৪২তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা [স্বাস্থ্য ক্যাডার) প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০২১
পরীক্ষায় 'ক' এর প্রাপ্ত নম্বর যথাক্রমে ৭০,৮৫ ও ৭৫। চতুর্থ পরীক্ষায় তাকে কত নম্বর পেতে হবে যেন তার গড় প্রাপ্ত নম্বর ৮০ হয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ৯০। হিসেবটা খুব সহজ:
- ৪টি পরীক্ষায় গড় ৮০ নম্বর পেতে হলে মোট নম্বর হতে হবে: $80 \times 4 = 320$
- প্রথম ৩টি পরীক্ষায় সে মোট পেয়েছে: $70 + 85 + 75 = 230$
- অতএব, চতুর্থ পরীক্ষায় তাকে পেতে হবে: $320 - 230 = 90$
অর্থাৎ, চার পরীক্ষার গড় নম্বর ৮০ বানাতে তাকে চতুর্থ পরীক্ষায় অবশ্যই ৯০ নম্বর পেতে হবে।
প্রথম ও দ্বিতীয় সংখ্যার গুণফল ৪২ এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যার গুণফল ৪৯। দ্বিতীয় সংখ্যাটি কত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option C: 7। অংকটি সমাধান করা খুবই সহজ!
খেয়াল করে দেখুন, দ্বিতীয় সংখ্যাটি $42$ এবং $49$ দুটি গুণফলের মধ্যেই সাধারণ (common) হিসেবে আছে। তাই দ্বিতীয় সংখ্যাটি হবে $42$ ও $49$-এর গ.সা.গু (GCD)।
- $42 = 7 \times 6$
- $49 = 7 \times 7$
যেহেতু উভয় সংখ্যার মধ্যে সাধারণ গুণনীয়ক হলো $7$, তাই নির্ণেয় দ্বিতীয় সংখ্যাটি $7$।
কোন আসল ৩ বছরে সুদে-আসলে ৪৬০ টাকা এবং ৫ বছরে সুদে-আসলে ৫০০ টাকা হয়। শতকরা সুদের হার কত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option D: 5%। খুব সহজেই নিয়মটি বুঝে নেওয়া যাক:
- ৫ বছর ও ৩ বছরের সুদে-আসলের পার্থক্য থেকে পাওয়া যায়, ২ বছরের সুদ = $500 - 460 = 40$ টাকা।
- তাহলে, ১ বছরের সুদ = $\frac{40}{2} = 20$ টাকা।
- অতএব, ৩ বছরের সুদ = $20 \times 3 = 60$ টাকা।
- এখন, আসল = $460 - 60 = 400$ টাকা।
- সুতরাং, শতকরা সুদের হার = $\frac{20}{400} \times 100\% = 5\%$।
বার্ষিক শতকরা ১০ টাকা হার সুদে কোন মূলধন কত বছর পরে সুদাসলে দ্বিগুণ হবে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ১০ বছর। এ ধরনের অংক খুব সহজে একটি শর্টকাট সূত্রের সাহায্যে সমাধান করা যায়:
সুদে-আসলে টাকা দ্বিগুণ হওয়ার ক্ষেত্রে, সময় $= \frac{100}{r}$ বছর (যেখানে $r$ হলো বার্ষিক সুদের হার)।
- দেওয়া আছে, সুদের হার $r = 10\%$
- তাহলে প্রয়োজনীয় সময় $= \frac{100}{10} = 10$ বছর।
সুতরাং, বার্ষিক ১০% সুদে যেকোনো মূলধন ১০ বছর পর সুদাসলে দ্বিগুণ হবে।
একটি দ্রব্যের বিক্রয় মূল্য ৯২ টাকা। এতে বিক্রেতা লাভ হয় ১৫%। দ্রব্যটির ক্রয়মূল্য কত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ৮০ টাকা। হিসাবটি খুব সহজে এক নিয়মে করা যায়:
- ধরি, দ্রব্যটির ক্রয়মূল্য $100\%$।
- তাহলে $15\%$ লাভে বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায়: $(100 + 15)\% = 115\%$।
- প্রশ্নমতে, এই $115\%$ বিক্রয়মূল্যের মান হলো $92$ টাকা।
- সুতরাং, দ্রব্যটির আসল ক্রয়মূল্য ($100\%$) = $\frac{92 \times 100}{115} = 80$ টাকা।
পিতা ও মাতার গড় বয়স ৩৬ বছর। পিতা, মাতা ও পুত্রের গড় বয়স ২৮ বছর হলে, পুত্রের বয়স কত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ১২ বছর। অংকটি খুব সহজেই মোট বয়স বের করে সমাধান করা যায়:
- পিতা ও মাতার মোট বয়স = $36 \times 2 = 72$ বছর
- পিতা, মাতা ও পুত্র—এই ৩ জনের মোট বয়স = $28 \times 3 = 84$ বছর
এখন ৩ জনের মোট বয়স থেকে পিতা-মাতার মোট বয়স বিয়োগ করলেই পুত্রের বয়স পাওয়া যাবে: $84 - 72 = 12$ বছর।
কোন শ্রেণিতে ২৫ জন ছাত্রের বয়সের গড় ১০ বছর। শিক্ষকসহ তাদের বয়সের গড় ১২ বছর হলে, শিক্ষকের বয়স কত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ৬২ বছর। হিসাবটা খুব সহজ, চলুন দেখে নেওয়া যাক:
- ২৫ জন ছাত্রের মোট বয়স = $25 \times 10 = 250$ বছর।
- শিক্ষক যোগ হওয়ায় মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় $(25 + 1) = 26$ জন।
- শিক্ষকসহ ২৬ জনের মোট বয়স = $26 \times 12 = 312$ বছর।
সুতরাং, শিক্ষকসহ মোট বয়স থেকে ছাত্রদের মোট বয়স বাদ দিলেই শিক্ষকের বয়স পাওয়া যাবে:
শিক্ষকের বয়স = $312 - 250 = \mathbf{62}$ বছর।
তিন পুত্রের বয়সের গড় ১৬ বছর। পিতাসহ পুত্রদের বয়সের গড় ২৫ বছর। পিতার বয়স কত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ৫২ বছর। হিসাবটা খুব সহজ:
- ৩ জন পুত্রের মোট বয়স = $16 \times 3 = 48$ বছর।
- পিতাসহ মোট ৪ জনের মোট বয়স = $25 \times 4 = 100$ বছর।
এখন, ৪ জনের মোট বয়স থেকে ৩ পুত্রের মোট বয়স বাদ দিলেই পিতার বয়স বের হয়ে যাবে:
পিতার বয়স = $100 - 48 = 52$ বছর।
পিতা ও পুত্রের বয়সের সমষ্টি ৬০ বছর। মাতার বয়স পুত্রের বয়স অপেক্ষা ২০ বছর বেশি। পিতা ও মাতার গড় বয়স কত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ৪০ বছর। দারুণ এক সহজ লজিকে এটি সমাধান করা যায়:
- পিতা ও পুত্রের বয়সের সমষ্টি দেওয়া আছে $60$ বছর।
- মাতার বয়স পুত্রের চেয়ে $20$ বছর বেশি, তাই পিতা ও মাতার বয়সের সমষ্টি হবে: $60 + 20 = 80$ বছর।
- সুতরাং, পিতা ও মাতার গড় বয়স হবে: $\frac{80}{2} = 40$ বছর।
৬১২ টাকায় একটি ব্যাগ বিক্রয় করায় ১৫% ক্ষতি হয়। ব্যাগটি কত টাকায় বিক্রি করলে ১০% লাভ হবে ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ৭৯২ টাকা। এক লাইনের সহজ শর্টকাট টেকনিক দিয়ে হিসাবটি করে ফেলা যায়:
- ধরি, ব্যাগের ক্রয়মূল্য $100\%$।
- ১৫% ক্ষতিতে বিক্রয়মূল্য $= 100\% - 15\% = 85\%$।
- ১০% লাভে কাঙ্ক্ষিত বিক্রয়মূল্য $= 100\% + 10\% = 110\%$।
প্রশ্নমতে, $85\%$ এর মান $612$ টাকা। সুতরাং $110\%$ এর মান হবে:
$$\frac{612 \times 110}{85} = 792$$অর্থাৎ, ব্যাগটি ৭৯২ টাকায় বিক্রি করলে ১০% লাভ হবে।