৪৫ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০২৩
‘সুনামীর তান্ডবে অনেকেই সর্বশান্ত হয়েছে।’- বাক্যটিতে কয়টি ভুল আছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো তিনটি। বাক্যটিতে বানান ও প্রয়োগগত তিনটি ভুল রয়েছে যা নিচে সহজভাবে দেওয়া হলো:
- সুনামী: সঠিক বানান হবে সুনামি। বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে 'ই' কার ব্যবহার করা হয়।
- তান্ডবে: সঠিক বানান হবে তাণ্ডবে। 'তান্ডব' শব্দে 'ণ' এর পরিবর্তে 'ণ্ড' ব্যবহার করা সঠিক।
- সর্বশান্ত: সঠিক বানান হবে সর্বস্বান্ত। 'সর্ব' এবং 'স্বান্ত' মিলে শব্দটি গঠিত হয়, তাই এখানে একটি 'স' যুক্ত হওয়া জরুরি।
অর্থাৎ, বাক্যটির শুদ্ধ রূপ হবে: ‘সুনামির তাণ্ডবে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছে।’
কৃদন্ত পদের পূর্ববর্তী পদকে কী বলে?
কৃদন্ত পদের সাথে যে বিশেষ্য পদটি যুক্ত থাকে, তাকেই ব্যাকরণের ভাষায় উপপদ বলা হয়। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখার জন্য নিচের ধাপগুলো দেখুন:
- কৃদন্ত পদ হলো এমন শব্দ যা কোনো ধাতুর সাথে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে তৈরি হয়।
- এই কৃদন্ত পদের ঠিক আগে যে বিশেষ্য পদটি বসে নতুন অর্থ তৈরি করে, সেটিই উপপদ।
- উদাহরণস্বরূপ, 'পঙ্কজ' শব্দটি ভাঙলে পাওয়া যায় 'পঙ্ক' (কাদা) + 'জ' (জন্মে যা)। এখানে 'জ' হলো কৃদন্ত পদ এবং এর আগের 'পঙ্ক' শব্দটি হলো উপপদ।
সহজ কথায়, কৃদন্ত পদের আগের পদটিই হলো উপপদ, যা মূলত উপপদ তৎপুরুষ সমাস গঠনের মূল ভিত্তি।
‘তোমার নাম কী?’-এখানে ‘কী’ কোন প্রকারের পদ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সর্বনাম। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় এভাবে:
- ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, যখন কোনো শব্দ বিশেষ্য বা নামের পরিবর্তে বসে প্রশ্ন তৈরি করে, তখন তাকে প্রশ্নবাচক সর্বনাম বলা হয়।
- এখানে 'কী' শব্দটি কোনো নির্দিষ্ট নাম বা বস্তুর পরিবর্তে বসেছে, তাই এটি একটি সর্বনাম।
- সহজ কথায়, যদি কোনো শব্দ দিয়ে কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করা হয় এবং সেটি কোনো কিছুর নামকে নির্দেশ করে, তবে চোখ বন্ধ করে তাকে সর্বনাম হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
‘সরল’ শব্দের বিপরীতার্থক নয় নিচের কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো গরল। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ ‘সরল’ শব্দের অর্থ হলো যা সোজা বা সহজ। এর বিপরীত শব্দগুলো সাধারণত এমন কিছু বোঝায় যা প্যাঁচানো বা কঠিন, যেমন—কুটিল, জটিল বা বক্র।
- সরল শব্দের বিপরীত শব্দগুলো হলো: কুটিল, জটিল, বক্র।
- অন্যদিকে, গরল শব্দের অর্থ হলো বিষ বা হলাহল।
- যেহেতু ‘গরল’ শব্দটি ‘সরল’ শব্দের বিপরীত কোনো অর্থ প্রকাশ করে না, তাই এটিই সঠিক উত্তর।
‘Rank’ শব্দের বাংলা পরিভাষা কী?
‘Rank’ শব্দের সঠিক বাংলা পরিভাষা হলো পদমর্যাদা। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায়:
- সাধারণত কোনো অফিস, সেনাবাহিনী বা সামাজিক অবস্থানে কারো যে নির্দিষ্ট স্তর বা মর্যাদা থাকে, তাকেই ইংরেজিতে 'Rank' বলা হয়।
- বাংলায় এই অবস্থানের গুরুত্ব বোঝাতে আমরা 'পদমর্যাদা' শব্দটি ব্যবহার করি।
- অন্যান্য শব্দগুলো (যেমন: পদ, মাত্রা বা উচ্চতা) ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হলেও, 'Rank' বা পদবিগত অবস্থান বোঝাতে পদমর্যাদা-ই সবচেয়ে উপযুক্ত ও নির্ভুল শব্দ।
চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশ করেন কে?
চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশের কৃতিত্ব মূলত প্রবোধচন্দ্র বাগচী-র। তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তিব্বতি ভাষায় সংরক্ষিত চর্যাপদের অনুবাদগুলো খুঁজে বের করেন এবং সেগুলোর ওপর বিস্তারিত গবেষণা করেন।
- প্রবোধচন্দ্র বাগচী ১৯৩৮ সালে তিব্বতি ভাষায় অনূদিত চর্যাপদের পুঁথিগুলো নিয়ে কাজ শুরু করেন।
- তার এই গবেষণার মাধ্যমেই চর্যাপদের মূল তিব্বতি রূপটি বিশ্ববাসীর সামনে আসে, যা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বুঝতে আমাদের দারুণ সাহায্য করে।
সহজ কথায়, চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদের কথা শুনলেই আমাদের মনে রাখতে হবে প্রবোধচন্দ্র বাগচী-র নাম, কারণ তিনিই ছিলেন এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রধান গবেষক।
‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যের রচয়িতা জয়দেব কার সভাকবি ছিলেন?
সঠিক উত্তর হলো লক্ষ্মণ সেনের। বিষয়টি মনে রাখা খুবই সহজ।
- কবি জয়দেব ছিলেন সেন বংশের শেষ শক্তিশালী রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের একজন অন্যতম প্রধান কবি।
- তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘গীতগোবিন্দ’ মূলত রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা নিয়ে রচিত, যা সেই সময়ের সংস্কৃত সাহিত্যের এক অনন্য নিদর্শন।
- ইতিহাসের পাতায় লক্ষ্মণ সেনের রাজসভাকে ‘নবরত্ন’ বা ‘পঞ্চরত্ন’ সভার জন্য বিশেষভাবে চেনা যায়, আর জয়দেব ছিলেন সেই সভার অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র।
কবি যশোরাজ খান বৈষ্ণবপদ রচনা করেন কোন ভাষায়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ব্রজবুলি। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলির কবিদের একটি বড় অংশই তাদের পদ রচনার জন্য এই বিশেষ কৃত্রিম ভাষাটি ব্যবহার করতেন।
- ব্রজবুলি মূলত মৈথিলি এবং বাংলার একটি মিশ্র রূপ।
- কবি যশোরাজ খান শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ও বৈষ্ণব পদাবলি রচনার ক্ষেত্রে এই ভাষাটিকেই মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
- সেই সময়ে বৈষ্ণব কবিদের কাছে এই ভাষাটি ছিল ভক্তি ও আবেগের প্রকাশের প্রধান ভাষা, যা আজও সাহিত্যের ইতিহাসে স্বতন্ত্র মর্যাদা পায়।
নিচের কোন জন যুদ্ধকাব্যের রচয়িতা নন?
সঠিক উত্তর হলো সৈয়দ নূরুদ্দীন। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে যুদ্ধকাব্য বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান রচনার ধারায় অন্য কবিদের নাম বিশেষভাবে পরিচিত হলেও সৈয়দ নূরুদ্দীন এই ধারার কবি নন।
সহজভাবে মনে রাখার কৌশল:
- দৌলত উজির বাহরাম খাঁ, সাবিরিদ খাঁ এবং সৈয়দ সুলতান—এঁরা প্রত্যেকেই মধ্যযুগের কাব্যধারায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন।
- অন্যদিকে, সৈয়দ নূরুদ্দীন যুদ্ধকাব্যের রচয়িতা হিসেবে পরিচিত নন। তাই পরীক্ষার প্রশ্নে যখনই যুদ্ধকাব্যের রচয়িতা নন এমন কাউকে খুঁজে বের করতে বলা হবে, তখন এই নামটিই হবে আপনার সঠিক পছন্দ।
কোনটি কবি জৈনুদ্দিনের কাব্যগ্রন্থ?
সঠিক উত্তর হলো রসুল বিজয়। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কবি জৈনুদ্দিনের নাম বিশেষভাবে পরিচিত তার এই বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থটির জন্য।
সহজে মনে রাখার কিছু কৌশল:
- কবি জৈনুদ্দিন ছিলেন সুলতান ইউসুফ শাহের সভাকবি।
- তার রচিত রসুল বিজয় কাব্যটি মূলত মহানবী (সা.)-এর যুদ্ধ ও বিজয়ের কাহিনী অবলম্বনে লেখা।
- বাংলা সাহিত্যে 'বিজয়' কাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে এটি সমাদৃত।
পরীক্ষার জন্য এটি মনে রাখা জরুরি কারণ মধ্যযুগের কাব্যগ্রন্থগুলোর নাম প্রায়ই কাছাকাছি হয়, তাই কবির নামের সাথে কাব্যের নাম মিলিয়ে পড়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।