১৪ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (কলেজ পর্যায়) ২০১৭
স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কী বলে?
“উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ”- এখানে ‘উদ্যম বিহনে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অধিকরণে ৭মী।
- বাক্যে ‘উদ্যম বিহনে’ পদটি দিয়ে কোনো কিছু করার সময় বা অবস্থা বোঝানো হয়েছে।
- ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, সময়, স্থান বা কোনো বিশেষ অবস্থ বোঝালে অধিকরণ কারক হয়।
- আর এই পদের শেষে ‘এ’ বিভক্তি যুক্ত থাকায় এটি স্পষ্টতই ৭মী বিভক্তি।
বীর সন্তান প্রসব করে যে নারী- এর এক কথায় প্রকাশ কর-
এখানে সঠিক উত্তর হলো বীরপ্রসূ। বাক্য সংকোচন বা এক কথায় প্রকাশের নিয়ম অনুযায়ী, যে নারী বীর সন্তান প্রসব করেন, তাকে খুব সুন্দরভাবে বীরপ্রসূ বলা হয়। এটি মনে রাখা একদম সহজ, কারণ 'বীর' মানে সাহসী সন্তান এবং 'প্রসূ' মানে যে প্রসব করে।
‘দীপ্যমান’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় সঠিক কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো $\sqrt{দিপ} + শানচ$। কারণ ‘দীপ্যমান’ শব্দটি নিষ্পন্ন করতে মূল ধাতু হিসেবে $\sqrt{দিপ}$ এবং বর্তমান কালবাচক অর্থে কৃৎ প্রত্যয় হিসেবে $শানচ$ যুক্ত হয়েছে। ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী এই প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দগুলো বর্তমান কৃৎ-এর চমৎকার উদাহরণ, যা খুব সহজেই এভাবে মনে রাখা যায়।
‘ক্রিয়ার কাল ও পুরুষ’ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
সঠিক উত্তর হলো রূপতত্ত্বে। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- ব্যাকরণের রূপতত্ত্ব বা Morphology অংশে মূলত শব্দের গঠন এবং শব্দের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- ক্রিয়ার কাল (যেমন: বর্তমান, অতীত, ভবিষ্যৎ) এবং পুরুষ (যেমন: উত্তম পুরুষ, মধ্যম পুরুষ, নাম পুরুষ) সরাসরি ক্রিয়াপদের রূপ পরিবর্তনের সাথে যুক্ত।
- যেহেতু ক্রিয়াপদের রূপ বা গঠন পরিবর্তনের বিষয়টি রূপতত্ত্বের আওতাভুক্ত, তাই ক্রিয়ার কাল ও পুরুষও এখানেই আলোচিত হয়।
সহজ কথায়, শব্দের রূপ বা গঠন নিয়ে কাজ করলেই তা রূপতত্ত্বের অংশ হয়ে যায়।
শরীর>শরীল- শব্দটিতে ধ্বনি পরিবর্তনের কোন ধরণের নিয়ম প্রযোজ্য?
এখানে সঠিক উত্তর হলো বিষমীভবন।
বিষয়টা খুব সহজ! যখন দুটি সমবর্ণ বা কাছাকাছি উচ্চারণযুক্ত ধ্বনির একটির পরিবর্তন ঘটে ভিন্ন ধ্বনিতে পরিণত হয়, তখন তাকে বিষমীভবন বলে।
- শব্দটির মূল রূপ ছিল: শরীর (এখানে দুটি 'র' আছে)।
- পরিবর্তিত রূপ হলো: শরীল।
- সহজ কথায়, পাশাপাশি বা কাছাকাছি থাকা দুটি একজাতীয় ধ্বনির (র...র) মধ্যে একটি ধ্বনি (দ্বিতীয় 'র') বদলে অন্য ধ্বনিতে (ল) রূপান্তরিত হয়ে উচ্চারণকে সহজ ও আলাদা করেছে। তাই এটি বিষমীভবনের চমৎকার একটি উদাহরণ।
‘দুর্যোগ’- এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো দুঃ+যোগ। খুব সহজে মনে রাখার একটা দারুণ ট্রিক হলো—সন্ধির নিয়মে বিসর্গের পর যদি অন্তস্থ জ (য), র, ল বা কোনো বর্গের তৃতীয়, চতুর্থ বা পঞ্চম বর্ণ থাকে, তবে বিসর্গ উঠে গিয়ে বিসর্গের স্থানে ও-কার বা ‘র্’ (রেফ) যুক্ত হয়।
- বিসর্গ সন্ধির নিয়মানুযায়ী দুঃ এর সাথে যোগ যুক্ত হয়ে বিসর্গটি ‘র্’ (রেফ) এ রূপান্তরিত হয়েছে।
- তাই সঠিক রূপটি হলো দুর্যোগ।
উপকণ্ঠ- শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
উপকণ্ঠ শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য হলো কণ্ঠের সমীপে। এটি একটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।
সহজভাবে মনে রাখার কৌশল:
- বাংলা ব্যাকরণে 'উপ' উপসর্গটি যখন কোনো শব্দের শুরুতে বসে এবং সেটি ছোট বা নিকটবর্তী বোঝায়, তখন সমাস করার সময় ব্যাসবাক্যে 'সমীপে' শব্দটি যোগ করতে হয়।
- যেমন: কণ্ঠের কাছে বা কণ্ঠের কাছাকাছি বোঝাতে আমরা 'উপ' যোগ করে 'উপকণ্ঠ' শব্দটি তৈরি করি।
- তাই নিয়ম অনুযায়ী, কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ।
তামার বিষ- বাগধারাটির অর্থ কী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অর্থের কু-প্রভাব। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায়:
- 'তামার বিষ' বাগধারাটি মূলত মানুষের ওপর টাকার নেতিবাচক বা খারাপ প্রভাব বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- যখন কারো হাতে প্রচুর টাকা আসে এবং সেই টাকার কারণে তার স্বভাব বা চরিত্রে খারাপ পরিবর্তন দেখা দেয়, তখনই আমরা বলি তার ওপর 'তামার বিষ' ধরেছে।
- সহজ কথায়, টাকা বা সম্পদের কারণে মানুষের নৈতিক অবক্ষয় হওয়াকেই এই বাগধারা দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
প্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণগ্রন্থ কে লেখেন?
এখানে সঠিক উত্তর হলো নাথিনিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড। কারণ তিনিই প্রথম ইউরোপীয় পন্ডিত যিনি বাংলা ভাষার ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।
- তার রচিত এই ব্যাকরণগ্রন্থটির নাম ছিল 'A Grammar of the Bengal Language'।
- এটি ১৭৭৮ সালে হুগলি থেকে প্রিন্স প্রেসের মাধ্যমে প্রথম প্রকাশিত হয়।
তাই বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনার ক্ষেত্রে নাথিনিয়েল ব্রাসি হ্যালহেডের নাম সবার আগে আসে।