১৭ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (কলেজ পর্যায়) ২০২২
‘চতুষ্পদ’ শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো চতু: + পদ।
বিষয়টি খুব সহজ একটা নিয়মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি:
- বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, বিসর্গের পর যদি 'প' বা 'ফ' থাকে, তবে বিসর্গটি অনেক সময় মূর্ধন্য ষ (ষ) এ রূপান্তরিত হয়।
- সেই নিয়মে চতু: (বিসর্গ সন্ধি) এবং পদ মিলে খুব সহজেই তৈরি হয় চতুষ্পদ শব্দটি।
‘মানব’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো মনু + ষ্ণ।
খুব সহজে মনে রাখার কৌশল:
- 'মানব' শব্দটি এসেছে 'মনু' শব্দের সাথে 'ষ্ণ' (অ) প্রত্যয় যুক্ত হয়ে।
- তদ্ধিত প্রত্যয়ের নিয়ম অনুযায়ী, শব্দের আদিস্বর 'অ' বা 'আ' থাকলে তা পরিবর্তিত হয়ে 'আ' হয়ে যায় (মন্ + ষ্ণ = মানব)।
- তাই মানব শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো মনু + ষ্ণ।
নিচের কোনটি প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো জেলেনি। কারণ শব্দটির মূল রূপ হলো 'জেলে', যার সাথে স্ত্রীবাচক প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়েছে। বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী পুংবাচক শব্দের সাথে বিশেষ প্রত্যয় যোগ করে এভাবেই স্ত্রীবাচক শব্দ তৈরি করা হয়।
‘পাপে বিরত থাকো ‘—কোন কারকে কোন বিভক্তি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: অপাদানে ৭মী।
- বাক্যে 'পাপ' থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। কোনো কিছু থেকে বিচ্যুত, রক্ষিত, ত্ত্বাহিত, বিরত বা দূরে থাকা বোঝালে অপাদান কারক হয়।
- 'পাপে' শব্দের সাথে 'এ' বা 'তে' বিভক্তি যুক্ত আছে, যা ৭মী বা সপ্তমী বিভক্তির রূপ। তাই এটি অপাদানে ৭মী বিভক্তি।
বিভক্তিহীন নামপদকে কী বলে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো প্রাতিপদিক। কারণটা খুব সহজ—
- বিভক্তিহীন নামশব্দ বা শব্দের মূল রূপকে প্রাতিপদিক বলা হয়।
- যেমন: হাত, বই, কলম—এগুলোর সাথে কোনো বিভক্তি যুক্ত নেই, তাই এগুলো একেকটি প্রাতিপদিক (বা প্রতিপদ)।
কোনটি ‘উপপদ তৎপুরুষের’ উদাহরণ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ছেলেধরা।
যে তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদ কৃদন্ত পদ (যে পদের সাথে প্রত্যয় যুক্ত থাকে) এবং পরপদ বিশেষ্য পদ হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
- 'ছেলেধরা' কথাটির ব্যাসবাক্য হলো: ছেলেকে ধরে যে।
- এখানে 'ধরা' হলো কৃদন্ত পদ এবং 'ছেলে' হলো বিশেষ্য পদ।
- খুব সহজ কথায়, বাক্যের শেষের অংশটি যদি কোনো কাজ বা ক্রিয়ার সাথে যুক্ত থাকে এবং তা কোনো ব্যক্তিকে নির্দেশ করে, তবে চোখ বন্ধ করে তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস দাগিয়ে দেওয়া যায়।
সমাসবদ্ধ পদ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ছাড়পত্র।
বিষয়টা খুব সহজ! 'ছাড়পত্র' শব্দটিকে ভাঙলে আমরা পাই — 'ছাড়িবার জন্য পত্র', যা একটি মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস। অন্যদিকে, আকাশ, মৃত্তিকা বা সাগর কোনোটিই সমাসবদ্ধ পদ নয়, এগুলো মৌলিক বা স্বতন্ত্র শব্দ। তাই পরীক্ষার হলে এমন প্রশ্ন দেখলে সহজেই গঠন ও অর্থ বিচার করে সঠিক উত্তরটি বেছে নেওয়া যায়।
কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ?
সঠিক উত্তর হলো কানাকানি। ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো এর গঠন। যখন কোনো ক্রিয়ার পারস্পরিক বিনিময় বা একই কাজ দুইজনের মধ্যে বোঝায়, তখনই তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি বলে।
- কানাকানি শব্দটির অর্থ হলো কানে কানে যে কথা, অর্থাৎ একজনের কান থেকে অন্যজনের কানে কথা বিনিময়।
- এই সমাসে সাধারণত পূর্বপদে 'আ' এবং উত্তরপদে 'ই' যোগ হয়। যেমন: কান + কান = কানাকানি।
- একইভাবে হাতাহাতি (হাতে হাতে যে লড়াই), লাঠালাঠি (লাঠিতে লাঠিতে যে লড়াই) এগুলোও এই সমাসের দারুণ উদাহরণ।
সহজ কথায়, যখন কোনো কাজ দুই পক্ষ মিলে একে অপরের সাথে করে, সেটাই ব্যতিহার বহুব্রীহি।
‘পোস্টাল কোড’ কী নির্দেশ করে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো প্রাপকের এলাকা।
চিঠিপত্র বা পার্সেল পাঠানোর সময় ‘পোস্টাল কোড’ বা জিপ কোড মূলত নির্দিষ্ট করে দেয় চিঠিটি কোন এলাকার বা কোন পোস্ট অফিসের আওতাধীন। এর মাধ্যমে খুব সহজেই প্রাপকের নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান বা এলাকা চিহ্নিত করা হয়, যাতে ডাক বিভাগ ভুল ছাড়াই সঠিক গন্তব্যে চিঠি পৌঁছে দিতে পারে।
Edition শব্দের অর্থ-
এখানে সঠিক উত্তর হলো সংকরণ।
ইংরেজি Edition শব্দটির বাংলা পরিভাষা বা অর্থ হলো কোনো বই, ম্যাগাজিন বা পত্রিকার প্রকাশিত রূপ বা সংকরণ। সাধারণত কোনো লেখার নতুন প্রকাশনা বা মুদ্রণ বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়।