সৈয়দ শামসুল হকের কোন গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টি ফুটে উঠেছে?
সৈয়দ শামসুল হকের নীল দংশন উপন্যাসটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা একটি অসাধারণ সৃষ্টি। এই উপন্যাসটি কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা খুব সহজে বুঝে নেওয়া যাক:
- উপন্যাসটির মূল উপজীব্য হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সেই সময়ের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
- লেখক এখানে তৎকালীন সমাজের সংকট এবং যুদ্ধের ভয়াবহতাকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
- গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ও ঘটনার বুনন এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যা পাঠককে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়।
সহজ কথায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাস্তবতাকে ধারণ করার কারণেই নীল দংশন সৈয়দ শামসুল হকের অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে পরিচিত।
"এ জগতে হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি। রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি"- চরণদ্বয় রবীন্দ্রনাথের কোন কবিতার অংশ-
এখানে সঠিক উত্তর হলো দুই বিঘা জমি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বিখ্যাত কবিতাটি মূলত সমাজের বিত্তবানদের লোভ এবং গরিবের প্রতি তাদের নিষ্ঠুরতার এক অনন্য দলিল।
কবিতাটির মূল প্রেক্ষাপট ও কারণগুলো খুব সহজ:
- উপেন নামের এক দরিদ্র কৃষকের শেষ সম্বল ছিল তার দুই বিঘা জমি।
- জমিদারের লোভের কারণে সেই সামান্য জমিও সে হারায়, যা এই কবিতার মূল উপজীব্য।
- উদ্ধৃত চরণ দুটি দিয়ে কবি সমাজের সেই চিরন্তন সত্যটিই তুলে ধরেছেন যে, যাদের অনেক কিছু আছে, তারাই আরও বেশি পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এবং গরিবের সামান্য সম্পদটুকুও কেড়ে নিতে দ্বিধা করে না।
তাই সাহিত্যের পরীক্ষায় এই লাইনগুলো দেখলে চোখ বন্ধ করে দুই বিঘা জমি দাগিয়ে দিতে পারেন!
বদ্ধদেব বসু কর্তৃক প্রকাশিত 'কবিতা' একটি--
সঠিক উত্তর হলো পত্রিকা। বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদনায় ১৯৩৫ সালে এই বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
বিষয়টি মনে রাখার সহজ উপায়:
- কবিতা নামটি শুনলে মনে হতে পারে এটি কোনো কাব্যগ্রন্থ, কিন্তু আসলে এটি ছিল বাংলা সাহিত্যের আধুনিক ধারার একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী সাহিত্য পত্রিকা।
- এই পত্রিকার মাধ্যমেই আধুনিক বাংলা কবিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছিল এবং অনেক নতুন কবি পরিচিতি পেয়েছিলেন।
- দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত প্রকাশিত হওয়ার কারণে এটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে পরিচিত।
বাংলায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রথম অনুবাদক-
বাংলা সাহিত্যে টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রথম অনুবাদক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বিষয়টি মনে রাখা বেশ সহজ:
- টি.এস. এলিয়টের বিখ্যাত কবিতা 'দ্য জার্নি অফ দ্য ম্যাজাই' (The Journey of the Magi) এর ভাবানুবাদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর করেছিলেন।
- কবিতাটির নাম তিনি দিয়েছিলেন 'তীর্থযাত্রী'।
- রবীন্দ্রনাথের এই অনুবাদটি ১৯৩০ সালে 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল, যা বাংলা সাহিত্যে এলিয়টের কবিতার প্রথম পরিচিতি হিসেবে গণ্য করা হয়।
তাই সরাসরি মনে রাখবেন, এলিয়টের কবিতার প্রথম বাংলা অনুবাদক হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই অগ্রগণ্য।
নিচের কোনটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত কবিতার নাম?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ছবি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ 'পূরবী'-এর অন্তর্ভুক্ত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কালজয়ী কবিতার নাম হলো 'ছবি'।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ এবং কবিতার নাম মনে রাখার জন্য তাঁর বিখ্যাত বইগুলোর সূচিপত্র এক নজর দেখে নেওয়া ভালো।
- 'ছবি' কবিতাটি মূলত মানুষের মনের গভীর অনুভূতির এক চমৎকার প্রকাশ, যা পাঠকমহলে বেশ সমাদৃত।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ কবিতায়কবির উপলব্ধি হচ্ছে-
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ কবিতায় কবির মূল উপলব্ধি হলো ভবিষ্যৎ বিচিত্র ও বিপুল সম্ভাবনাময়। এর কারণ হলো:
- কবিতাটিতে কবি তার মনের জড়তা কাটিয়ে নতুন এক জীবনের জয়গান গেয়েছেন।
- দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আবেগ ও সৃজনশীলতা যেন একটি ঝরনার মতো বাধা ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইছে।
- কবি অনুভব করেছেন যে, সামনের দিনগুলো কেবল গণ্ডিবদ্ধ নয়, বরং তা অসীম এবং নতুন নতুন সম্ভাবনায় ভরপুর।
- এই উপলব্ধির মাধ্যমেই কবি তার ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাকে অবারিত পৃথিবীর বিশালতায় ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন।
সহজ কথায়, কবি এখানে সংকীর্ণতাকে পেছনে ফেলে অজানাকে জানার এবং অসীমকে পাওয়ার যে আনন্দ, তা-ই ফুটিয়ে তুলেছেন। তাই ভবিষ্যৎ তার কাছে অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ও সম্ভাবনাময় মনে হয়েছে।
শেষের কবিতা কি? কে লেখেন? ‘শেষের কবিতা’ একটি-, ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো উপন্যাস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নাম শুনে অনেকেই এটাকে কবিতা মনে করে ভুল করেন, কিন্তু এটি আসলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- ধরণ: এটি একটি আধুনিক ঘরানার রোমান্টিক উপন্যাস।
- লেখক: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯২৮ সালে এটি রচনা করেন।
- মনে রাখার কৌশল: নামের শেষে 'কবিতা' থাকলেও এটি মূলত অমিত ও লাবণ্যের প্রেমের গল্প নিয়ে লেখা একটি কালজয়ী উপন্যাস।
বঙ্গী মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায় ১৩২৬ বঙ্গাব্দে কাজী নজরুল ইসলামের প্রতশ প্রকাশিত কবিতার নাম-
সঠিক উত্তর হলো মুক্তি।
বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ। কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যিক জীবনের শুরুর দিকে তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখি করতেন। সেই ধারাবাহিকতায়:
- ১৩২৬ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকা'-তে নজরুলের প্রথম প্রকাশিত কবিতা ছিল মুক্তি।
- এটিই ছিল তাঁর মুদ্রিত প্রথম বাংলা কবিতা, যা তাঁর সাহিত্যিক যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
পরীক্ষার জন্য এই তথ্যটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রায়ই তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা বা প্রবন্ধ নিয়ে প্রশ্ন আসে। তাই সাল এবং পত্রিকার নামসহ কবিতাটি মনে রাখলে খুব সহজেই উত্তর দেওয়া সম্ভব।
কাজী নজরুল ইসলামের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
সঠিক উত্তর হলো সর্বহারা। কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ কবিতাটি তাঁর সর্বহারা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন:
- এই কবিতাটি মূলত দেশের মুক্তিপাগল মানুষের জাগরণের গান।
- নজরুল তাঁর সর্বহারা কাব্যগ্রন্থে সাধারণ মানুষের অধিকার ও মুক্তির কথা তুলে ধরেছেন, যার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো এই কবিতাটি।
- পরীক্ষায় মনে রাখার জন্য ‘কাণ্ডারী’ বা ‘পথপ্রদর্শক’ শব্দটিকে ‘সর্বহারা’ মানুষের মুক্তির সাথে মিলিয়ে নিতে পারেন।
বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিায় ১৩২৬ বঙ্গাব্দে কাজী নজরুল ইসলামের প্রতম প্রকাশিত কবিতার নাম-
সঠিক উত্তর হলো মুক্তি। কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যিক জীবনের শুরুর দিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলো এই কবিতাটি।
বিষয়টি মনে রাখার সহজ উপায়:
- কাজী নজরুল ইসলাম যখন সাহিত্য জগতে নিজের পদচিহ্ন রাখছিলেন, তখন ১৩২৬ বঙ্গাব্দে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকা-তে তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা হিসেবে মুক্তি ছাপা হয়।
- অনেকে ভুল করে তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত কবিতার কথা ভাবেন, কিন্তু নজরুলের প্রথম মুদ্রিত কবিতা হিসেবে মুক্তি-ই ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত।
তাই পরীক্ষার খাতায় বা কুইজে এই প্রশ্নটি দেখলে সরাসরি মুক্তি অপশনটি বেছে নেবেন।