সাধুভাষা পরিভাষাটি প্রথম ব্যবহার করেন-
প্রত্যেক ভাষারই মৌলিক অংশ কয়টি?
ভাষার মৌলিক অংশ মূলত চারটি। যেকোনো ভাষার মূল ভিত্তি বা কাঠামো তৈরি হয় এই চারটি উপাদানের সমন্বয়ে। বিষয়টিকে সহজভাবে মনে রাখার উপায় হলো:
- ধ্বনি (Sound): ভাষার ক্ষুদ্রতম একক, যা আমরা উচ্চারণ করি।
- শব্দ (Word): ধ্বনির সমষ্টি, যার একটি নির্দিষ্ট অর্থ থাকে।
- বাক্য (Sentence): শব্দের সমষ্টি, যা মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশ করে।
- অর্থ (Meaning): ভাষার প্রাণ, কারণ অর্থ ছাড়া কোনো শব্দ বা বাক্যের অস্তিত্ব নেই।
অর্থাৎ, ধ্বনি থেকে শব্দ, শব্দ থেকে বাক্য এবং সবকিছুর পেছনে থাকে অর্থ—এই চারটি উপাদান মিলেই একটি পূর্ণাঙ্গ ভাষা গঠিত হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো চারটি।
সাধুও চলিত রীতিতে অভিন্নরূপেব্যবহৃত হয়?
সঠিক উত্তর হলো অব্যয়। এর কারণটা খুব সহজ।
বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রীতির মধ্যে মূল পার্থক্য থাকে সাধারণত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের রূপের ক্ষেত্রে। কিন্তু অব্যয় পদগুলো এমন একটি শব্দশ্রেণি যা বাক্যের গঠন বা রূপ পরিবর্তনের সাথে সাথে নিজের রূপ পরিবর্তন করে না। অর্থাৎ, সাধু বা চলিত যে রীতিই হোক না কেন, অব্যয় পদগুলো সব সময় একই থাকে।
- অব্যয় যেমন: 'এবং', 'ও', 'অথবা', 'কিন্তু'—এগুলো সাধু ও চলিত উভয় রীতিতেই হুবহু একইভাবে ব্যবহৃত হয়।
- এগুলোর কোনো বচন বা লিঙ্গভেদে রূপান্তর হয় না, তাই এগুলোকে 'অব্যয়' বা অপরিবর্তনীয় শব্দ বলা হয়।
'চিঠি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো হিন্দি। বিষয়টি মনে রাখা খুবই সহজ।
বাংলা ভাষায় অনেক শব্দই অন্য ভাষা থেকে এসেছে, যাদের আমরা 'আগন্তুক' বা 'বিদেশি' শব্দ বলি। 'চিঠি' শব্দটি মূলত হিন্দি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে। এটি মনে রাখার জন্য নিচের সহজ কৌশলটি দেখতে পারেন:
- 'চিঠি' শব্দটি হিন্দি ভাষার একটি প্রচলিত শব্দ।
- বাংলায় দৈনন্দিন ব্যবহারের অনেক শব্দই হিন্দি থেকে সরাসরি গৃহীত হয়েছে, যার মধ্যে 'চিঠি' অন্যতম।
- পরীক্ষায় এই ধরনের শব্দ মনে রাখতে শব্দের উৎসগুলো ছোট ছোট তালিকায় ভাগ করে বারবার রিভিশন দিলে খুব দ্রুত আয়ত্তে চলে আসে।
পত্রের ভাষা কেমন হওয়া প্রয়োজন?
একটি ভালো পত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর ভাষা। পত্রের ভাষা এমন হওয়া উচিত যাতে প্রাপক খুব সহজেই মূল বিষয়টি বুঝতে পারেন। তাই এখানে সঠিক উত্তর হলো সহজ, সরল ও বিষয়ভিত্তিক।
- সহজ ও সরল: জটিল বা কঠিন শব্দ ব্যবহার করলে পত্রের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। তাই সহজবোধ্য শব্দ ব্যবহার করা জরুরি।
- বিষয়ভিত্তিক: পত্রের মূল কথা বা বিষয়বস্তু যেন সরাসরি এবং স্পষ্ট থাকে, যাতে অপ্রাসঙ্গিক কথা এড়িয়ে মূল তথ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া যায়।
সংক্ষেপে, পত্রের ভাষা যত সাবলীল হবে, যোগাযোগের কার্যকারিতা তত বাড়বে।
বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িকপত্র কোনটি?
বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িকপত্র হলো দিকদর্শন। এটি ১৮১৮ সালে শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।
- প্রকাশকাল: ১৮১৮ সাল।
- সম্পাদক: জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- উদ্দেশ্য: তৎকালীন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চায় সহায়তা করার জন্য এটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে চালু করা হয়েছিল।
সহজ কথায়, বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে দিকদর্শন-ই প্রথম মাইলফলক, যা বাংলা গদ্য ও সংবাদপত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
বাংলা ভাষার প্রকাশিত দৈনিক সংবাদপত্র কোনটি?
বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র হলো সংবাদ প্রভাকর। ১৮৩৯ সালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
সহজ মনে রাখার কৌশল:
- ১৮১৮ সালে প্রকাশিত সমাচার দর্পণ ছিল সাপ্তাহিক, কিন্তু সংবাদ প্রভাকর ছিল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম সফল দৈনিক সংবাদপত্র।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের হাত ধরে এটি দৈনিক হিসেবে যাত্রা শুরু করায় বাংলা সাংবাদিকতার ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক হয়ে আছে।
'Bengali Gazette' সাময়িক পত্রিকাটি কোন ভাষায় রচিত?
'Bengali Gazette' পত্রিকাটি মূলত ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল। নাম দেখে অনেকের মনে হতে পারে এটি বাংলা ভাষার পত্রিকা, কিন্তু আসলে বিষয়টি তেমন নয়।
- ১৮১৮ সালে প্রকাশিত এই পত্রিকাটি ছিল ভারতের প্রথম ইংরেজি ভাষার সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।
- যদিও এর নাম 'Bengali Gazette', কিন্তু এর ভেতরের সমস্ত কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তু ছিল ইংরেজি ভাষায়।
সহজ কথায়, এটি একটি ইংরেজি পত্রিকা যা তৎকালীন সময়ে বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। তাই সঠিক উত্তর হলো ইংরেজি।
চলিত বাংলা গদ্যের সার্থক প্রবর্তন কে করেন?
চলিত বাংলা গদ্যের সার্থক প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী, যিনি সাহিত্যে বীরবল ছদ্মনামে পরিচিত। বাংলা গদ্যকে সাধু ভাষার কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত করে মুখের ভাষার কাছাকাছি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান সবচেয়ে বেশি।
- সবুজপত্র পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি চলিত ভাষারীতিকে বাংলা সাহিত্যে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।
- তাঁর লেখনীর মাধ্যমেই বাংলা গদ্য এক নতুন প্রাণশক্তি ও সাবলীল গতি পায়।
- তাই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চলিত গদ্যের জনক বা সার্থক প্রবর্তক হিসেবে তাঁর নামই সবার আগে আসে।
ডঃ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রধানত কোন ধরনের ব্যক্তিত্ব ছিলেন?
ডঃ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর নাম শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে বাংলা ভাষার একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী পণ্ডিতের ছবি। তিনি মূলত একজন ভাষাতত্ত্ববিদ হিসেবেই বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
এর কারণগুলো খুব সহজ:
- তিনি বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ নিয়ে গভীর গবেষণা করেছিলেন।
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ এবং অভিধান প্রণয়নে তার অবদান অতুলনীয়।
- তিনি বহু ভাষাবিদ ছিলেন এবং ভাষাবিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলোকে সহজভাবে উপস্থাপন করতে পারতেন।
তাই সাহিত্য বা ইতিহাসের চেয়েও তার মূল পরিচয় হলো তিনি একজন অসাধারণ ভাষাতত্ত্ববিদ।