১৪ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (স্কুল পর্যায় ২) ২০১৭
নিয়ম অনুসারে সন্ধি হয় না কোনটির?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কুলটা। কারণ এটি একটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ, যা সাধারণ কোনো ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
- বাকى শব্দগুলো যেমন— পাবক ($পৌ + অক$), শাবক ($শূ + অবক$) এবং গায়ক ($গৈ + অক$)—এগুলো নির্দিষ্ট ব্যাকরণিক সূত্র বা নিয়ম মেনে গঠিত হয়েছে।
- পক্ষান্তরে, কুলটা শব্দটি কোনো নিয়ম না মেনে সরাসরি সাধিত হয়েছে ($কুল + অতা = কুলটা$), তাই এটি নিপাতনে সিদ্ধ।
‘রাজ্ঞী’-এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: রাজ্ + নী।
ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম অনুযায়ী, সংস্কৃতে 'রাজन्' শব্দের সঙ্গে 'নী' যুক্ত হয়ে 'রাজ্ঞী' গঠিত হয়। সন্ধির নিয়মে এখানে 'ন্' বা জ ফলা জনিত পরিবর্তনে সঠিক রূপটি দাঁড়ায় রাজ্ + নী।
সামীপ্য অর্থে কোন অধিকরণ হয়?
সঠিক উত্তর হলো ঐকদেশিক। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায় এভাবে:
- অধিকরণ কারক মূলত তিন প্রকার: ঐকদেশিক, অভিব্যাপক এবং বৈষয়িক।
- যখন কোনো বিশাল স্থানের নির্দিষ্ট কোনো অংশে বা কোনো একটি বিন্দুতে কিছু ঘটে, তখন তাকে ঐকদেশিক অধিকরণ বলে।
- 'সামীপ্য' বা কাছাকাছি বোঝাতেও এই নিয়মটিই কাজ করে। যেমন: 'বনে বাঘ আছে' বা 'ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে'—এখানে পুরো বন বা পুরো ঘাট নয়, বরং বনের বা ঘাটের একটি নির্দিষ্ট অংশে বা কাছাকাছি অবস্থান বোঝাচ্ছে।
- সহজ কথায়, বিশাল জায়গার সামান্য অংশে বা সন্নিকটে কোনো কিছু থাকলে তা সবসময় ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
‘আমি কি ডরাই সখী ভিখারি রাঘবে?’ ‘রাঘবে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অপাদানে ৭মী।
এর কারণ খুব সহজ:
- বাক্যটিতে ভয় পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
- যাকে দেখে বা যার থেকে সাধারণ অর্থে ভয় সৃষ্টি হয়, তাকেই ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী অপাদান কারক বলা হয়।
- 'রাঘবে' শব্দটিতে 'এ' বিভক্তি যুক্ত আছে, যা সপ্তম বা ৭মী বিভক্তির রূপ।
- তাই এটি হলো অপাদানে ৭মী বিভক্তি।
কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে কী বলে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: উপপদ তৎপুরুষ।
খুব সহজ একটা ট্রিক দিয়ে বিষয়টি মনে রাখতে পারো:
- বাক্যের ভেতরে কৃদন্ত পদের (যে পদের শেষে প্রত্যয়যুক্ত থাকে) সাথে যদি তার আগের পদের সমাস হয়, তবে চোখ বন্ধ করে তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস দাগিয়ে দেবে।
- যেমন: পঙ্কে জন্ম যার = পঙ্কজ। এখানে 'পঙ্ক' হলো উপপদ এবং 'জ' হলো কৃদন্ত পদ।
অন্তরীপ সমস্তপদটি কোন বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত?
এখানে সঠিক উত্তর হলো নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি।
বিষয়টা খুব সহজ! কিছু সমাস আছে যা কোনো সাধারণ নিয়মের তোয়াক্কা করে না বা ব্যাকরণের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে গঠিত হয় না। এগুলোকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ সমাস। 'অন্তরীপ' শব্দটি ঠিক এভাবেই কোনো নিয়ম না মেনে গঠিত হয়েছে, তাই এটি নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্ভুক্ত। পরীক্ষার হলে এমন ব্যতিক্রমী শব্দগুলো একটু চোখে রাখলেই সহজে উত্তর করা সম্ভব!
প্রত্যয়ের কোন নিয়মটি সঠিক?
এখানে সঠিক উত্তর হলো নীল + ইমন। কারণ 'নীলিমা' শব্দটি গঠন করার সময় মূল বিশেষণ পদের সাথে ইমন প্রত্যয় যুক্ত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, 'নীল' শব্দের সাথে 'ইমন' যুক্ত হয়ে স্বরসঙ্গতি ও প্রত্যয়ের নিয়মে শব্দটি 'নীলিমা' রূপ নেয়।
প্রাতিপাদিক কী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো বিভক্তহীন নাম শব্দ। খুব সহজে মনে রাখার টেকনিক হলো, শব্দের মূল রূপ বা যে নাম শব্দের সাথে কোনো রকম বিভক্তি যুক্ত থাকে না, তাকেই মূলত প্রাতিপাদিক বলা হয়। যেমন— 'হাত', 'বই', 'কলম' ইত্যাদি। অর্থাৎ, বিভক্তি যোগ করার আগের অবস্থাটাই হলো প্রাতিপাদিক!
‘অম্বর’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো নভ। কারণ ‘অম্বর’ শব্দের অর্থ হলো আকাশ, আসমান বা মহাশূন্য। আর ‘নভ’ শব্দটির অর্থও আকাশ। তাই খুব সহজেই বলাই যায়, ‘অম্বর’ এর সঠিক সমার্থক শব্দ হলো নভ।
‘প্রসারণ’-এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো আকুঞ্চন।
খুব সহজ কথায়, 'প্রসারণ' মানে হলো কোনো কিছু ছড়িয়ে পড়া বা বড় হওয়া, আর এর ঠিক উল্টো বা বিপরীত অর্থ হলো কোনো কিছু কুঁকড়ে যাওয়া বা ছোট হওয়া। আর ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী এই কুঁকড়ে যাওয়ার বা সংকুচিত হওয়ার সঠিক বিপরীত শব্দ হলো 'আকুঞ্চন'।