নিচের কোনটি চোখের একমাত্র আলোকসংবেদী অংশ?
সঠিক উত্তর হলো রেটিনা। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় এভাবে:
- আমাদের চোখের ভেতরে থাকা রেটিনা হলো একটি পর্দার মতো অংশ, যেখানে বাইরের বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।
- এই রেটিনাতেই থাকে বিশেষ ধরনের আলোকসংবেদী কোষ (রড ও কোণ কোষ), যা আলোর উদ্দীপনাকে গ্রহণ করে স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠিয়ে দেয়।
- সহজ কথায়, রেটিনা ছাড়া আমরা কোনো কিছু দেখতেই পেতাম না, কারণ এটিই চোখের একমাত্র অংশ যা আলোকে সংকেতে রূপান্তর করতে পারে।
বাংলাদেশের লোকশিল্প জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সোনারগাঁয়ে।
বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাচীন হস্তশিল্পের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং লোকশিল্পকে সংরক্ষণ করতে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোকশিল্প জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটি আমাদের শিল্প-সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন।
সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার বলা হয় কোন জেলাকে?
সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার বলা হয় বাগেরহাট জেলাকে। এর কারণ হলো, সুন্দরবনের একটি বিশাল অংশ বাগেরহাট জেলার শরণখোলা ও মোংলা উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত।
- বাগেরহাটের মোংলা বন্দর এবং সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রটি পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় রুট।
- ভৌগোলিক অবস্থান এবং সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রবেশের প্রধান পথ হিসেবে বাগেরহাটকেই ঐতিহাসিকভাবে প্রবেশদ্বার হিসেবে গণ্য করা হয়।
ইউনেস্কো কবে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসাবে ঘোষণা করে?
সঠিক উত্তর হলো ৬ই ডিসেম্বর ১৯৯৭। সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য বা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পেছনের গল্পটা বেশ সহজ:
- ইউনেস্কো সুন্দরবনের অনন্য জীববৈচিত্র্য এবং ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের গুরুত্ব বিবেচনা করে ১৯৯৭ সালে একে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
- এই স্বীকৃতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হয়েছিল ৬ই ডিসেম্বর ১৯৯৭ তারিখে।
- সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, তাই পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এর এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সহজ কথায় মনে রাখার উপায় হলো, সুন্দরবনের এই স্বীকৃতি পাওয়ার সালটি হলো ১৯৯৭ এবং তারিখটি হলো ৬ই ডিসেম্বর।
কোনটি তদ্ভব শব্দ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো হাত।
তদ্ভব শব্দ হলো সেগুলো, যেগুলো প্রাকৃত বা অপভ্রংশের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে সরাসরি বাংলা ভাষায় এসেছে। বিষয়টি সহজে এভাবে মনে রাখতে পারেন:
- সংস্কৃত শব্দ 'হস্ত' পরিবর্তিত হয়ে প্রাকৃত ভাষায় হয়েছিল 'হট্থ' বা 'হत्थ'।
- সেখান থেকেই পরবর্তীতে বিবর্তিত হয়ে বাংলায় এসেছে সহজ ও পরিচিত শব্দ হাত।
ময়নামতি কোন সভ্যতার নিদর্শন?
সঠিক উত্তর হলো বৌদ্ধ সভ্যতা। ময়নামতি মূলত প্রাচীন বাংলার সমতট অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান, যা কুমিল্লার লালমাই-ময়নামতি পাহাড় এলাকায় অবস্থিত।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- এখানে খননকার্যের ফলে প্রচুর পরিমাণে বৌদ্ধ বিহার, স্তূপ এবং বিভিন্ন বৌদ্ধ মূর্তির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।
- বিশেষ করে শালবন বিহার, কুটিলা মুড়া এবং চারপত্র মুড়া—এই প্রতিটি নিদর্শনই প্রাচীন বৌদ্ধ সংস্কৃতির সাক্ষ্য বহন করে।
- ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত এই অঞ্চলটি বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল।
তমুদ্দুন মজলিস ' সংগঠনটি কিসের সাথে সম্পৃক্ত ছিল?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ভাষা আন্দোলন। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের ঠিক পরেই বাঙালি সংস্কৃতির অধিকার এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য গঠিত প্রথম সাংস্কৃতিক সংগঠনটি ছিল তমুদ্দুন মজলিস। অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে এই সংগঠনটি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে জোরালো ভূমিকা রেখেছিল, যা পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলনকে দারুণভাবে বেগবান করেছিল।
দেশের ১৪ তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে নিয়োগ পান কে?
সঠিক উত্তর হলো এ.এম.এম. নাসির উদ্দিন।
বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ। সম্প্রতি সাংবিধানিক পদগুলোতে নিয়োগের ধারাবাহিকতায় তিনি দেশের ১৪ তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এই তথ্যটি সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞান বা কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স অংশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- নিয়োগের প্রেক্ষাপট: নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতি তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছেন।
- মনে রাখার কৌশল: বর্তমান সময়ের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো নিয়মিত আপডেট রাখলে এমন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।
চেহারা দেখার জন্য যে দর্পণটি ব্যবহৃত হয় সেটি হলো একটি—
চেহারা দেখার জন্য আমরা সাধারণত যে আয়না ব্যবহার করি, সেটি হলো সমতল দর্পণ। এর কারণগুলো খুব সহজ:
- সমতল দর্পণে বস্তুর আকার এবং প্রতিবিম্বের আকার সবসময় সমান থাকে।
- আমরা আয়নায় নিজেকে যেভাবে দেখি, প্রতিবিম্বটি ঠিক সেভাবেই তৈরি হয়, কোনো বড় বা ছোট দেখায় না।
- এই দর্পণে প্রতিবিম্বটি সবসময় সোজা এবং পার্শ্বীয়ভাবে উল্টো (অর্থাৎ ডান হাত বাম হাত মনে হয়) হয়, যা আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক।
সহজ কথায়, আমাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে আয়নায় নিজের স্বাভাবিক অবয়ব দেখার জন্য সমতল দর্পণই সবচেয়ে পারফেক্ট!
তীব্র এসিড ও মৃদু ক্ষার টাইট্রেশনে উপযুক্ত নির্দেশক কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো মিথাইল অরেঞ্জ।
বিষয়টা খুব সহজে এভাবে মনে রাখতে পারো:
- যখন টাইট্রেশনে তীব্র এসিড এবং মৃদু ক্ষার ব্যবহার করা হয়, তখন বিক্রিয়া শেষে দ্রবণটি কিছুটা এসিডীয় প্রকৃতির (pH রেঞ্জ ৩.১ থেকে ৪.৪) হয়।
- এই নির্দিষ্ট pH সীমার মধ্যে মিথাইল অরেঞ্জ খুব স্পষ্টভাবে রঙ পরিবর্তন করে এসিড-ক্ষারের প্রশমন বিন্দু নির্দেশ করতে পারে।
- অন্যদিকে, ফেনলফথ্যালিন হলো তীব্র ক্ষার ও মৃদু এসিডের জন্য উপযুক্ত নির্দেশক। তাই এ ক্ষেত্রে মিথাইল অরেঞ্জই সঠিক পছন্দ।