৪৭ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি টেস্ট প্রশ্ন সমাধান ১৯-০৯-২০২৫ (উত্তরপত্র)
’লুই ভণই গুরু পুছিঅ জান।’- এখানে ’ভণই’ শব্দের অর্থ কী?
সঠিক উত্তর হলো বলে। চর্যাপদের এই বিখ্যাত পঙক্তিটিতে কবি লুইপাদ গুরুকে জিজ্ঞাসা করে সত্য জানার কথা বলেছেন। এখানে 'ভণই' শব্দটি মূলত 'ভণিতা' বা 'বলা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সহজ কথায়, কোনো কিছু প্রকাশ করা বা উচ্চারণ করাকেই এখানে 'ভণই' বলা হয়েছে।
’শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের অংশ নয় কোনটি?
সঠিক উত্তর হলো প্রণয় খণ্ড। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটি মোট ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত। এই খণ্ডগুলো হলো:
- জন্ম খণ্ড, তাম্বুল খণ্ড, দান খণ্ড, নৌকা খণ্ড, ভার খণ্ড, ছত্র খণ্ড, বৃন্দাবন খণ্ড, কালীয়দমন খণ্ড, যমুনা খণ্ড, হার খণ্ড, বাণ খণ্ড, বংশী খণ্ড এবং রাধা বিরহ।
লক্ষ্য করলে দেখবেন, তালিকার কোথাও প্রণয় খণ্ড নামে কোনো অংশ নেই। তাই এটিই এই কাব্যের অংশ নয়। পরীক্ষার জন্য এই ১৩টি খণ্ডের নাম একবার চোখ বুলিয়ে নিলে এমন প্রশ্ন সহজেই সমাধান করা সম্ভব।
বিবৃত স্বরধ্বনি বলতে বোঝায় -
এখানে সঠিক উত্তর হলো যে স্বরধ্বনি উচ্চারণে ঠোঁট বেশি খোলে। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- ভাষাবিজ্ঞানের ভাষায় 'বিবৃত' (Open) মানেই হলো খোলা।
- যখন আমরা 'আ' ধ্বনিটি উচ্চারণ করি, তখন আমাদের মুখগহ্বর বা ঠোঁট সবচেয়ে বেশি ফাঁকা বা খোলা থাকে।
- তাই যে স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখ বা ঠোঁট সবচেয়ে বেশি প্রসারিত বা খোলা থাকে, তাকেই ব্যাকরণের ভাষায় বিবৃত স্বরধ্বনি বলা হয়।
মনোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁও অভিধান প্রকাশের আগে কত বছর ধরে শব্দ সংগ্রহ করেন?
সঠিক উত্তর হলো ৯-১০ বছর। পর্তুগিজ অভিধান প্রণেতা মনোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁও বাংলা ভাষার প্রতি গভীর অনুরাগের কারণে দীর্ঘ সময় নিয়ে এই কাজটি সম্পন্ন করেছিলেন।
বিষয়টি মনে রাখার সহজ উপায়:
- তিনি ১৭৪৩ সালে তার বিখ্যাত অভিধানটি প্রকাশ করেন।
- অভিধানটি তৈরির আগে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নিবিড়ভাবে শব্দ সংগ্রহ ও গবেষণার কাজ চালিয়ে যান।
- ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, এই শব্দ সংগ্রহের সময়কাল ছিল প্রায় ৯ থেকে ১০ বছর।
সহজ কথায়, একটি পূর্ণাঙ্গ অভিধান তৈরির জন্য যে ধৈর্য ও পরিশ্রমের প্রয়োজন ছিল, তিনি তা দীর্ঘ এক দশকের কাছাকাছি সময় ধরে ব্যয় করেছিলেন।
'আলালের ঘরের দুলাল' প্রথমে কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়?
সঠিক উত্তর হলো মাসিক পত্রিকা। প্যারীচাঁদ মিত্রের লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'আলালের ঘরের দুলাল' নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই, এর পেছনের ইতিহাসটা বেশ সহজ:
- ১৮৫৪ সালে প্যারীচাঁদ মিত্র এবং রাধানাথ শিকদার মিলে 'মাসিক পত্রিকা' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন।
- সাধারণ মানুষের পড়ার উপযোগী করে সহজ ও চলিত ভাষায় লেখা এই উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে এই পত্রিকাতেই প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
- পরবর্তীতে ১৮৫৮ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়, যা বাংলা গদ্যের ইতিহাসে এক নতুন ধারার সূচনা করে।
সহজ কথায়, সাধারণ মানুষের কাছে সাহিত্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উপন্যাসটি মাসিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয়েছিল।
'সকলের তরে সকলে আমরা/প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।'- কোন কবিতার অংশ?
সঠিক উত্তর হলো সুখ। কামিনী রায়ের লেখা এই বিখ্যাত কবিতাটি আমাদের শেখায় যে, নিজের সুখের চেয়ে অন্যের উপকারে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়াতেই প্রকৃত আনন্দ নিহিত।
- কবিতাটির মূল উপজীব্য হলো পরোপকার এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করা।
- 'সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে'—এই পঙক্তিটি কবিতার একেবারে শেষ দিকে আসে, যা পুরো কবিতার মূল দর্শনকে ফুটিয়ে তোলে।
- এই লাইনটি পড়ার সাথে সাথেই মনে রাখা সহজ যে, এটি মানুষের প্রতি মমত্ববোধ জাগিয়ে তোলা কবিতা সুখ-এর অংশ।
জসীম উদ্দীনের 'কবর' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো রাখালী। পল্লীসংগীত ও গ্রামীণ পরিবেশের জাদুকর কবি জসীম উদ্দীনের অমর সৃষ্টি 'কবর' কবিতাটি মূলত তাঁর বিখ্যাত 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। ১৯২৭ সালে প্রকাশিত এই কাব্যগ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ধারা তৈরি করেছিল, যার মাধ্যমেই মূলত কবি হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
গৌড়ী প্রাকৃত বলতে বোঝায়-
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: গৌড় অঞ্চলের মুখের ভাষা। খুব সহজভাবে মনে রাখার উপায় হলো, প্রাচীনকালে গৌড় (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের কিছু অংশ) অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কথ্য ভাষাকেই 'গৌড়ী প্রাকৃত' বলা হতো। এটি প্রাকৃত ভাষারই একটি আঞ্চলিক রূপ, যা মুখের বুলি হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
'Glossary' শব্দের বাংলা পরিভাষা-
এখানে সঠিক উত্তর হলো শব্দার্থপঞ্জি।
ইংরেজি 'Glossary' শব্দটির বাংলা পরিভাষা হিসেবে 'শব্দার্থপঞ্জি' ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট বই, পরিভাষা বা বিষয়ের কঠিন শব্দগুলোর অর্থ তালিকা আকারে গুছিয়ে দেওয়া থাকে, যা বুঝতে আমাদের জন্য অনেক সহজ হয়।
'ঐক্যমত' শব্দটি কোন বিবেচনায় অশুদ্ধ নয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: মতের ঐক্য - এভাবে সমাসসাধিত ধরলে।
বিষয়টা খুব সহজ! ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী সাধারণভাবেই আমরা উল্টো করে সমাস করতে পারি, যেমন— 'মতের ঐক্য' মিলে হয় 'ঐক্যমত'। এই সমাসসাধিত রূপটি বিবেচনা করলে শব্দটি পুরোপুরি শুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা যায়।