৩৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০১৫
কোনটি বাক্যের বৈশিষ্ট্য নয়?
সঠিক উত্তর হলো আসক্তি। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ একটি সার্থক বাক্যের তিনটি প্রধান গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকে, যা ব্যাকরণগতভাবে নির্ধারিত। সেগুলো হলো:
- আকাঙ্ক্ষা: বাক্যের অর্থ পুরোপুরি বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছা।
- আসত্তি: বাক্যের অর্থ ঠিক রাখার জন্য পদগুলোকে সঠিক জায়গায় বা ক্রমানুসারে সাজানো।
- যোগ্যতা: বাক্যের অন্তর্গত পদগুলোর অর্থের সামঞ্জস্য ও ভাবের মিল থাকা।
এখানে আসক্তি শব্দটি মূলত কোনো কিছুর প্রতি তীব্র টান বা নেশাকে বোঝায়, যা ব্যাকরণ অনুযায়ী বাক্যের কোনো বৈশিষ্ট্য নয়। তাই এটিই সঠিক উত্তর। মনে রাখার জন্য শুধু এই তিনটি শব্দ (আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, যোগ্যতা) মাথায় রাখলেই চলবে!
বর্তমান বিশ্বের কোন দেশটির সংবিধানকে শান্তি সংবিধান বলা হয়?
সঠিক উত্তর হলো জাপান। এর পেছনের কারণটি বেশ চমৎকার এবং ঐতিহাসিক।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৬ সালে জাপানের সংবিধান প্রণয়ন করা হয়।
- এই সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, জাপান রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক বিরোধ মেটাতে যুদ্ধ বা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবে না।
- বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে জাপান তাদের সংবিধানে যুদ্ধকে চিরতরে বর্জন করার অঙ্গীকার করেছে, তাই একে শান্তি সংবিধান বা Peace Constitution বলা হয়।
Global Terrorism Index’ ২০১৪ অনুযায়ী বিশ্বে সর্বাপেক্ষা ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র
গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০১৪ অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির দিক থেকে তালিকার শীর্ষে ছিল ইরাক। এই সূচকটি মূলত কোনো দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রভাব, মৃত্যুর সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়।
- ২০১৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাকে সন্ত্রাসী হামলার তীব্রতা এবং এর ফলে প্রাণহানির সংখ্যা ছিল বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় অনেক বেশি।
- সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহতা পরিমাপের স্কেলে ইরাকের স্কোর ছিল সর্বোচ্চ, যা দেশটিকে তালিকার ১ নম্বর অবস্থানে নিয়ে আসে।
সহজ কথায়, সেই সময়ে বিশ্বজুড়ে চলা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ইরাকই ছিল সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী রাষ্ট্র।
জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির ব্যাপকতা তুলে ধরার জন্য কোন দেশটি সমুদ্রের গভীরে মন্ত্রীসভার বৈঠক করেছে?
সঠিক উত্তর হলো মালদ্বীপ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার যে ভয়াবহ ঝুঁকি রয়েছে, তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতেই মালদ্বীপ এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপটি নিয়েছিল।
বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ:
- ২০০৯ সালে মালদ্বীপের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম আন্ডারওয়াটার ক্যাবিনেট মিটিং আয়োজন করেন।
- তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বনেতাদের বোঝানো যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মালদ্বীপের মতো নিচু দেশগুলো মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
- এই সাহসী উদ্যোগটি বিশ্বজুড়ে জলবায়ু সচেতনতা তৈরিতে দারুণ প্রভাব ফেলেছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পূর্ব-পশ্চিম দ্বন্দ্বের ফলে সৃষ্ট পূর্বের অর্থনৈতিক জোটটির নাম ছিল
সঠিক উত্তর হলো কমেকন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং এর মিত্র দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার জন্য এই জোট গঠন করা হয়েছিল।
বিষয়টি সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- কমেকন (COMECON) এর পূর্ণরূপ হলো 'কাউন্সিল ফর মিউচুয়াল ইকোনমিক অ্যাসিস্ট্যান্স'।
- এটি মূলত ১৯৪৯ সালে গঠিত হয়েছিল পশ্চিমা দেশগুলোর 'মার্শাল প্ল্যান'-এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে।
- এর মূল লক্ষ্য ছিল পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য বৃদ্ধি করা।
তাই পূর্ব-পশ্চিম দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে পূর্ব ব্লকের অর্থনৈতিক জোট হিসেবে কমেকন-ই ছিল প্রধান মাধ্যম।
ব্রিকসের সর্বশেষ শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়—
সঠিক উত্তর হলো ব্রাজিল। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ বৈঠকের আয়োজন সাধারণত একটি নির্দিষ্ট আবর্তন বা রোটেশন পদ্ধতিতে হয়ে থাকে।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- ব্রিকস (BRICS) নামের প্রতিটি অক্ষর পর্যায়ক্রমে সদস্য দেশগুলোর নাম নির্দেশ করে।
- এই আবর্তন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় পরপর ব্রাজিল এই সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।
- সর্বশেষ বা সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকের ভেন্যু হিসেবে ব্রাজিলকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সহজ কথায়, ব্রিকসের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নামের আদ্যক্ষর অনুসরণ করলেই আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন কোন দেশের পর কার পালা আসছে। তাই এখানে ব্রাজিলই সঠিক উত্তর।
‘উইঘুর’ হলাে—
সঠিক উত্তর হলো চীনের একটি সম্প্রদায়ের নাম। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায় এভাবে:
- উইঘুর হলো মূলত চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে বসবাসকারী একটি তুর্কিভাষী মুসলিম জাতিগোষ্ঠী।
- এরা চীনের প্রধান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে অন্যতম, যাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য রয়েছে।
- ভৌগোলিক ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের দিক থেকে উইঘুররা চীনের একটি সুপরিচিত ও স্বতন্ত্র জনপদ বা সম্প্রদায় হিসেবে স্বীকৃত।
১৯৮২ সালের সমুদ্র আইন সংক্রান্ত কনভেনশন অনুযায়ী একটি উপকুলীয় রাষ্ট্রের মহীসােপানের (Continental Shelf) সীমা হবে ভিত্তি রেখা হতে –
১৯৮২ সালের সমুদ্র আইন বা UNCLOS অনুযায়ী, একটি উপকূলীয় রাষ্ট্রের মহীসোপান বা কন্টিনেন্টাল শেলফের সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সাধারণত মহীসোপান ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে, তবে বিশেষ ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতির ক্ষেত্রে এটি আরও বাড়ানো যায়।
সহজ কথায় এর হিসাবটি হলো:
- সাধারণত মহীসোপানের সীমা ভিত্তি রেখা থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত ধরা হয়।
- কিন্তু যদি মহীসোপানের প্রাকৃতিক বিস্তার আরও বেশি হয়, তবে তা সর্বোচ্চ ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত হতে পারে।
অর্থাৎ, আইন অনুযায়ী কোনো উপকূলীয় রাষ্ট্র তার মহীসোপানের অধিকার ভিত্তি রেখা থেকে সর্বোচ্চ ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত দাবি করতে পারে। তাই সঠিক উত্তরটি হলো ৩৫০ নটিক্যাল মাইল।
মংডু কোন দুটি দেশের সীমান্ত এলাকা?
সঠিক উত্তর হলো বাংলাদেশ-মায়ানমার। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- মংডু মূলত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর।
- ভৌগোলিকভাবে এটি নাফ নদীর তীরে অবস্থিত, যা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে আলাদা করেছে।
- টেকনাফ সীমান্তের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত হওয়ায় এটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার প্রধান সীমান্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত।
সহজ কথায়, নাফ নদী পার হলেই মংডু, তাই এটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকা।
কার্টাগেনা প্রটোকল হচ্ছে –
কার্টাগেনা প্রটোকল হলো মূলত জৈব নিরাপত্তা বা বায়োসেফটি নিশ্চিত করার একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। সহজ কথায়, জেনেটিক্যালি মডিফাইড অর্গানিজম (GMO) বা জীবপ্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি পণ্যগুলো এক দেশ থেকে অন্য দেশে নেওয়ার সময় পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।
- এটি ২০০০ সালে গৃহীত হয় এবং ২০০৩ সালে কার্যকর হয়।
- এর মূল উদ্দেশ্য হলো আধুনিক জীবপ্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার ও আদান-প্রদান নিশ্চিত করা।
- এটি জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার জন্য 'কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি' (CBD)-এর একটি অংশ হিসেবে কাজ করে।
তাই মনে রাখার সহজ উপায় হলো—কার্টাগেনা = জৈব নিরাপত্তা।