জোয়ারের কত সময় পর ভাটার সৃষ্টি হয়?
সঠিক উত্তর হলো ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায়:
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে জোয়ার হওয়ার পর, চাঁদ সেই স্থান থেকে সরে যায়।
- চাঁদকে পুনরায় সেই অবস্থানে আসতে বা জোয়ারের চক্র পূর্ণ করতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট সময় লাগে।
- যেহেতু জোয়ারের ঠিক বিপরীত দিকে ভাটা হয়, তাই এই পুরো সময়কে ২ দিয়ে ভাগ করলেই আমরা ভাটার সময় পেয়ে যাই।
হিসাবটি হলো: $$\frac{24 \text{ ঘণ্টা } 52 \text{ মিনিট}}{4} \approx 6 \text{ ঘণ্টা } 13 \text{ মিনিট}$$
অর্থাৎ, একটি জোয়ারের ঠিক ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পরেই ভাটার সৃষ্টি হয়।
যে যন্ত্রের সাহায্যে পরবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তার নাম কী?
সঠিক উত্তর হলো ট্রন্সফর্মার। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ ট্রন্সফর্মার মূলত তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশের নীতিতে কাজ করে। এর কাজ করার প্রক্রিয়াটি নিচে দেওয়া হলো:
- ট্রন্সফর্মার মূলত এসি (AC) ভোল্টেজ নিয়ে কাজ করে।
- এর প্রধান কাজ হলো তড়িৎ প্রবাহের বিভব বা ভোল্টেজকে প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ানো বা কমানো।
- যখন এটি ভোল্টেজ বাড়ায়, তখন তাকে বলা হয় স্টেপ-আপ ট্রন্সফর্মার।
- যখন এটি ভোল্টেজ কমায়, তখন তাকে বলা হয় স্টেপ-ডাউন ট্রন্সফর্মার।
সহজ কথায়, ভোল্টেজ পরিবর্তনের এই পুরো প্রক্রিয়াটি ট্রন্সফর্মার ছাড়া সম্ভব নয়, তাই বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় এটি একটি অপরিহার্য যন্ত্র।
কোথায় দিন রাত্রি সর্বত্র সমান?
সঠিক উত্তর হলো নিরক্ষরেখায়। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায়:
- পৃথিবী তার অক্ষের ওপর হেলে থাকার কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন হয়।
- কিন্তু নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা পৃথিবীর ঠিক মাঝ বরাবর অবস্থিত হওয়ায় এখানে সূর্যের আলো সারা বছর প্রায় লম্বভাবে পড়ে।
- এর ফলে নিরক্ষরেখায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ের ব্যবধান সবসময় সমান থাকে, অর্থাৎ এখানে দিন ও রাত সবসময় ১২ ঘণ্টা করে হয়।
সহজ কথায়, নিরক্ষরেখায় সূর্য সবসময় পৃথিবীর কেন্দ্র বরাবর অবস্থান করে বলে এখানে দিন ও রাত্রির দৈর্ঘ্যের কোনো তারতম্য ঘটে না।
ছায়াপথ তার নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘুরে আসতে যে সময় লাগে তাকে কী বলে?
সঠিক উত্তর হলো কসমিক ইয়ার। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায়:
- আমাদের সূর্য এবং সৌরজগৎ ছায়াপথের কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে বিশাল এক কক্ষপথে ঘোরে।
- এই বিশাল পথ একবার ঘুরে আসতে সূর্যের প্রায় ২২ কোটি ৫০ লক্ষ বছর সময় লাগে।
- মহাজাগতিক এই বিশাল সময়কালকেই মূলত কসমিক ইয়ার বা মহাজাগতিক বছর বলা হয়।
সহজ কথায়, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরলে যেমন এক বছর হয়, তেমনি পুরো সৌরজগৎ ছায়াপথের কেন্দ্র ঘুরে এলে যে সময় লাগে, সেটিই হলো এক কসমিক ইয়ার।
বস্তুর ওজন কোথায় সবচেয়ে বেশি?
বস্তুর ওজন সবচেয়ে বেশি হয় মেরু অঞ্চলে। এর পেছনের কারণটা খুব সহজ এবং মজার:
- পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়, বরং মেরু অঞ্চলের দিকে কিছুটা চাপা।
- এর ফলে মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে পৃষ্ঠের দূরত্ব বিষুব অঞ্চলের তুলনায় কম।
- ওজনের সূত্রটি হলো $W = mg$। এখানে $g$ বা অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর কেন্দ্রের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক ($g \propto \frac{1}{r^2}$)।
- যেহেতু মেরু অঞ্চলে ব্যাসার্ধ ($r$) সবচেয়ে কম, তাই সেখানে অভিকর্ষজ ত্বরণ ($g$) এর মান সবচেয়ে বেশি হয়।
- ফলাফলস্বরূপ, মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজনও সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের ফলে বায়ুমন্ডলে যে গ্রিন হাউজ গ্যাসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে-
এখানে সঠিক উত্তর হলো কার্বনডাই-অক্সাইড। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন—কয়লা, পেট্রোল বা প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ালে কার্বন সরাসরি অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে প্রচুর পরিমাণে কার্বনডাই-অক্সাইড তৈরি করে।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- জীবাশ্ম জ্বালানির মূল উপাদান হলো কার্বন।
- দহন বা পোড়ানোর প্রক্রিয়ায় কার্বন বাতাসের অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে তৈরি করে: $C + O_2 \rightarrow CO_2$।
- এই অতিরিক্ত $CO_2$ গ্যাস বায়ুমণ্ডলে জমা হয়ে তাপ ধরে রাখে, যা গ্রিন হাউস প্রভাবের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।
তাই আধুনিক বিশ্বে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে এই গ্যাসটিকেই চিহ্নিত করা হয়।
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রতি বর্গ সে.মি. এ -
গ্রিনিচ মান সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য কত ঘণ্টা?
গ্রিনিচ মান সময়ের (GMT) সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য হলো ৬ ঘণ্টা। এর পেছনের সহজ হিসাবটি হলো:
- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের ওপর একবার ঘুরতে অর্থাৎ $360^\circ$ ঘুরতে সময় নেয় ২৪ ঘণ্টা।
- অর্থাৎ, প্রতি $1^\circ$ দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের ব্যবধান হয় $\frac{24 \times 60}{360} = 4$ মিনিট।
- বাংলাদেশের প্রমাণ দ্রাঘিমা হলো $90^\circ$ পূর্ব।
- সুতরাং, গ্রিনিচ থেকে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য হবে $90 \times 4 = 360$ মিনিট।
- এই ৩৬০ মিনিটকে ঘণ্টায় রূপান্তর করলে দাঁড়ায় $\frac{360}{60} = 6$ ঘণ্টা।
যেহেতু বাংলাদেশ গ্রিনিচের পূর্বে অবস্থিত, তাই আমাদের সময় গ্রিনিচ মান সময়ের চেয়ে ৬ ঘণ্টা এগিয়ে থাকে।
সুয়েজ খাল কোন দুটি সাগরকে সংযোজিত করে-
সঠিক উত্তর হলো লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগর। সুয়েজ খাল হলো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কৃত্রিম জলপথ, যা মূলত এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে নৌ-চলাচলের দূরত্ব অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- সুয়েজ খাল মিশরের সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- এটি উত্তরের ভূমধ্যসাগর এবং দক্ষিণের লোহিত সাগরকে সরাসরি যুক্ত করেছে।
- এই খালটি ব্যবহারের ফলে জাহাজগুলোকে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে যেতে হয় না, যা প্রায় $7,000$ কিলোমিটার পথ বাঁচিয়ে দেয়।
কোন বস্তুর ওজন কোথায় সবচেয়ে বেশি?
কোনো বস্তুর ওজন সবচেয়ে বেশি হয় মেরু অঞ্চলে। এর পেছনের কারণটা খুব সহজ এবং মজার:
- পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়, বরং মেরু অঞ্চলের দিকে কিছুটা চাপা।
- এর ফলে মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে পৃষ্ঠের দূরত্ব বিষুব অঞ্চলের তুলনায় কম।
- আমরা জানি, ওজন হলো অভিকর্ষজ ত্বরণ ($g$) এবং ভরের ($m$) গুণফল, অর্থাৎ $W = mg$।
- যেহেতু মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্ব কম, তাই সেখানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান ($g$) সবচেয়ে বেশি হয়।
- ফলাফলস্বরূপ, মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজনও সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।