১৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান 1997
একটি কম্পিউটার বিজ্ঞান পরিক্ষায় ৩০% পরীক্ষার্থী পাশ করেছে। যারা পাশ করতে পারে নি তাদের ১২ জন কম্পিউটার বিজ্ঞান কোর্সে অংশগ্রহণ করেছে এবং ৩০ জন উক্ত কোর্সে অংশগ্রহণ করে নি।কয়জন পরিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ৬০ জন। বিষয়টি খুব সহজভাবে হিসাব করা যায়:
- পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩০% পাশ করেছে, তার মানে ফেল করেছে $(100 - 30)\% = 70\%$ পরীক্ষার্থী।
- প্রশ্ন অনুযায়ী, যারা ফেল করেছে তাদের মধ্যে ১২ জন কোর্সে অংশগ্রহণ করেছে এবং ৩০ জন অংশগ্রহণ করেনি। অর্থাৎ, মোট ফেল করা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো $(12 + 30) = 42$ জন।
- এখন আমরা জানি, এই ৪২ জনই হলো মোট পরীক্ষার্থীর ৭০%।
- ধরি, মোট পরীক্ষার্থী $x$ জন। তাহলে শর্তমতে: $$x \times \frac{70}{100} = 42$$ $$x = \frac{42 \times 100}{70}$$ $$x = 60$$
অর্থাৎ, পরীক্ষায় মোট ৬০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল।
৩৬০০ টাকা করে দু'টি চেয়ার বিক্রয় করা হয়েছে। একটি ২০% লাভে এবং অন্যটি লোকসানে বিক্রয় করা হয়েছে। সব মিলিয়ে কত লোকসান হয়েছে।
এখানে সঠিক উত্তর হলো ৩০০ টাকা। এই ধরনের অংকে যখন দুটি জিনিসের বিক্রয়মূল্য সমান হয় এবং একটিতে যত শতাংশ লাভ ও অন্যটিতে ঠিক তত শতাংশ লোকসান হয়, তখন সবসময় মোটের ওপর লোকসানই হয়।
সহজ শর্টকাট নিয়মটি হলো:
- এখানে বিক্রয়মূল্য $3600$ টাকা এবং লাভের হার $20\%$, তাই প্রথম চেয়ারটির ক্রয়মূল্য হবে: $\frac{3600}{1.20} = 3000$ টাকা।
- দ্বিতীয় চেয়ারটিতেও $20\%$ লোকসান হয়েছে, তাই এর ক্রয়মূল্য হবে: $\frac{3600}{0.80} = 4500$ টাকা।
- মোট ক্রয়মূল্য দাঁড়ায়: $3000 + 4500 = 7500$ টাকা।
- মোট বিক্রয়মূল্য হলো: $3600 + 3600 = 7200$ টাকা।
- সুতরাং, মোট লোকসান হলো: $7500 - 7200 = 300$ টাকা।
অর্থাৎ, সব মিলিয়ে ৩০০ টাকা লোকসান হয়েছে।
সম্পূর্ণ খালি একটি চৌবাচ্চা একটি পাইপ দিয়ে ৫ ঘণ্টায় সম্পূর্ণ ভর্তি করা যায়। দ্বিতীয় একটি পাইপ দিয়ে চৌবাচ্চাটি ভর্তি করতে ৩ ঘণ্টা সময় লাগে। দুইটি পাইপ একসাথে ব্যবহার করে চৌবাচ্চাটির ২/৩ অংশ ভর্তি করতে কত সময় লাগবে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ৫/৪ ঘণ্টা। অঙ্কটা খুব সহজে করার শর্টকাট নিয়ম হলো:
- প্রথম পাইপে ১ ঘণ্টায় পূর্ণ হয় $\frac{1}{5}$ অংশ
- দ্বিতীয় পাইপে ১ ঘণ্টায় পূর্ণ হয় $\frac{1}{3}$ অংশ
- দুটি পাইপ একসাথে ১ ঘণ্টায় পূর্ণ করে: $\frac{1}{5} + \frac{1}{3} = \frac{8}{15}$ অংশ
- সম্পূর্ণ চৌবাচ্চাটি একসাথে ভরতে সময় লাগে: $\frac{15}{8}$ ঘণ্টা
- অতএব, চৌবাচ্চাটির $\frac{2}{3}$ অংশ ভর্তি করতে সময় লাগবে: $\frac{15}{8} \times \frac{2}{3} = \frac{5}{4}$ ঘণ্টা
ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের দূরত্ব ৪৫ মাইল। করিম ঘণ্টায় ৩ মাইল বেগে হাঁটে এবং রহিম ৪ মাইল বেগে হাঁটে।করিম ঢাকা থেকে রওয়ানা হওয়ার এক ঘণ্টা পর রহিম টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা রওয়ানা হয়েছে। রহিম কত মাইল হাঁটার পর করিমের সাথে দেখা হবে?
এই অংকটি খুব সহজে সমাধান করা যায়। করিম ১ ঘণ্টায় ৩ মাইল এগিয়ে যায়, তাই রহিম যখন যাত্রা শুরু করে, তখন তাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব থাকে $(45 - 3) = 42$ মাইল।
এখন, যেহেতু তারা একে অপরের দিকে আসছে, তাই তাদের আপেক্ষিক গতিবেগ হবে তাদের গতির যোগফল:
- করিমের গতি = $3$ মাইল/ঘণ্টা
- রহিমের গতি = $4$ মাইল/ঘণ্টা
- আপেক্ষিক গতি = $3 + 4 = 7$ মাইল/ঘণ্টা
রহিম যাত্রা শুরুর পর তাদের দেখা হওয়ার সময় হবে: $\frac{42}{7} = 6$ ঘণ্টা।
যেহেতু রহিম ঘণ্টায় $4$ মাইল বেগে হাঁটে, তাই $6$ ঘণ্টায় রহিম মোট পথ অতিক্রম করবে:
$$6 \times 4 = 24 \text{ মাইল}$$
অর্থাৎ, রহিম $24$ মাইল হাঁটার পর করিমের সাথে তার দেখা হবে।
৫৬ ফুট ব্যাসের একটি বৃত্তাকার ক্ষেত্রকে একই ক্ষেত্রফলের একটি বর্গক্ষেত্র করলে, বর্গক্ষেত্রের যে কোন এক দিকের দৈর্ঘ্য কত হবে?
এই অংকটি সমাধান করার জন্য আমাদের বৃত্তের ক্ষেত্রফল এবং বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফলের সম্পর্কটি বুঝতে হবে। যেহেতু বৃত্ত এবং বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল সমান, তাই আমরা খুব সহজেই বর্গক্ষেত্রের বাহুর দৈর্ঘ্য বের করতে পারি।
- বৃত্তের ব্যাস $d = 56$ ফুট হলে, ব্যাসার্ধ $r = \frac{56}{2} = 28$ ফুট।
- বৃত্তের ক্ষেত্রফল হলো $\pi r^2$। সুতরাং, ক্ষেত্রফল $= \pi \times (28)^2 \approx 3.1416 \times 784 \approx 2463$ বর্গফুট।
- ধরি, বর্গক্ষেত্রের বাহুর দৈর্ঘ্য $a$। তাহলে বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল $a^2 = 2463$।
- বাহুর দৈর্ঘ্য $a = \sqrt{2463} \approx 49.6$ ফুট।
অর্থাৎ, বৃত্তাকার ক্ষেত্রটির সমান ক্ষেত্রফল বিশিষ্ট বর্গক্ষেত্রের প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৪৯.৬ ফুট।
একটি বাড়ি ৪০ ফুট উঁচু। একটি মইয়ের তলদেশ মাটিতে বাড়িটির দেয়াল থেকে ৯ ফুট দূরে রাখা আছে। উপরে মইটি বাড়িটির চাঁদ ছুঁয়ে আছে। মইটি কত ফুট লম্বা?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ৪১ ফুট। বিষয়টি খুব সহজে পিথাগোরাসের উপপাদ্য দিয়ে বের করা যায়। বাড়িটিকে লম্ব এবং মাটির দূরত্বকে ভূমি ধরে মইয়ের দৈর্ঘ্য হবে অতিভুজ।
- লম্ব ($a$) = $40$ ফুট
- ভূমি ($b$) = $9$ ফুট
- অতিভুজ ($c$) = মইয়ের দৈর্ঘ্য
পিথাগোরাসের সূত্র অনুযায়ী:
$$c = \sqrt{a^2 + b^2}$$ $$c = \sqrt{40^2 + 9^2}$$ $$c = \sqrt{1600 + 81}$$ $$c = \sqrt{1681} = 41$$অর্থাৎ, মইটি খাড়া করলে তার দৈর্ঘ্য হবে ৪১ ফুট।
১ হতে ১০০ পর্যন্ত সংখ্যা সমূহের যোগফল কত?
১ হতে ১০০ পর্যন্ত সংখ্যাগুলোর যোগফল বের করার জন্য আমরা খুব সহজ একটি সূত্র ব্যবহার করতে পারি। যখন কোনো ধারার সংখ্যাগুলো ধারাবাহিকভাবে থাকে, তখন যোগফল বের করার নিয়মটি হলো:
যোগফল = \frac{n \times (n + 1)}{2}
এখানে, $n$ হলো শেষ সংখ্যাটি, অর্থাৎ $100$। এখন মানগুলো বসিয়ে পাই:
- প্রথমে $n = 100$ এবং $(n + 1) = 101$ গুণ করতে হবে।
- অর্থাৎ, $100 \times 101 = 10100$।
- এবার একে $2$ দিয়ে ভাগ করলেই আমরা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেয়ে যাব।
- হিসাবটি হলো: $$\frac{10100}{2} = 5050$$
এভাবেই খুব দ্রুত যেকোনো ধারাবাহিক সংখ্যার যোগফল বের করা সম্ভব। তাই এখানে সঠিক উত্তর হলো ৫০৫০।
বাক্যের ক্ষুদ্র তম একক কোনটি?
বাক্যের ক্ষুদ্রতম একক হলো শব্দ। বিষয়টি খুব সহজভাবে এভাবে বোঝা যায়:
- আমরা যখন কথা বলি বা লিখি, তখন কতগুলো অর্থবোধক ধ্বনি বা বর্ণ মিলে তৈরি হয় একটি শব্দ।
- এই শব্দগুলো যখন বাক্যের মধ্যে বসে এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে মনের ভাব প্রকাশ করে, তখনই তা একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য গঠন করে।
- ভাষার বিচারে বাক্যের গঠনশৈলীতে শব্দই হলো সেই মৌলিক উপাদান, যা ছাড়া বাক্য তৈরি করা অসম্ভব।
সহজ কথায়, বাক্য তৈরির জন্য শব্দের ব্যবহারই হলো প্রাথমিক ধাপ, তাই ব্যাকরণ অনুযায়ী বাক্যের ক্ষুদ্রতম একক হিসেবে শব্দ-কেই ধরা হয়।
কোন বানান টি শুদ্ধ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সমীচীন। কারণ বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী 'সমীচীন' শব্দটিতে প্রথমে 'স', এরপর ম-দীর্ঘীকার ($মী$) এবং চ-দীর্ঘীকার ($চী$) ও ণ ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, এই শব্দের উভয় ই-কারই দীর্ঘ ই-কার ($ী$) হবে এবং শেষে মূর্ধন্য ণ ($ণ$) বসবে। এই নিয়মটি মনে রাখলে বানান ভুল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না।
কোন বইটি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো দোলনচাঁপা। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ এই কাব্যগ্রন্থটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা নয়।
- দোলনচাঁপা কাব্যগ্রন্থটি মূলত বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা।
- অন্যদিকে, শেষের কবিতা, সোনারতরী এবং মানসী—এই তিনটিই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী সাহিত্যকর্ম।
সহজ কথায়, রবীন্দ্রনাথের রচনার তালিকা মনে রাখলে এই ধরনের প্রশ্ন খুব সহজেই সমাধান করা যায়।