১৬ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (কলেজ পর্যায়) ২০১৯
বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত গ্রন্থের রচয়িতা কে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে 'বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত' তাঁর অন্যতম একটি বিখ্যাত ও গবেষণালব্ধ অবদান। সহজে মনে রাখার জন্য মাথায় রাখতে পারেন যে, বাংলা ভাষার উৎপত্তিতত্ত্ব ও এর বিবর্তন নিয়ে যারা কাজ করেছেন, তাঁদের মধ্যে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর এই বইটি একটি অনন্য নিদর্শন।
বাক্যে কোন যতি চিহ্নটি থাকলে থামার প্রয়োজন নেই?
এখানে সঠিক উত্তর হলো হাইফেন। কারণ, বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী সমস্তপদকে বা সমাসবদ্ধ পদগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে দেখানোর জন্য হাইফেন ($-$) ব্যবহার করা হয়। আর বাক্য পড়ার সময় হাইফেনের জায়গায় কোনো রকম থামার বা বিরতি নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কে ছিলেন?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
উনি ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি বিখ্যাত বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ প্রথম প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় রূপান্তর করা হয়। বাংলা সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের ইতিহাসে এই পত্রিকার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘পানি’ শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অম্বু। পানি শব্দের অনেকগুলো সমার্থক শব্দ রয়েছে, যার মধ্যে 'অম্বু' অত্যন্ত পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি শব্দ।
সহজে মনে রাখার একটি দারুণ কৌশল হলো:
- জল, পানি বা সলিল বোঝাতে সাধারণত শব্দের শেষে 'দ' যোগ করলে মেঘের নাম হয় (যেমন: জলদ), এবং 'ধি' যোগ করলে সমুদ্রের নাম হয় (যেমন: বারিধি)।
- অন্যদিকে, 'অম্বু' সরাসরি পানির একটি চমৎকার প্রতিশব্দ হিসেবে বাংলা ব্যাকরণে ব্যবহৃত হয়।
‘ধামাধরা’ বাগধারাটির অর্থ কী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো তোষামোদকারী।
খুব সহজভাবে মনে রাখার টেকনিক হলো— কাউকে খুশি করার জন্য যারা সবসময় তার হ্যাঁ-তে হ্যাঁ এবং না-তে না বলে অতিরিক্ত প্রশংসা বা বাহবা দেয়, তাদেরই আঞ্চলিক ভাষায় 'ধামাধরা' বা তোষামোদকারী বলা হয়।
‘দর্শনীয়’ শব্দটির প্রকৃতি ও প্রত্যয়-
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option B: $\sqrt{\text{দৃশ্}} + \text{অনীয়}$। কারণ বিষয়টি খুব সহজ—
- 'দর্শনীয়' শব্দের মূল বা প্রকৃতি হলো সংস্কৃত $\sqrt{\text{দৃশ্}}$ (দেখা ধাতু)।
- এর সাথে যোগ্য অর্থে অনীয় প্রত্যয় যুক্ত হয়ে শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- নিয়ম অনুযায়ী $\sqrt{\text{দৃশ্}} + \text{অনীয়}$ মিলে 'দর্শনীয়' রূপ নেয়, যেখানে 'দৃশ্' পরিবর্তিত হয়ে 'দর্শ' এবং 'অনীয়' মিলে 'নীয়' যুক্ত হয়।
“রাজায় রাজায় লড়াই করছে” – এ বাক্যতে ‘রাজায় রাজায়’ কী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ব্যতিহার কর্তা।
বাক্যটি খেয়াল করলে দেখবে, একই জাতীয় দুটি বা ততোধিক বিশেষ্য পদ যখন একত্রে কোনো কাজ পরিচালনা করে এবং তাদের মধ্যে একটা প্রতিযোগ বা লড়াইয়ের ভাব প্রকাশ পায়, তখন তাকে ব্যাকরণের ভাষায় ব্যতিহার কর্তা বলা হয়। যেমন এখানে ‘রাজায় রাজায়’ মিলে লড়াই করার কাজটি করছে, তাই এটি খুব সহজেই ব্যতিহার কর্তা।
কোনটি সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তির উদাহরণ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও। কারণটা খুব সহজ—সম্প্রদান কারকের মূল শর্ত হলো কাউকে কোনো কিছু নিঃস্বার্থভাবে দান করা বা দিয়ে দেওয়া।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- সম্প্রদান কারক: যখন আমরা কাউকে কোনো কিছু চিরতরে দিয়ে দেই এবং তা আর ফেরত পাওয়ার আশা করি না, তখন সেটি সম্প্রদান কারক হয়।
- চতুর্থী বিভক্তি: যাকে দান করা হচ্ছে, তার সাথে যখন 'কে' বা 'রে' বিভক্তি যুক্ত হয়, তখন সেটি হয় সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি।
এই বাক্যে ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, যা একটি নিঃস্বার্থ দান। তাই এখানে 'ভিক্ষুক' শব্দের সাথে 'কে' বিভক্তি যুক্ত হয়ে এটি সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তির নিখুঁত উদাহরণ হয়েছে।
‘প্রসারণ’ এর বিপরীত শব্দ-
এখানে সঠিক উত্তর হলো আকুঞ্চন।
খুব সহজভাবে মনে রাখতে পারেন, 'প্রসারণ' মানে কোনো কিছু ছড়িয়ে পড়া বা বড় হওয়া, আর ঠিক এর উল্টো বা বিপরীত কাজটি হলো কুঁকড়ে যাওয়া বা ছোট হওয়া, যাকে ব্যাকরণের ভাষায় আকুঞ্চন বলা হয়।
কোনটি ফারসি শব্দ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো চশমা।
খুব সহজে মনে রাখার জন্য মনে রাখবেন, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত অনেক বিদেশি শব্দের মতো 'চশমা' একটি খাঁটি ফারসি শব্দ। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ফারসি শব্দগুলোর মধ্যে পোশাক-পরিচ্ছদ ও প্রাত্যহিক ব্যবহারের জিনিসপত্রের একটি বড় অংশ ফারসি ভাষা থেকে এসেছে, যার মধ্যে চশমা অন্যতম।