'বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার, ঐ হল পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।' -এই উদ্ধৃতাংশটি কোন কবির রচনা?
সঠিক উত্তর হলো কাজী নজরুল ইসলাম।
এই বিখ্যাত পঙক্তিটি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা। তাঁর বিদ্রোহী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবিতায় প্রায়ই এমন শক্তিশালী শব্দচয়ন ও ছন্দের ব্যবহার দেখা যায়। এই উদ্ধৃতাংশটি মূলত কবির গভীর জীবনবোধ এবং সত্যের পথে অবিচল থাকার সাহসিকতাকে ফুটিয়ে তোলে। নজরুল তাঁর লেখনীতে সবসময়ই অন্যায় ও ভয়ের বিরুদ্ধে মানুষকে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন, যা এই লাইনগুলোতেও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
জসীমউদ্দীনের ‘কবর’ কবিতা কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত ‘কবর’ কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল কল্লোল পত্রিকায়। এটি ১৯২৫ সালের কথা, যখন কবিতাটি এই পত্রিকায় ছাপা হওয়ার পর থেকেই কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য মহলে ব্যাপক পরিচিতি পান।
সহজভাবে মনে রাখার জন্য:
- সময়কাল: ১৯২৫ সাল।
- পত্রিকা: কল্লোল।
- গুরুত্ব: এই কবিতাটি প্রকাশের মাধ্যমেই পল্লীকবি জসীমউদ্দীন বাংলা সাহিত্যে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেন।
জসীমউদ্দীনের ‘কবর’ কবিতার দাদু শাপলার হাটে কি বিক্রি করতেন?
জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত ‘কবর’ কবিতায় দাদু তার নাতিকে নিজের জীবনের গল্প শোনাতে গিয়ে বলেছিলেন, তিনি শাপলার হাটে তরমুজ বিক্রি করতেন।
কবিতার সেই অংশটি মনে রাখলে বিষয়টি একদম পরিষ্কার:
- দাদু শাপলার হাটে তরমুজ বিক্রি করে সংসার চালাতেন।
- কবিতার বর্ণনা অনুযায়ী, সেই তরমুজ বিক্রির টাকা দিয়েই তিনি তার জীবনের নানা প্রয়োজন মেটাতেন।
তাই এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো তরমুজ।
'কবর' কবিতাটির রচয়িতা কে?
সঠিক উত্তর হলো জসীমউদ্দীন।
পল্লিকবি জসীমউদ্দীন তাঁর অসাধারণ লেখনীর মাধ্যমে গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের জীবন ও আবেগকে ফুটিয়ে তুলেছেন। 'কবর' কবিতাটি তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী'-এর অন্তর্ভুক্ত। এই কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি সৃষ্টি, যেখানে একজন বৃদ্ধ দাদুর তার পরিবারের সদস্যদের হারানোর করুণ ও মর্মস্পর্শী কাহিনী ফুটে উঠেছে।
- কবি: জসীমউদ্দীন
- কাব্যগ্রন্থ: রাখালী
- মূল বৈশিষ্ট্য: গ্রামবাংলার শোকাবহ ও বাস্তব চিত্রায়ন
'আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও'- পংক্তিটি কোন কবির লেখা?
এখানে সঠিক উত্তর হলো জসীমউদ্দীন।
বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ। জসীমউদ্দীনকে আমরা মূলত 'পল্লীকবি' হিসেবে চিনি। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'নকশী কাঁথার মাঠ'-এর অন্তর্গত 'আসমানী' কবিতাটি গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে লেখা। এই কবিতার প্রথম লাইনটি হলো:
- 'আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও, রহিমুদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।'
তাই যখনই 'আসমানী' বা গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কথা আসবে, চোখ বন্ধ করে জসীমউদ্দীনের নাম মনে রাখলেই চলবে!
আহসান হাবীবের কোন কবিতাগুলো পাঠককে সহজেই আকৃষ্ট করে?
আহসান হাবীবের কবিতাগুলো পাঠককে সহজেই আকৃষ্ট করার মূল কারণ হলো তার ব্যঙ্গাত্মক কবিতা। তিনি তার কবিতায় সমাজের অসঙ্গতি, ভণ্ডামি এবং মানুষের চারিত্রিক দুর্বলতাগুলোকে খুব সূক্ষ্ম ও তীক্ষ্ণ রসবোধের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।
- তার ব্যঙ্গাত্মক রচনার ভঙ্গিটি সরাসরি আক্রমণাত্মক না হয়ে বরং বেশ বুদ্ধিদীপ্ত ও মার্জিত।
- সমাজের অসংগতিগুলো যখন কবিতার ছন্দে ব্যঙ্গ আকারে উঠে আসে, তখন তা পাঠকের মনে গভীর দাগ কাটে এবং সহজেই তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে।
- সহজ-সরল শব্দের আড়ালে গভীর জীবনবোধ ও শ্লেষ মিশিয়ে তিনি পাঠককে ভাবতে বাধ্য করেন, যা তার কবিতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
“কবিতায় আর কি লিখব? যখন বুকের রক্তে লিখেছি একটি নাম বাংলাদেশ।” উল্লেখিত কবিতাংশটি কোন কবিতার অংশ?
সঠিক উত্তর হলো শহীদ স্মরণে। এই বিখ্যাত পঙ্ক্তিটি কবি রফিক আজাদ-এর লেখা ‘শহীদ স্মরণে’ কবিতার অংশ।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- কবিতাটির মূল ভাব হলো ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা।
- যেখানে কবি বলছেন, বুকের রক্ত দিয়ে লেখা সেই নামটিই হলো আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ।
- এই আবেগঘন পঙ্ক্তিটি মূলত ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে রচিত, তাই এটি ‘শহীদ স্মরণে’ কবিতার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
'মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে' -এই চরণটি কার লেখা?
'মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে'—এই বিখ্যাত চরণটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। এটি তাঁর 'প্রাণ' নামক কবিতার একটি অত্যন্ত পরিচিত লাইন।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- কবিতাটির নাম: প্রাণ।
- মূলভাব: কবি এই সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আকুলতা প্রকাশ করেছেন।
- রচয়িতা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকৃতিপ্রেম এবং জীবনবোধের গভীরতা এই লাইনটিতে দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। তাই যখনই এই লাইনটি দেখবেন, চোখ বন্ধ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে মনে করতে পারেন!
‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য; তার চেয়ে বেশী সত্য আমরা বাঙালি’- উক্তিটি করেন-
সঠিক উত্তর হলো ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
এই বিখ্যাত উক্তিটির পেছনের মূল বিষয়টি হলো অসাম্প্রদায়িক চেতনা। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করতেন, ধর্মের চেয়েও বড় পরিচয় হলো আমাদের জাতিসত্তা। তিনি ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে এই কথাটি বলেছিলেন।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- মূল দর্শন: তিনি ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে বাঙালি পরিচয়কে ধর্মের চেয়েও উর্ধ্বে স্থান দিয়েছিলেন।
- প্রেক্ষাপট: তৎকালীন সময়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে তার এই অসাম্প্রদায়িক চিন্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
‘সমবেত সকলের মতো আমি গোলাপ ফুল খুব ভালবাসি, রেসকোর্স পার হয়ে যেতে সেই সব গোলাপের একটি গোলাপ গতকাল আমাকে বলেছে, আমিযেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।’ উদ্ধৃতটি কোন কবির কবিতাংশ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো নির্মলেন্দু গুণ। এই বিখ্যাত পঙক্তিগুলো তাঁর কালজয়ী কবিতা 'স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' থেকে নেওয়া হয়েছে।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- কবিতাটি মূলত ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের প্রেক্ষাপটে লেখা।
- নির্মলেন্দু গুণ তাঁর এই কবিতায় খুব চমৎকারভাবে রেসকোর্স ময়দান, গোলাপ ফুল এবং শেখ মুজিবের কথাকে একসূত্রে গেঁথেছেন।
- বাংলা সাহিত্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী কবিতাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
তাই যখনই রেসকোর্স ময়দান আর গোলাপ ফুলের মাধ্যমে শেখ মুজিবের কথা বলার প্রসঙ্গ আসবে, চোখ বন্ধ করে ধরে নেবেন এটি নির্মলেন্দু গুণ-এর লেখা।