৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০২১
বিধবার প্রেম নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
সঠিক উত্তর হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি’। এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস হিসেবে পরিচিত, যেখানে বিধবা নারীর মনের জটিল অনুভূতি ও টানাপোড়েনকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- মূল উপজীব্য: উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিনোদিনী একজন বিধবা, যার জীবনের একাকীত্ব, প্রেম এবং সামাজিক বিধিনিষেধের লড়াই এই গল্পের মূল ভিত্তি।
- কেন এটি অনন্য: রবীন্দ্রনাথ এখানে প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে বিধবা নারীর মনস্তত্ত্বকে অত্যন্ত সাহসের সাথে উপস্থাপন করেছেন, যা সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে ছিল একেবারেই নতুন।
জেলে জীবন কেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো গঙ্গা। কারণ এই উপন্যাসটির মূল বিষয়বস্তুই হলো পশ্চিমবঙ্গের নদীমাতৃক অঞ্চলের জেলে বা মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের মানুষের কঠিন সংগ্রাম, জীবনযাত্রা এবং তাদের সুখ-দুঃখের গল্প। কথাসাহিত্যিক সমরেশ বসু অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে জেলে জীবনের এই না বলা কথাগুলো এই উপন্যাসে ফুটিয়ে তুলেছেন।
“ডিঙি টেনে বের করতে হবে”। – কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ভাববাচ্য। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় যদি আমরা বাক্যের গঠন লক্ষ্য করি:
- ভাববাচ্যে সাধারণত ক্রিয়ার অর্থ বা ভাবটিই প্রধান হয়ে ওঠে।
- এখানে 'ডিঙি টেনে বের করতে হবে' বাক্যটিতে কোনো নির্দিষ্ট কর্তার চেয়ে কাজটি সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।
- যখন বাক্যে কর্তার চেয়ে ক্রিয়ার অর্থ বা কাজটিই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায় এবং ক্রিয়াটি সাধারণত নামধাতু বা অকর্মক হয়, তখন সেটি ভাববাচ্য হয়।
সহজ কথায়, এই বাক্যে 'ডিঙি টেনে বের করা' একটি দায়বদ্ধতা বা কাজের ধরনকে নির্দেশ করছে, যা ভাববাচ্যের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
বাংলা সাহিত্যে “কালকূট” নামে পরিচিত কোন লেখক?
বাংলা সাহিত্যে সমরেশ বসু ‘কালকূট’ ছদ্মনামে পরিচিত। তিনি মূলত তার গভীর জীবনবোধ এবং সমাজ সচেতনতামূলক উপন্যাসের জন্য এই ছদ্মনামটি ব্যবহার করতেন।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু তথ্য:
- সমরেশ বসু যখন খুব আবেগপ্রবণ বা জীবনমুখী কোনো উপন্যাস লিখতেন, তখন তিনি ‘কালকূট’ নামটি ব্যবহার করতেন।
- তার এই ছদ্মনামে লেখা বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর মধ্যে ‘অমৃত কুম্ভের সন্ধানে’ অন্যতম।
- পরীক্ষায় প্রায়ই এই ছদ্মনামটি থেকে প্রশ্ন আসে, তাই নামটি মনে রাখা খুব জরুরি।
“পরানের গহীন ভিতর” কাব্যের কবি কে?
সঠিক উত্তর হলো সৈয়দ শামসুল হক।
এই কাব্যগ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। এটি মনে রাখার জন্য একটি সহজ কৌশল অবলম্বন করতে পারেন:
- সৈয়দ শামসুল হকের লেখার হাত ছিল জাদুকরী, তিনি গ্রামীণ জীবন ও মানুষের মনের গভীরের কথা খুব চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলতেন।
- "পরানের গহীন ভিতর" কাব্যগ্রন্থটি মূলত আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারে এক অনন্য সৃষ্টি, যা সৈয়দ শামসুল হকের নিজস্ব শৈলী বা সিগনেচার স্টাইল।
- পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি বারবার আসে, তাই কবির নামের সাথে কাব্যগ্রন্থটির নাম একবার মনে মনে মিলিয়ে নিলেই বিষয়টি স্থায়ীভাবে মনে থাকবে।
“এবার আমার একটি বিচিত্র অভিজ্ঞতা হলাে” – এ বাক্য কোন ধরনের?
এখানে সঠিক উত্তর হলো নির্দেশাত্মক। কারণটা খুব সহজ—যখন কোনো বাক্যে সরাসরি কোনো তথ্য বা ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়, তখন তাকে নির্দেশাত্মক বাক্য বলে।
- বাক্যটিতে বক্তা তার একটি অভিজ্ঞতার কথা সাধারণ বা স্বাভাবিকভাবে বর্ণনা করছেন।
- এখানে কোনো আদেশ, অনুরোধ, প্রশ্ন বা আবেগ প্রকাশ করা হয়নি।
- যেহেতু বাক্যটি কেবল একটি তথ্য বা বিবৃতি প্রদান করছে, তাই এটি নিশ্চিতভাবেই একটি নির্দেশাত্মক বাক্য।
ধ্বনিতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্বকে বাক্যে যথাযথভাবে ব্যবহার করার বিধানের নামই-
এখানে সঠিক উত্তর হলো বাক্যতত্ত্ব। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায় এভাবে:
- ধ্বনি নিয়ে কাজ করে ধ্বনিতত্ত্ব।
- শব্দ বা পদের গঠন নিয়ে কাজ করে রূপতত্ত্ব।
- আর যখন এই শব্দগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য তৈরি করা হয়, তখন সেই নিয়মগুলো যেখানে আলোচনা করা হয়, তাকেই বলা হয় বাক্যতত্ত্ব।
সহজ কথায়, শব্দের সঠিক ব্যবহার এবং বাক্যের গঠনশৈলী নিয়ে আলোচনার মূল জায়গাটিই হলো বাক্যতত্ত্ব। তাই বাক্যে শব্দের যথাযথ প্রয়োগের বিধান হিসেবে এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত।
প্রচুর + য = প্রাচুর্য; কোন প্রত্যয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো তদ্ধিত প্রত্যয়। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় এভাবে:
- বাংলা ব্যাকরণে বিশেষ্য বা বিশেষণ শব্দের সাথে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়, তাকেই তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- এখানে 'প্রচুর' একটি বিশেষণ পদ। এর সাথে 'য' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে 'প্রাচুর্য' শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- যেহেতু 'প্রচুর' কোনো ধাতু বা ক্রিয়ামূল নয়, তাই এটি কৃৎ প্রত্যয় হওয়ার সুযোগ নেই।
- সহজ কথায়, শব্দের সাথে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করলেই তা তদ্ধিত প্রত্যয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়।
পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি কার ছিল?
পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি ছিল দাশরথি রায়-এর। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'দাশু রায়' নামেই বেশি পরিচিত।
কেন তিনি সেরা ছিলেন, তার কিছু সহজ কারণ:
- তিনি পাঁচালি গানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, যা তৎকালীন সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
- তার রচিত পাঁচালিগুলোতে লৌকিক ও পৌরাণিক কাহিনীর চমৎকার সংমিশ্রণ ঘটত।
- তার ভাষার সহজ-সরল ভঙ্গি এবং ছন্দের কারুকাজ শ্রোতাদের সহজেই মুগ্ধ করত, যার ফলে তিনি পাঁচালিকার হিসেবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন।
চারণকবি হিসেবে বিখ্যাত কে?
সঠিক উত্তর হলো মুকুন্দদাস। তাকে চারণকবি বলা হয় কারণ তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় নিজের লেখা গান ও যাত্রাপালার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার চেতনা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- মুকুন্দদাস ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক কবি ও নাট্যকার।
- তিনি গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে ঘুরে তার গানের মাধ্যমে মানুষকে জাগিয়ে তুলতেন, তাই তাকে 'চারণকবি' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তার রচিত গানগুলো তৎকালীন সময়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে মানুষকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।