১৫ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (স্কুল পর্যায় ২) ২০১৮
প্রকৃত বাংলা ব্যঞ্জনসন্ধি কোন নিয়মে হয়ে থাকে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সমীভবন। কারণটা খুব সহজ!
প্রকৃত বাংলা ব্যঞ্জনসন্ধির মূল রহস্য লুকিয়ে আছে সমীভবন প্রক্রিয়ার মধ্যে। এই নিয়মে দ্রুত কথা বলার সময় পাশাপাশি থাকা দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে বা প্রভাবে এসে মিলে যায় কিংবা কাছাকাছি বা পুরোপুরি একরকম হয়ে যায়। যেমন— জন্ম থেকে জম্ম। তাই বাংলা শব্দের স্বাভাবিক উচ্চারণের ক্ষেত্রে এই সমীভবন নিয়মটিই সবচেয়ে বেশি কাজ করে।
খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে- কোন কারক?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অধিকরণ কারক। কারণটা খুবই সহজ—
- বাক্যে খিলিপানের 'ভিতরে' ওষুধ খাওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা একটি নির্দিষ্ট স্থান বা আধার বোঝায়।
- স্থান, কাল বা বিষয়ে কিছু সংঘটিত হলে তাকে ব্যাকরণের ভাষায় অধিকরণ কারক (আধার অধিকরণ) বলা হয়।
অপ্রাণিবাচক শব্দের উত্তর-এ কোন বিভক্তি হবে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো শূন্য। কারণ ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী অপ্রাণিবাচক বা ইতরবাচক শব্দের বহুবচনে সাধারণত শূন্য বিভক্তি (বা কোনো বিভক্তি যুক্ত হয় না) ব্যবহৃত হয়। যেমন—‘গাছগুলো কাটা হয়েছে’ বা ‘বইটি টেবিলের উপর রাখা আছে’—এখানে কর্মকারকে কোনো অপ্রাণিবাচক শব্দে আলাদাভাবে কে বা রে বিভক্তি যুক্ত না হয়ে শূন্য বিভক্তি বা অভিন্ন রূপ বজায় থাকে।
কানে কানে যে কথা = কানাকানি- এখানে ‘কানাকানি’ কোন ধরনের বহুব্রীহি সমাস?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ব্যতিহার বহুব্রীহি।
খুব সহজে চেনার উপায় হলো— কোনো সমাসে যদি একই পদের পারস্পরিক বা ক্রিয়ার আদান-প্রদান (যেমন: কানে কানে, হাতে হাতে, লাঠিতে লাঠিতে) বোঝায়, তবে চোখ বন্ধ করে তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস দাগিয়ে দেওয়া যায়। এখানে 'কানে কানে' কথাটির মাধ্যমে পারস্পরিক কার্য বোঝানো হয়েছে, তাই এটি ব্যতিহার বহুব্রীহি।
কোনটি প্রাদি সমাসের উদাহরণ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো প্রগতি। কারণ, বাংলা ব্যাকরণে প্র, পরা, অপ ইত্যাদি উপসর্গ বা প্রা-আদি অব্যয়ের সাথে যখন কৃৎ প্রত্যয়যুক্ত বিশেষ্য পদের সমাস হয়, তখন তাকে প্রাদি সমাস বলে।
- শব্দটির ব্যাসবাক্য হলো: প্রগত যে গতি = প্রগতি।
- এখানে 'প্র' উপসর্গটি 'গতি' বিশেষ্যের পূর্বে বসে প্রাদি সমাস গঠন করেছে।
কোনটি চাঁদের সমার্থক শব্দ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: হিমাংশু।
খুব সহজ কথায়, চাঁদের আলো বেশ ঠান্ডা বা শীতল প্রকৃতির হয়। 'হিম' অর্থ ঠান্ডা বা বরফ এবং 'অংশু' অর্থ কিরণ বা আলো। তাই যার শীতল কিরণ বা আলো রয়েছে—তিনিই হলেন হিমাংশু, যা মূলত চাঁদের একটি সুন্দর সমার্থক শব্দ।
‘অহি’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সাপ। খুব সহজভাবে মনে রাখার কৌশল হলো, বাংলা ব্যাকরণে 'অহি' শব্দটি মূলত সাপ বা ভুজঙ্গ অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাই পরীক্ষার হলে এই ধরনের শব্দ দেখলে সরাসরি সাপ দাগিয়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে!
‘খাতক’ শব্দটির বিপরীত শব্দ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো মহাজন। খুব সহজ কথায়, যে টাকা ধার দেয় বা ঋণ দেয় তাকে বলা হয় মহাজন (বা উত্তমর্ণ), আর যে টাকা ধার বা ঋণ নেয় তাকে বলা হয় খাতক। তাই 'খাতক'-এর ঠিক উল্টো বা বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে 'মহাজন' শব্দটি।
হনন করার ইচ্ছা-এর বাক্য সংকোচন কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো জিঘাংসা। কথাটার মানে হলো কাউকে মেরে ফেলার বা হনন করার তীব্র ইচ্ছা।
এমন বাক্য সংকোচনগুলো মনে রাখার একটা সহজ উপায় হলো শব্দের মূল রূপটা খেয়াল করা। 'হনন' থেকে এসেছে 'জিঘাংসা', যা এই বিশেষ ভাবটিকে খুব সুন্দর ও নিখুঁতভাবে প্রকাশ করে।
যে মেয়ের বিয়ে হয়নি-এর বাক্যসংকোচন কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অনূঢ়া।
খুব সহজেই মনে রাখার নিয়ম হলো— 'উঢ়া' শব্দের অর্থ বিবাহিতা। আর এর আগে 'ন' বা না-সূচক উপসর্গ যুক্ত করে কোনো মেয়ের বিয়ে হয়নি বোঝাতে অনূঢ়া শব্দটি ব্যবহার করা হয়।