২৬তম (বিশেষ) বিসিএস (শিক্ষা) প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান 2004
‘তাজকেরাতুল আউলিয়া’ অবলম্বনে ‘তাপসমালা’ কে রচনা করেন?
সঠিক উত্তর হলো গিরিশচন্দ্র সেন। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ বাংলা সাহিত্যে অনুবাদকর্মের ক্ষেত্রে তাঁর নাম বিশেষভাবে পরিচিত।
- ফারসি ভাষায় রচিত বিখ্যাত সুফি সাধকদের জীবনীগ্রন্থ ‘তাজকেরাতুল আউলিয়া’-এর ভাবানুবাদ বা বাংলা রূপান্তরই হলো ‘তাপসমালা’।
- গিরিশচন্দ্র সেন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে এই বিশাল গ্রন্থটি বাংলায় অনুবাদ করেন, যা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সহজ কথায়, আপনি যখনই ‘তাপসমালা’র নাম শুনবেন, তখনই মনে রাখবেন এটি গিরিশচন্দ্র সেনের অনবদ্য একটি অনুবাদকর্ম।
‘দারিদ্র্য’ কবিতাটি নজরুল ইসলামের কোন্ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
সঠিক উত্তর হলো সিন্ধুহিন্দোল। কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী চেতনার এক অনন্য প্রকাশ হলো এই কাব্যগ্রন্থটি।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- নজরুলের কাব্যগ্রন্থগুলোর নাম মনে রাখা অনেক সময় কঠিন মনে হতে পারে। এক্ষেত্রে 'সিন্ধুহিন্দোল' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের অন্যতম প্রধান কবিতা হলো 'দারিদ্র্য', যেখানে কবি দারিদ্র্যকে পরম বন্ধু হিসেবে বরণ করে নিয়েছেন।
- পরীক্ষায় বারবার আসা এই তথ্যটি মনে রাখতে আপনি একটি ছোট ছন্দ বা কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারেন: সিন্ধুর ঢেউয়ে দারিদ্র্য। এতে খুব সহজেই মনে থাকবে যে 'দারিদ্র্য' কবিতাটি 'সিন্ধুহিন্দোল' কাব্যের অংশ।
দাপ্তরিক কোন্ শব্দটি ইংরেজি ভাষা থেকে আগত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো এজেন্ট। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত অনেক ইংরেজি শব্দ বাংলা ভাষায় সরাসরি মিশে গেছে।
- এজেন্ট শব্দটি ইংরেজি Agent শব্দ থেকে সরাসরি বাংলায় এসেছে।
- ভাষাবিজ্ঞানের ভাষায় এগুলোকে 'বিদেশি শব্দ' বা 'ইংরেজি আগত শব্দ' বলা হয়।
- অন্যান্য অপশনগুলো যেমন—আইন, দাখিল বা মুচলেকা মূলত ফারসি বা আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ, ইংরেজি থেকে নয়।
তাই দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত শব্দগুলোর মধ্যে এজেন্ট-ই একমাত্র ইংরেজি শব্দ।
‘নেমেসিস’ কোন জাতীয় রচনা?
সঠিক উত্তর হলো নাটক।
‘নেমেসিস’ হলো প্রখ্যাত সাহিত্যিক নূরুল মোমেনের লেখা একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কালজয়ী নাটক। এই নাটকটি বাংলা সাহিত্যে আধুনিক নাট্যধারার বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে পরিচিত। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- এটি মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক।
- নূরুল মোমেন এই নাটকের মাধ্যমে তৎকালীন সমাজের নানা অসঙ্গতি ও মানুষের মানসিক দ্বন্দ্বকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
- সাহিত্যের বিভিন্ন পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি বারবার আসে, তাই এটি মনে রাখা খুব সহজ—‘নেমেসিস’ বললেই মাথায় আসবে এটি একটি শক্তিশালী নাটক।
‘তােমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি’ রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যের কবিতা?
সঠিক উত্তর হলো শেষলেখা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনের কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- রবীন্দ্রনাথের জীবনের একেবারে শেষ পর্যায়ে লেখা কবিতাগুলো সাধারণত শেষলেখা কাব্যগ্রন্থে স্থান পেয়েছে।
- ‘তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি’—এই বিখ্যাত পঙক্তিটি তার জীবনের শেষ দিকের গভীর দার্শনিক চিন্তার প্রতিফলন, যা এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুরের সাথে মিলে যায়।
‘জয়গুন’ কোন উপন্যাসের চরিত্র?
সঠিক উত্তর হলো সূর্য দীঘল বাড়ী। আবু ইসহাক রচিত এই কালজয়ী উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র হলো জয়গুন।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং পঞ্চাশের মন্বন্তরের সময়কার গ্রামীণ সমাজ।
- জয়গুন এখানে একজন সংগ্রামী ও সাহসী নারীর প্রতীক, যে প্রতিকূল পরিস্থিতির সাথে লড়াই করে টিকে থাকার চেষ্টা করে।
- এই উপন্যাসের নাম শুনলেই জয়গুনের অদম্য মানসিকতার কথা আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
‘নবান্ন’ শব্দটি কোন প্রক্রিয়ায় গঠিত?
‘নবান্ন’ শব্দটি মূলত সমাস প্রক্রিয়ায় গঠিত। এটি একটি কর্মধারয় সমাস। বিষয়টি খুব সহজভাবে এভাবে বোঝা যায়:
- ‘নবান্ন’ শব্দটিকে ভাঙলে আমরা পাই ‘নব’ (নতুন) + ‘অন্ন’।
- এখানে ‘নব’ শব্দটি ‘অন্ন’-এর বিশেষ্য বা গুণ বোঝাচ্ছে।
- ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, যখন কোনো বিশেষ্য বা বিশেষণ পদের সাথে বিশেষ্য পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায়, তখন তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- অর্থাৎ, নতুন যে অন্ন—এটাই হলো নবান্ন।
সহজ কথায়, দুটি পদের মিলনে যখন একটি নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয় এবং সেটি সমাসের নিয়ম মেনে চলে, তখন তাকে সমাসবদ্ধ শব্দ বলা হয়। তাই নবান্ন একটি চমৎকার সমাসবদ্ধ উদাহরণ।
কোনটি “পক্ব” অর্থে প্রকাশ পায়?
সঠিক উত্তর হলো পাকা আম। বিষয়টি খুব সহজ, একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন:
- বাংলা ভাষায় 'পক্ব' শব্দের অর্থ হলো যা পরিপক্ক বা যা খাওয়ার উপযোগী হয়েছে।
- গাছে যখন আম পাকে, তখন সেটি খাওয়ার জন্য পুরোপুরি তৈরি বা পক্ব অবস্থায় থাকে।
- অন্যান্য ক্ষেত্রে 'পাকা' শব্দটি অভিজ্ঞতা বা স্থায়িত্ব বোঝাতে ব্যবহৃত হলেও, একমাত্র ফলের ক্ষেত্রেই এটি সরাসরি 'পক্ব' বা পরিপক্কতা নির্দেশ করে।
তাই সহজ কথায়, আম যখন পেকে যায়, তখন তাকেই আমরা ব্যাকরণগতভাবে 'পক্ব' বলে থাকি।
প্র, পরা, অপ—
ভানু সিংহ ঠাকুরের পদাবলী’-এর রচয়িতা কে?
‘ভানু সিংহ ঠাকুরের পদাবলী’-এর রচয়িতা হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন খুব কম বয়সী ছিলেন, তখন তিনি বৈষ্ণব পদাবলির অনুকরণে এই পদগুলো লিখেছিলেন।
- তিনি নিজের নাম গোপন রেখে 'ভানুসিংহ' ছদ্মনামে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ করেছিলেন।
- তাই সাহিত্যের ইতিহাসে এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিশেষ সৃষ্টি হিসেবে পরিচিত।