর ভেতরে উৎপন্ন হয়।
- অ্যানথারের ভেতরে থাকা মাইক্রোস্পোর মাদার সেল বা পরাগ মাতৃকোষগুলো মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে মাইক্রোস্পোর তৈরি করে।
তাই মাইক্রোস্পোরোজেনেসিস ঘটার প্রধান স্থান হলো অ্যানথার।