১১ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা প্রশ্ন উত্তর (স্কুল পর্যায় ২) ২০১৪
“ভুষণ্ডির কাক’ বাগধারাটির সঠিক অর্থ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো দীর্ঘজীবী। ‘ভুষণ্ডির কাক’ একটি খুব পরিচিত বাংলা বাগধারা, যার আক্ষরিক অর্থ হলো অত্যন্ত দীর্ঘজীবী কাক। পৌরাণিক মতে, ভুষণ্ডী কাকটি অনেক যুগ বেঁচে ছিল বলে তার দীর্ঘ জীবনকাল থেকেই এই বিশেষ বাগধারাটির প্রচলন হয়েছে। তাই কোনো দীর্ঘকাল বেঁচে থাকা বা প্রাচীন ব্যক্তিকে বোঝাতেই মূলত ‘ভুষণ্ডির কাক’ ব্যবহার করা হয়।
ভাষার কোন রীতি তদ্ভব শব্দ বহুল?
এখানে সঠিক উত্তর হলো চলিতরীতি। কারণ, চলিতরীতি মূলত কথ্য ভাষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এতে তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় ও প্রাণবন্ত হয়। অন্যদিকে, সাধুরীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের আধিক্য দেখা যায়।
‘For good’ এর সঠিক অর্থ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো চিরতরে।
ইংরেজি প্রবাদ বা ফ্রেজ 'For good' একটি কমন ফ্রেজ, যার আক্ষরিক অর্থ দিয়ে মনে হতে পারে ভালো কিছুর সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু এর সঠিক ও প্রমিত বাংলা অর্থ হলো চিরতরে বা চিরকালের জন্য (Permanently)।
অনুবাদ কোনটির সহায়ক?
এখানে সঠিক উত্তর হলো জ্ঞান চর্চার। কারণ এক ভাষার জ্ঞান ও সাহিত্যকে অন্য ভাষায় রূপান্তর করার মাধ্যমে বিশ্বের অজানা জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির সাথে খুব সহজেই পরিচিত হওয়া যায়। তাই নতুন নতুন তথ্য ও ধারণা লাভ করে নিজের জ্ঞানকে প্রসারিত করতে অনুবাদ দারুণভাবে সাহায্য করে।
Waste not, want not এর সঠিক অনুবাদ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অপচয় করোনা অভাবও হবে না।
ইংরেজি প্রবাদ "Waste not, want not"-এর ভাবানুবাদ বা আক্ষরিক অর্থের কাছাকাছি সুন্দর বাংলা প্রবাদ হলো এটি। এর মূল কথা হলো—আপনি যদি কোনো কিছুর অপচয় বা অপব্যবহার না করেন, তবে ভবিষ্যতে আপনার সেই জিনিসের কোনো অভাব বা অনটন দেখা দেবে না।
‘লবণ’ শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো লো + অন।
খুব সহজ একটা নিয়মের মাধ্যমে এটা মনে রাখা যায়:
- বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, ও-কার বা ঔ-কারের পরে যদি অন্য কোনো স্বরধ্বনি থাকে, তবে ও-কার-এর জায়গায় অব এবং ঔ-কার-এর জায়গায় আব হয়।
- সে হিসেবে, লো (ও-কার) + অন মিলে হয়ে যায় লবণ (ল + অব + অন)।
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো পরস্পর। কারণ এটি কোনো সাধারণ নিয়মে বা ব্যাকরণের সূত্রের সাহায্যে গঠিত হয়নি, বরং প্রাকৃত বা সংস্কৃত ভাষার প্রচলিত নিয়ম ভেঙে সরাসরি সিদ্ধ হয়েছে। তাই এই ধরনের শব্দগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলা হয়।
‘চৌচালা’ কোন সমাসের উদাহরণ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো বহুব্রীহি।
সহজ কথায় মনে রাখার উপায়:
- যখন কোনো সমাসে সমস্ত পদটি দিয়ে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটিরই অর্থ না বুঝিয়ে সম্পূর্ণ নতুন বা আলাদা কোনো অর্থ বোঝায়, তখন তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- 'চৌচালা' শব্দটি দিয়ে এমন ঘরকে বোঝায় যার চারটি চালা আছে। এটি সংখ্যাবাচক শব্দ দিয়ে শুরু হলেও, এটি কোনো সমাহার বা সমষ্টি না বুঝিয়ে নির্দিষ্ট একটি ঘরের আকৃতিকে বোঝাচ্ছে। তাই এটি দ্বিগু সমাস না হয়ে বহুব্রীহি সমাস হবে।
আমার যাওয়া হয়নি- ‘আমার’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কর্তায় ষষ্ঠী। কারণ বাক্যটি একটি ভাববাচক বিশেষ্য বা কর্মভাব প্রকাশ করছে, যেখানে মূল কাজটি বোঝাতে কর্তায় ষষ্ঠী বিভক্তি (এর/র) যুক্ত হয়েছে।
- বাক্যটিতে যাওয়ার কাজটি যার দ্বারা বা যার সাথে সম্পর্কিত, সেই 'আমার' পদের সাথে 'র' বিভক্তি যুক্ত রয়েছে।
- ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, ভাববাচক বিশেষ্যের কর্তা বা অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তায় সবসময় ষষ্ঠী বিভক্তি বসে।
ব্যতিহার কর্তার উদাহরণ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো: বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়।
বিষয়টা খুব সহজ! ব্যাকরণের নিয়মানুযায়ী, যে বাক্যে দুটি কর্তা একত্রে মিলে কোনো একটি কাজ সম্পন্ন করে এবং তাদের মধ্যে একটা বিরুদ্ধ বা সহযোগী ভাব প্রকাশ পায়, তাকেই ব্যতিহার কর্তা বলে।
- বাক্যে 'বাঘে' এবং 'মহিষে'—এই দুটি ভিন্ন কর্তা মিলে একত্রে জল খাওয়ার কাজটি করছে।
- সাধারণত বাঘ ও মহিষের মধ্যে শত্রুতার সম্পর্ক থাকলেও এখানে তারা এক ঘাটে জল খাচ্ছে, যা ব্যতিহার বা পারস্পরিক সম্পর্কের দারুণ এক উদাহরণ।