৩৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০১৫
হপ্ত পয়কর’ কার রচনা?
সঠিক উত্তর হলো সৈয়দ আলাওল।
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি সৈয়দ আলাওল তাঁর পাণ্ডিত্য এবং কাব্যশৈলীর জন্য বিখ্যাত। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘হপ্ত পয়কর’ অন্যতম। এটি মূলত ফারসি কবি নিজামীর ‘হপ্ত পয়কর’ কাব্যের ভাবানুবাদ।
- মূল তথ্য: সৈয়দ আলাওল আরাকান রাজসভার কবি ছিলেন।
- কাব্য বৈশিষ্ট্য: ‘হপ্ত পয়কর’ কাব্যটি সাতটি উপাখ্যানের সমন্বয়ে গঠিত, যা তৎকালীন সময়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
সহজ কথায়, মধ্যযুগের রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান বা অনুবাদ সাহিত্যের কথা বললেই সৈয়দ আলাওলের নাম সবার আগে আসে, তাই এই প্রশ্নের উত্তর মনে রাখা বেশ সহজ।
পুরষ্কার-বিতরণী অনুষ্ঠানের পরিবেশ এত অপরিস্কার”। বাক্যটির নিম্নরেখ পদে য/সব্যবহার –
এখানে সঠিক উত্তর হলো দুটোই অশুদ্ধ। কারণ বানানগুলো ব্যাকরণগতভাবে ভুল। চলুন দেখে নিই সঠিক রূপ কী হবে:
- পুরষ্কার: এটি ভুল বানান। সঠিক বানান হলো পুরস্কার। এখানে 'স'-এর পরিবর্তে 'ষ' হবে না, কারণ 'পুরস' ধাতুর সাথে 'কার' যুক্ত হয়ে এই শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- অপরিস্কার: এটিও ভুল বানান। সঠিক বানান হলো অপরিষ্কার। 'পরিষ্কার' শব্দে সবসময় মূর্ধন্য-ষ (ষ) ব্যবহৃত হয়, দন্ত্য-স (স) নয়।
সহজ কথায়, পুরস্কারে দন্ত্য-স এবং পরিষ্কারে মূর্ধন্য-ষ ব্যবহার করাই হলো শুদ্ধ নিয়ম। তাই প্রদত্ত বাক্যের দুটি শব্দই ভুল।
বণ’ শব্দের বিশেষ্য কোনটি?
সঠিক উত্তর হলো লাবণ্য।
ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, বিশেষ্য পদ বলতে কোনো কিছুর নামকে বোঝায়। এখানে বিষয়টি খুব সহজ:
- 'বণ' বা 'লবণ' শব্দটির বিশেষ্য রূপ হলো লাবণ্য, যা মূলত সৌন্দর্য বা রূপের মাধুর্যকে প্রকাশ করে।
- অন্যান্য অপশনগুলো মূলত বিশেষণ পদ, কারণ সেগুলো কোনো কিছুর গুণ বা অবস্থা প্রকাশ করে।
তাই মনে রাখার সহজ উপায় হলো, যখনই কোনো শব্দের বিশেষ্য রূপ খুঁজতে বলা হবে, তখন সেই শব্দটি দিয়ে কোনো কিছুর নাম বা গুণবাচক নাম তৈরি করা যায় কি না তা যাচাই করে দেখা।
কোন বিখ্যাত ম্যাগাজিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির কবি (Poet of Politics) আখ্যা দিয়েছিল?
সঠিক উত্তর হলো নিউজ উইকস। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায়:
- ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল বিখ্যাত আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন নিউজ উইকস তাদের প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধুকে "Poet of Politics" বা "রাজনীতির কবি" হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল।
- তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের গভীরতা এবং জনমানুষের ওপর তার অসামান্য প্রভাবকে মূল্যায়ন করতেই তারা এই বিশেষ উপাধিটি ব্যবহার করে।
সহজ কথায়, বিশ্বমঞ্চে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও কাব্যিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই এই ম্যাগাজিনটি তাকে এই অনন্য সম্মানে ভূষিত করে।
ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিঃ এর উৎপাদিত সার-এর নাম কোনটি?
ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড (NGFFL) মূলত ইউরিয়া সার উৎপাদনের জন্য পরিচিত হলেও, এর পাশাপাশি তারা অ্যামোনিয়াম সালফেট বা এএসপি (ASP) উৎপাদন করে। তাই সঠিক উত্তর হলো ইউরিয়া এবং এএসপি।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- এই কারখানাটি প্রাকৃতিক গ্যাসকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে।
- গ্যাস থেকে অ্যামোনিয়া তৈরি হয়, যা থেকে পরবর্তীতে ইউরিয়া এবং এএসপি সার প্রস্তুত করা হয়।
ম্যানগ্রোভ কি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো উপকূলীয় বন। ম্যানগ্রোভ বা সুন্দরবন হলো মূলত উপকূলীয় অঞ্চলের নোনা মাটিতে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বন, যা জোয়ার-ভাটার পলিমাটিতে জন্মে এবং উপকূলকে জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা করে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন বেলফোর ঘােষণা ১৯১৭ এর মূল প্রতিপাদ্য ছিল—
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯১৭ সালের এই ঐতিহাসিক ঘোষণার মূল লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনের মাটিতে ইহুদীদের জন্য একটি নিজস্ব আবাসভূমি বা জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার বেলফোর এই ঘোষণাটি দিয়েছিলেন, যা মূলত জায়নবাদী আন্দোলনের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে পরিচিত।
সহজ কথায় মনে রাখার উপায়:
- সময়কাল: ১৯১৭ সাল (প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন)।
- মূল উদ্দেশ্য: ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইহুদীদের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি প্রদান।
- গুরুত্ব: এটিই ছিল আধুনিক ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি বা প্রাথমিক ধাপ।
‘ডমিনো’ তত্ত্বটি কোন অঞ্চলের জন্য প্রযােজ্য ছিল?
সঠিক উত্তর হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। এই তত্ত্বটি মূলত স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার একটি রাজনৈতিক ধারণা, যা খুব সহজভাবে বোঝা যায়:
- মূল ধারণা: এই তত্ত্ব অনুযায়ী, একটি দেশে যদি কমিউনিজম বা সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তার পাশের দেশগুলোতেও একইভাবে তা ছড়িয়ে পড়বে।
- কেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভয় পেত যে, ভিয়েতনামে কমিউনিজম সফল হলে একে একে লাওস, কম্বোডিয়া এবং থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোও ডমিনো গেমের মতো পড়ে যাবে বা সমাজতান্ত্রিক হয়ে যাবে।
- সহজ মনে রাখার উপায়: ডমিনো মানেই হলো সারিবদ্ধভাবে সাজানো ব্লকের একটির ধাক্কায় অন্যটির পড়ে যাওয়া। স্নায়ুযুদ্ধের সময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে ঠিক এভাবেই একটির পর একটি পতনের ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চল হিসেবে দেখা হতো।
‘গ্লাসনস্তনীতি’ কোন দেশে চালু হয়েছিল?
সঠিক উত্তর হলো সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- গ্লাসনস্ত (Glasnost) শব্দটির অর্থ হলো 'উন্মুক্তকরণ' বা 'স্বচ্ছতা'।
- আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থায় সংস্কার আনার জন্য এই নীতি চালু করেছিলেন।
- মূলত সোভিয়েত ইউনিয়নের একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় কিছুটা স্বচ্ছতা ও বাক-স্বাধীনতা আনার লক্ষ্যেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
সহজ কথায়, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ও পরিবর্তনের ইতিহাসের সাথে এই 'গ্লাসনস্ত' নীতিটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সার্ক অঞ্চলের বাহিরে আমন্ত্রিত রাষ্ট্রেরসংখ্যা –
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির প্রথম শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সার্ক (SAARC) অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এই আমন্ত্রিত রাষ্ট্রের সংখ্যা ছিল ২টি।
- দেশ দুটি হলো মরিশাস এবং সেশেলস।
- সার্কভুক্ত দেশগুলোর বাইরে এই দুটি রাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মূলত ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে।
সহজ কথায়, সার্কের ৮টি সদস্য দেশের বাইরে বিশেষ অতিথি হিসেবে এই ২ টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাই সঠিক উত্তর হলো ২।