২০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান 1998
বলতে কি বােঝায়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতু। ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, বাক্যে ব্যবহারের উপযোগী করতে যেকোনো শব্দ বা ধাতুর সঙ্গে যখন বিভক্তি যুক্ত করা হয়, তখন তাকে পদ বলা হয়।
- শব্দ + বিভক্তি = পদ
- ধাতু + বিভক্তি = পদ
খুব সহজ কথায়, বিভক্তি ছাড়া কোনো শব্দ বা ধাতু একা একা বাক্যে বসতে পারে না। তাই এদের সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়েই মূলত পদ গঠিত হয়।
ঠোট-কাটা বলতে কি বােঝায়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো স্পষ্টভাষী। বিষয়টি খুব সহজ, আমাদের দৈনন্দিন কথাবার্তায় আমরা এমন কাউকে 'ঠোঁট-কাটা' বলি যে মনে কোনো দ্বিধা না রেখে সরাসরি মনের কথা বলে ফেলে।
- যিনি কোনো কিছু আড়াল না করে বা সংকোচ না করে মুখের ওপর সত্য কথা বলে দেন, তাকেই আমরা ঠোঁট-কাটা বলি।
- সহজ কথায়, যার কথা বলার ধরনে কোনো রাখঢাক নেই, তিনিই হলেন স্পষ্টভাষী।
বিষাদ-সিন্ধু’ কার রচনা?
সঠিক উত্তর হলো মীর মশাররফ হোসেন।
বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ। বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী ঐতিহাসিক উপন্যাস 'বিষাদ-সিন্ধু'-এর রচয়িতা হলেন মীর মশাররফ হোসেন। এটি কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসেনের বিয়োগান্তক কাহিনী অবলম্বনে লেখা একটি অমর সৃষ্টি।
- লেখক: মীর মশাররফ হোসেন।
- গ্রন্থের নাম: বিষাদ-সিন্ধু।
- স্মরণ রাখার কৌশল: বাংলা সাহিত্যে কারবালার ট্র্যাজেডি নিয়ে লেখা সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী উপন্যাসটি মীর মশাররফ হোসেনেরই লেখা।
নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো অগ্নিবীণা। এটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ধারার সূচনা করেছিল, যা মূলত বিদ্রোহী চেতনার বহিঃপ্রকাশ।
মনে রাখার সহজ উপায়:
- অগ্নিবীণা হলো নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এটি প্রকাশের মাধ্যমেই তিনি বাংলা সাহিত্যে 'বিদ্রোহী কবি' হিসেবে পরিচিতি পান।
- পরীক্ষায় প্রায়ই এই প্রশ্নটি আসে, তাই সালটি মনে রাখা জরুরি: ১৯২২।
কোনটি শামসুর রাহমানের রচনা?
সঠিক উত্তর হলো নিরালােকে দিব্যরথ। শামসুর রাহমানের সাহিত্যকর্মের বিশাল ভাণ্ডারে এটি একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন:
- শামসুর রাহমানের কাব্যশৈলীতে নাগরিক জীবনের যন্ত্রণা এবং আধুনিকতার ছাপ স্পষ্ট।
- তার কাব্যগ্রন্থগুলোর নামকরণে তিনি প্রায়ই বেশ গভীর ও রূপকধর্মী শব্দ ব্যবহার করতেন।
- নিরালােকে দিব্যরথ কাব্যগ্রন্থটি তার সেই কাব্যিক বৈশিষ্ট্যেরই একটি অনন্য উদাহরণ।
পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন দ্রুত সমাধানের জন্য কবির উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর একটি তালিকা নিয়মিত চোখ বুলিয়ে রাখা সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।
‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এল বান’ -এখানে ‘টাপুর টুপুর’ কোন ধরনের শব্দ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ধ্বন্যাত্মক শব্দ।
খুব সহজে মনে রাখার টেকনিক হলো— কোনো কিছুর বাস্তব বা কল্পিত স্বাদের অনুকরণে যে শব্দগুলো তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বা অনুকার শব্দ বলা হয়। যেমন:
- বৃষ্টি পড়ার আওয়াজ বোঝাতে ব্যবহার হয়েছে ‘টাপুর টুপুর’।
- পাতার মর্মর শব্দ বোঝাতে ‘মর মর’।
- ঠিক একইভাবে কুকুরের ডাক ‘ঘেউ ঘেউ’ বা বাতাসের শব্দও এর মধ্যে পড়ে।
তাই দেখলেই বুঝতে পারবে, যে শব্দগুলো কোনো না কোনো আওয়াজ বা ধ্বনির অনুকরণে তৈরি, সেটাই ধ্বন্যাত্মক শব্দ!
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ভাই-বোন। দ্বন্দ্ব সমাস চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো এর গঠন। যে সমাসে প্রতিটি পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে এবং ব্যাসবাক্য করার সময় 'ও', 'এবং' বা 'আর' অব্যয় ব্যবহৃত হয়, তাকেই দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- ভাই-বোন শব্দটির ব্যাসবাক্য করলে হয়: ভাই ও বোন।
- এখানে 'ভাই' এবং 'বোন'—উভয় পদের অর্থই সমানভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
- যেহেতু মাঝখানে 'ও' অব্যয়টি যুক্ত হয়েছে এবং উভয় পদের অর্থ প্রধান, তাই এটি নিশ্চিতভাবেই দ্বন্দ্ব সমাস।
যা সহজে অতিক্রম করা যায় না’- এ বাক্যাংশের সংক্ষিপ্ত রূপ কি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো দুরতিক্রম্য। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- 'যা সহজে অতিক্রম করা যায় না'—এই পুরো কথাটিকে এক কথায় প্রকাশ করলে হয় দুরতিক্রম্য।
- এখানে 'দুঃ' উপসর্গটি 'সহজে নয়' বা 'কঠিন' অর্থ প্রকাশ করে এবং 'অতিক্রম্য' মানে যা অতিক্রম করা যায়।
- সহজ কথায়, যা পার হওয়া বা অতিক্রম করা কঠিন, সেটিই হলো দুরতিক্রম্য।
ব্যাঙের সর্দি’- অর্থ কি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অসম্ভব ঘটনা।
বিষয়টা খুব সহজ! ব্যাঙ জলচর প্রাণী, তাই তার সর্দি লাগার কোনো সুযোগই নেই। এই বাগধারাটি মূলত এমন কোনো বিষয়কে বোঝাতে ব্যবহৃত হয় যা বাস্তবে ঘটা একেবারেই অসম্ভব। তাই যখনই দেখবেন কেউ এমন কিছু বলছে যা কখনোই সম্ভব নয়, তখনই মনে করবেন সেটিই হলো 'ব্যাঙের সর্দি'।
সংশপ্তক’ কার রচনা?
সঠিক উত্তর হলো শহীদুল্লাহ কায়সার।
বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ। 'সংশপ্তক' বাংলা সাহিত্যের একটি কালজয়ী উপন্যাস, যা মূলত শহীদুল্লাহ কায়সারের অসামান্য সৃষ্টি। এই উপন্যাসটি মনে রাখার জন্য কিছু সহজ টিপস:
- লেখক পরিচিতি: শহীদুল্লাহ কায়সার একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, যার লেখনীতে সমকালীন সমাজ ও রাজনীতির গভীর প্রতিফলন দেখা যায়।
- মনে রাখার কৌশল: 'সংশপ্তক' শব্দটি দিয়ে শহীদুল্লাহ কায়সারের নামটিকে একটি নির্দিষ্ট ছন্দের সাথে মিলিয়ে নিতে পারেন। যেমন—'স' তে সংশপ্তক এবং 'স' তে শহীদুল্লাহ কায়সার।
- মূল প্রেক্ষাপট: এটি মূলত গ্রামীণ সমাজের বিবর্তন ও মানুষের টিকে থাকার লড়াই নিয়ে লেখা একটি অসাধারণ উপন্যাস।
পরীক্ষায় বারবার আসা এই প্রশ্নটি মনে রাখতে শুধু লেখকের নামের সাথে উপন্যাসের নামটির একটি সংযোগ তৈরি করে নিলেই হবে।