১৬ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (স্কুল পর্যায় ১) ২০১৯
শিক্ষা ক্রমের উপাদান কোনগুলো?
এখানে সঠিক উত্তর হলো উদ্দেশ্য, প্রান্তিক যোগ্যতা, বিষয়বস্তু ও মূল্যায়ন। শিক্ষা কার্যক্রমকে সুন্দর ও সফলভাবে পরিচালনার জন্য এই উপাদানগুলো একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
- উদ্দেশ্য: শিক্ষা অর্জনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য নির্ধারণ করে।
- প্রান্তিক যোগ্যতা: নির্দিষ্ট শিক্ষাস্তর শেষে শিক্ষার্থী কী অর্জন করবে তা ঠিক করে।
- বিষয়বস্তু: শিক্ষণীয় পাঠ বা সিলেবাস নির্দেশ করে।
- মূল্যায়ন: শিক্ষার্থীর শিখনফল কতটুকু অর্জিত হলো তা যাচাই করে।
বাংলা বর্ণমালায় পরাশ্রয়ী বর্ণ কয়টি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ৩টি। খুব সহজেই বিষয়টি মনে রাখতে পারেন:
- বাংলা বর্ণমালায় পরাশ্রয়ী বর্ণ হলো মোট তিনটি।
- বর্ণগুলো হলো: অনুস্বার ($\dot{0}$), বিসর্গ ($\colon$) এবং চন্দ্রবিন্দু ($\tilde{^}$)।
- এই বর্ণগুলো একা একা স্বাধীনভাবে কোনো অর্থ প্রকাশ করতে পারে না, সবসময় অন্য কোনো বর্ণের ঘাড়ে চড়ে বা তাদের আশ্রয়ে ব্যবহৃত হয় বলেই এদের নাম পরাশ্রয়ী বর্ণ।
দ্যুলোক' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো দিব্+লোক।
সন্ধির নিয়মটা খুব সহজ:
- দিব্ + লোক মিলে তৈরি হয় 'দ্যুলোক'।
- এখানে ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম অনুযায়ী ব্-এর জায়গায় উ-কার (ু) হয়ে শব্দটি 'দ্যুলোক' রূপ ধারণ করে।
- সহজ কথায় মনে রাখার জন্য শেষের 'লোক' ঠিক রেখে আগের অংশটি 'দিব্' হবে—এটাই এর মূল টেকনিক।
সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না_ এর উদাহরণ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অগ্রনায়ক। কারণটা খুব সহজ—সমাসবদ্ধ বা দুটি শব্দ মিলে তৈরি হওয়া পদে সাধারণত ব্যাকরণের সাধারণ নিয়মের ণ-ত্ব বিধান খাটে না।
'অগ্র' ও 'নায়ক' মিলে তৈরি হয়েছে 'অগ্রনায়ক', যা একটি সমাসবদ্ধ শব্দ। এখানে নিয়মের বাইরে গিয়ে মূর্ধন্য 'ণ' (ণ) এর জায়গায় দন্ত্য 'ন' (ন) ব্যবহৃত হয়েছে। অন্যদিকে বাকি অপশনগুলো সমাসবদ্ধ শব্দ নয়, তাই সেখানে স্বাভাবিক নিয়মেই ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হয়েছে।
পুকুরে মাছ আছে' _এখানে কোন অধিকরণ কারক?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ঐকদেশিক অধিকরণ।
খুব সহজভাবে মনে রাখার কৌশল:
- বিশাল কোনো স্থান বা ক্ষেত্রের নির্দিষ্ট কোনো অংশে যদি কোনো কিছু থাকে, তবে তাকে ঐকদেশিক অধিকরণ বলে।
- যেমন, পুরো পুকুরজুড়ে মাছ নেই, পুকুরের নির্দিষ্ট কোনো অংশে মাছ আছে। তাই এটি ঐکদেশিক বা স্থানিক অধিকরণের উদাহরণ।
ক্রীয়া বা ধাতুর পরে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলে_
এখানে সঠিক উত্তর হলো কৃৎপ্রত্যয়। খুব সহজে মনে রাখার একটা দারুণ উপায় হলো—ক্রিয়া বা ধাতুর সাথে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে, তাকেই কৃৎপ্রত্যয় বলে (যেমন: √কৃ + ত = কৃত)। আর শব্দের শেষে যেটা বসে, সেটা হলো তদ্ধিতপ্রত্যয়। তাই ক্রিয়া দেখলেই চোখ বন্ধ করে কৃৎপ্রত্যয় দাগিয়ে দিতে পারো!
ভাবে সপ্তমীর উদাহরণ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো চন্দ্রোদয়ে কুমুদিনি বিকশিত হয়। ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিশেষ সময়ে বা মুহূর্তে কোনো কাজ সম্পন্ন হলে সেখানে অধিকরণ কারকে সপ্তমীর বিভক্তি যুক্ত হয়।
- চন্দ্রোদয়ে শব্দটির মূল হলো 'চন্দ্রোদয়' + 'এ' (সপ্তমী বিভক্তি)।
- এখানে 'চন্দ্রোদয়' একটি নির্দিষ্ট সময় বা অবস্থাকে বোঝাচ্ছে, যখন কুমুদিনি ফুল ফোটার কাজটি ঘটছে।
- যেহেতু সময় বা কাল বোঝালে অধিকরণ কারক হয় এবং তাতে সাধারণত সপ্তমীর বিভক্তি (এ, য়, তে) যুক্ত থাকে, তাই এটিই সপ্তমীর সঠিক উদাহরণ।
সম্মুখে অগ্রসর হয়ে অভ্যর্থনা'_এক কথায় প্রকাশ করলে কি হয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো প্রত্যুদ্গমন। কোনো কিছু পাওয়ার জন্য বা কাউকে সম্মান জানাতে সামনে এগিয়ে গিয়ে অভ্যর্থনা জানানো বা অর্ঘ্য দেওয়ার এককথার প্রকাশ হলো 'প্রত্যুদ্গমন'। পরীক্ষা ও চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার বাংলা ব্যাকরণে এই গুরুত্বপূর্ণ এককথার প্রকাশটি প্রায়ই আসে, তাই এটি মনে রাখা খুব সহজ।
তামার বিষ' বাগধারাটির অর্থ কি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: অর্থের কুপ্রভাব।
'তামার বিষ' একটি খুব পরিচিত বাংলা প্রবাদ বা বাগধারা। এর সহজ অর্থ হলো অতিরিক্ত বা অবৈধ টাকার প্রভাবে মানুষের চরিত্র খারাপ হয়ে যাওয়া কিংবা টাকার কারণে কোনো সম্পর্কে অবনতি ঘটা। অর্থাৎ, অর্থের লোভ বা কুপ্রভাব বোঝাতেই এই চমৎকার বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়।
গুনহীনের ব্যর্থ আস্ফালন '_অর্থটি কোন প্রবাদে ব্যক্ত হয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অসারের তর্জন-গর্জন সার।
বিষয়টা খুব সহজ! যার মধ্যে সত্যিকারের গুণ বা যোগ্যতা থাকে না, সে-ই কেবল ফাঁকা আওয়াজ দেয় বা বড় বড় কথা বলে বেশিাই আস্ফালন করে। প্রবাদের ভাষায় একেই বলা হয়—'অসারের তর্জন-গর্জন সার'। অর্থাৎ, গুণহীন মানুষের ঢাক-ঢোল পেটানোই সার, কাজের বেলায় কিছু থাকে না।