৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০১৭
ক্রমহ্রাসমান হারে ওজোনস্তর ক্ষয়কারী উপাদান বিলীনের বিষয়টি কোন চুক্তিতে বলা হয়েছে?
সঠিক উত্তর হলো মন্ট্রিল প্রটোকল। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ ওজোনস্তর রক্ষা করার জন্য এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে সফল এবং কার্যকর আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- মন্ট্রিল প্রটোকল মূলত ১৯৮৭ সালে স্বাক্ষরিত হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল ওজোনস্তর ক্ষয়কারী গ্যাস যেমন—ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) বা হ্যালনের উৎপাদন ও ব্যবহার পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা।
- এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের দেশগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ক্ষতিকারক উপাদানগুলো বিলীন করার প্রতিশ্রুতি দেয়, যা ওজোনস্তরকে পুনরায় সুস্থ করে তুলতে সাহায্য করছে।
- সহজ কথায়, ওজোনস্তর নিয়ে যেকোনো বড় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ বা চুক্তির কথা শুনলেই চোখ বন্ধ করে মন্ট্রিল প্রটোকল-কে বেছে নেওয়া যায়।
ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ গঠিত হয় :
ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ গঠিত হয়েছে টারশিয়ারী যুগে। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলগুলো, যেমন—চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহের কিছু অংশ এই টারশিয়ারী যুগে গঠিত হয়েছে।
- ভূ-তাত্ত্বিক সময়রেখা অনুযায়ী, এই পাহাড়গুলোই বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ভূখণ্ড।
- সহজ কথায়, হিমালয় পর্বতমালা সৃষ্টির সময় যে ভূ-আন্দোলন হয়েছিল, সেই একই সময়ে বাংলাদেশের এই পাহাড়ি এলাকাগুলো গঠিত হয়, যা আমাদের ভূ-তাত্ত্বিক ইতিহাসের সবচেয়ে পুরনো অধ্যায়।
বাংলাদেশের এফ, সি, ডি, আই প্রকল্পের উদ্দেশ্য:
সঠিক উত্তর হলো উপরের তিনটি (ক, খ, গ)। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায় এর নামের মাধ্যমেই।
FCDI প্রকল্পের পূর্ণরূপ হলো Flood Control, Drainage and Irrigation। এর প্রতিটি অংশ একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পূরণ করে:
- Flood Control (বন্যা নিয়ন্ত্রণ): বাঁধ বা অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে বন্যা থেকে এলাকাকে রক্ষা করা।
- Drainage (পানি নিষ্কাশন): জলাবদ্ধতা দূর করতে খাল বা ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা।
- Irrigation (পানি সেচ): শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজের জন্য পানির সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
অর্থাৎ, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং দুর্যোগ মোকাবিলা করা। তাই এই তিনটি অপশনই এর অন্তর্ভুক্ত।
বাংলাদেশের জলবায়ু কী ধরনের?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু। এর কারণ হলো আমাদের দেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ঋতু পরিবর্তনের ধরন। বিষয়টি খুব সহজভাবে এভাবে বোঝা যায়:
- বাংলাদেশ কর্কটক্রান্তি রেখার কাছাকাছি অবস্থিত, তাই এখানকার জলবায়ু মূলত ক্রান্তীয় প্রকৃতির।
- আমাদের দেশে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, যা জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- এই দুইয়ের সংমিশ্রণে বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু হিসেবে পরিচিত।
সহজ কথায়, ভৌগোলিক অবস্থান এবং মৌসুমি বায়ুর প্রভাবের কারণেই বাংলাদেশ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
নিচের কোন জেলাতে প্লাইস্টোসিন চত্বরভূমি রয়েছে?
সঠিক উত্তর হলো গাজীপুর। প্লাইস্টোসিন চত্বরভূমি বা সোপান অঞ্চল মূলত বাংলাদেশের মধুপুর ও ভাওয়াল গড়ের অংশবিশেষ।
বিষয়টি সহজে মনে রাখার উপায়:
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিন চত্বরভূমি মূলত তিনটি প্রধান অঞ্চলে বিস্তৃত: মধুপুর গড়, ভাওয়াল গড় এবং লালমাই পাহাড়।
- গাজীপুর জেলাটি ভাওয়াল গড়ের অন্তর্ভুক্ত, তাই ভৌগোলিক গঠন অনুযায়ী এখানে প্লাইস্টোসিন যুগের মাটির বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়।
- এই অঞ্চলের মাটি সাধারণত লালচে রঙের এবং বেশ পুরনো, যা প্লাইস্টোসিন আমলের ভূ-তাত্ত্বিক গঠনের প্রমাণ দেয়।
আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলকে মূলত সাহেল নামে অভিহিত করা হয়। এই অঞ্চলটি সাহারা মরুভূমির ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত একটি বিশাল এলাকা যা আটলান্টিক মহাসাগর থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- ভৌগোলিক অবস্থান: সাহারা মরুভূমির উত্তপ্ত বালুকাময় পরিবেশ এবং দক্ষিণের আর্দ্র সাভানা অঞ্চলের মধ্যবর্তী একটি রূপান্তরকালীন বা ট্রানজিশন জোন হলো এই সাহেল।
- নামের অর্থ: আরবি শব্দ 'সাহিল' থেকে এই নামের উৎপত্তি, যার অর্থ হলো 'উপকূল' বা 'প্রান্ত'। অর্থাৎ, সাহারা মরুভূমি নামক বিশাল বালুর সাগরের দক্ষিণ প্রান্তকেই সাহেল বলা হয়।
কোনটি জলবায়ুর উপাদান নয়?
সঠিক উত্তর হলো সমুদ্রস্রোত। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় এভাবে:
- জলবায়ুর উপাদান বলতে মূলত সেই বিষয়গুলোকে বোঝায় যা কোনো স্থানের আবহাওয়া বা জলবায়ুর প্রকৃতি সরাসরি নির্ধারণ করে।
- উষ্ণতা, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহ—এই তিনটি বিষয় বায়ুমণ্ডলের অবস্থার সাথে সরাসরি যুক্ত, তাই এগুলো জলবায়ুর মূল উপাদান।
- অন্যদিকে, সমুদ্রস্রোত হলো জলবায়ুর একটি নিয়ন্ত্রক। এটি সমুদ্রের পানির গতির কারণে ঘটে এবং পরোক্ষভাবে কোনো অঞ্চলের জলবায়ুকে প্রভাবিত করে, কিন্তু এটি সরাসরি জলবায়ুর উপাদান নয়।
নিচের কোন ভৌগোলিক এলাকাটি ‘রামসার সাইট’ হিসেবে স্বীকৃত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো টাঙ্গুয়ার হাওড়। কারণ এটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সুন্দর একটি জলাভূমি, যা জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং আন্তর্জাতিকভাবে জলাভূমি সংরক্ষণের স্বীকৃতি স্বরূপ 'রামসার সাইট' হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। সহজ কথায়, আমাদের দেশের যেসব জলাভূমি বিশ্বজুড়ে পরিবেশগত দিক থেকে অত্যন্ত মূল্যবান বলে বিবেচিত, তার মধ্যে টাঙ্গুয়ার হাওড় অন্যতম!
পাখা’ জাতীয় ভূমিরূপ গড়ে উঠে-
সঠিক উত্তর হলো পাহাড়ের পাদদেশে। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় এভাবে:
- পাহাড় বা পর্বত থেকে যখন কোনো নদী সমভূমিতে নেমে আসে, তখন তার গতিবেগ হঠাৎ করেই অনেক কমে যায়।
- গতিবেগ কমে যাওয়ার ফলে নদী তার সাথে বয়ে আনা পলি, বালি ও পাথরগুলো পাহাড়ের ঢালের ঠিক নিচেই জমা করতে শুরু করে।
- এই জমা হওয়া পদার্থগুলো দেখতে অনেকটা হাতপাখার মতো আকৃতি ধারণ করে, তাই একে পলি পাখা বা অ্যালুভিয়াল ফ্যান (Alluvial Fan) বলা হয়।
সহজ কথায়, পাহাড়ের ঢাল থেকে সমভূমিতে প্রবেশের মুখে নদীর স্রোত বাধাগ্রস্ত হয় বলেই এই বিশেষ ভূমিরূপটি তৈরি হয়।
‘সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫-৩০’ হচ্ছে একটি-
সঠিক উত্তর হলো দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক মূলত জাতিসংঘের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা ২০১৫ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর জন্য কাজ করে।
- এটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা নির্দিষ্ট দুর্যোগের (যেমন শুধু ভূমিকম্প বা সুনামি) জন্য নয়, বরং সব ধরনের প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর একটি সমন্বিত বৈশ্বিক পরিকল্পনা।
- সহজ কথায়, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করাই এই ফ্রেমওয়ার্কের মূল লক্ষ্য।