১২ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (স্কুল পর্যায়) ২০১৫
‘জিজ্ঞাসিব জনে জনে’- এখানে ‘জনে জনে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কর্মে ৭মী।
বাক্যটির অর্থ পরিষ্কার করতে একটু ভেবে দেখি:
- যাকে বা যাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, সেটাই কর্ম কারক। এখানে 'কাকে' বা 'কাহাকে' দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়। তাই এটি কর্ম কারক।
- শব্দের শেষে 'এ' বা 'তে' বিভক্তি থাকলে সাধারণত ৭মী বিভক্তি হয়। 'জনে জনে' শব্দটিতে ৭মী বিভক্তির ব্যবহার হয়েছে।
সব মিলিয়ে এটি হলো কর্মে ৭মী বিভক্তি!
পূর্বপদ প্রধান সমাস কোনটি?
সঠিক উত্তর হলো অব্যয়ীভাব। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায় এভাবে:
- অব্যয়ীভাব সমাসে সবসময় পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
- এই সমাসে পূর্বপদে সাধারণত কোনো অব্যয় (যেমন: আ, উপ, প্রতি, যথা) যুক্ত থাকে এবং সেটিই পুরো পদের অর্থ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সহজ কথায়, যখন কোনো শব্দের শুরুতে অব্যয় যোগ হয়ে নতুন অর্থ তৈরি করে এবং সেই অব্যয়ের অর্থই মূল হয়ে দাঁড়ায়, তখনই সেটি অব্যয়ীভাব সমাস।
যেমন: 'উপকণ্ঠ' শব্দটিতে 'উপ' অব্যয়টি প্রধান, যা কণ্ঠের নিকটবর্তী হওয়াকে বোঝাচ্ছে। তাই এটি অব্যয়ীভাব সমাসের একটি দারুণ উদাহরণ।
কোনটি নিত্য সমাস?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কালসাপ। যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো দ্বারাই সবসময় সমাসবদ্ধ পদ বোঝায় এবং ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না বা ব্যাসবাক্য করলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমন—অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর, কাল যে সাপ = কালসাপ। এখানে 'কালসাপ' একটি বিশেষ জাতের সাপ বোঝাতে নিত্য সমাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
নিচের কোনটি প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো জেলেনি। কারণ শব্দটির মূল রূপ হলো 'জেলে', যার সাথে স্ত্রীবাচক প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়েছে। বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী পুংবাচক শব্দের সাথে বিশেষ প্রত্যয় যোগ করে এভাবেই স্ত্রীবাচক শব্দ তৈরি করা হয়।
‘শৈশব’-এর প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো শিশু + ষ্ণ।
শব্দটির গঠন প্রক্রিয়া খুব সহজ:
- শব্দের শুরুতে যদি 'শিশু' থাকে এবং তার সাথে অপত্য বা ভাব বোঝাতে ষ্ণ প্রত্যয় যুক্ত হয়, তবে আদি স্বর পরিবর্তন হয়ে 'শৈশব' গঠিত হয়।
- নিয়ম অনুযায়ী, ঋ-কার বা ই-কারের স্থানে ঐ-কার হয়, তাই 'শিশু'-র 'শি' পরিবর্তিত হয়ে 'শৈ' রূপ নেয়।
‘মরদ’-এর বিপরীত লিঙ্গ কোনটি?
‘হাতি’-এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো করি। খুব সহজে মনে রাখার জন্য মনে রাখবেন, হাতির পিঠে বা গায়ে শুঁড় থাকে এবং হাতিকে সংস্কৃত ভাষায় 'কর' বা 'করি' বলা হয় (কারণ শুঁড় হলো হাতির কর বা হাত)। তাই ‘হাতি’-র একটি দারুণ ও প্রচলিত সমার্থক শব্দ হলো করি।
নষ্ট হওয়া স্বভাব যার – এক কথায় কী বলে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: নশ্বর।
বাক্য সংকোচন বা এককথায় প্রকাশের নিয়ম অনুযায়ী, যার পতন বা ধ্বংস রয়েছে, অর্থাৎ যা নষ্ট হয়ে যায়—তাকে খুব সহজেই নশ্বর বলা হয়। মানুষের জীবন বা এই পৃথিবীর সবকিছুই পরিবর্তনশীল ও ধ্বংসশীল, তাই একে নশ্বর হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
‘সাপের খোলস’- বাক্য সংকোচন কী হবে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো নির্মোক। কারণ কোনো পশুর খোলস বা বিশেষ করে সাপের খোলস পরিবর্তনের ঢাকনাকে এককথায় বা বাক্য সংকোচনে নির্মোক বলা হয়। তাই সঠিক উত্তরটি মনে রাখা খুব সহজ!
‘কমা’ কোথায় বসে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সম্বোধন পদের পর।
বিষয়টা খুব সহজ! কাউকে ডাকলে বা সম্বোধন করলে লেখার সময় ঠিক তার ঠিক পরেই কমা (,) বসাতে হয়। যেমন: "রহিম, এদিকে এসো।" এখানে 'রহিম' হলো সম্বোধন পদ এবং এর ঠিক পরেই কমা ব্যবহার করা হয়েছে।