১৮ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (কলেজ পর্যায়) ২০২৪
গ্রিনিচ মান সময় অপেক্ষা বাংলাদেশের সময় কত ঘন্টা আগে?
সঠিক উত্তর হলো ৬ ঘন্টা। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায় এভাবে:
- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের ওপর একবার ঘুরতে অর্থাৎ ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে সময় নেয় ২৪ ঘন্টা।
- সেই হিসেবে ১ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশের পার্থক্যের জন্য সময়ের ব্যবধান হয় $\frac{24}{360} = \frac{1}{15}$ ঘন্টা বা ৪ মিনিট।
- বাংলাদেশের দ্রাঘিমাংশ ৯০ ডিগ্রি পূর্ব। গ্রিনিচ মান সময় (০ ডিগ্রি) থেকে ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত সময়ের পার্থক্য হিসাব করলে দাঁড়ায়: $90 \times 4 = 360$ মিনিট।
- এখন, ৩৬০ মিনিটকে ঘন্টায় রূপান্তর করলে পাই: $\frac{360}{60} = 6$ ঘন্টা।
যেহেতু বাংলাদেশ গ্রিনিচের পূর্বে অবস্থিত, তাই আমাদের সময় গ্রিনিচ মান সময় থেকে ৬ ঘন্টা এগিয়ে থাকে।
বিশ্ব অটিজম দিবস কবে পালিত হয়?
বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস প্রতি বছর ২ এপ্রিল পালন করা হয়। অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের প্রতি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে জাতিসংঘ এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।
- দিন: ২
- মাস: এপ্রিল
সহজ কথায় মনে রাখার উপায় হলো, বছরের চতুর্থ মাসের দ্বিতীয় দিনটিই হলো অটিজম দিবস। এটি বিশ্বজুড়ে অটিজম নিয়ে কুসংস্কার দূর করতে এবং আক্রান্তদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বর্তমান বৃহত্তম ঢাকা জেলা প্রাচীনকালে কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
সঠিক উত্তর হলো বঙ্গ। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ প্রাচীন বাংলার ভৌগোলিক বিভাজনে ঢাকা অঞ্চলটি মূলত বঙ্গ জনপদের অংশ হিসেবে পরিচিত ছিল।
- প্রাচীনকালে বর্তমান ঢাকা, বিক্রমপুর ও ফরিদপুর অঞ্চল নিয়ে গঠিত এলাকাটি বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, গঙ্গা ও ভাগীরথী নদীর পূর্বদিকের নিম্নভূমি অঞ্চলটিই মূলত বঙ্গ নামে পরিচিত ছিল, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকা।
সহজ কথায়, ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে ঢাকা সবসময়ই বঙ্গ জনপদের মূল ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে।
লোহিত সাগর কোন দুটি মহাদেশকে আলাদা করেছে?
লোহিত সাগর ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। এটি মূলত আফ্রিকা এবং এশিয়া মহাদেশের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। সহজভাবে মনে রাখার উপায় হলো:
- লোহিত সাগরের পশ্চিমে রয়েছে আফ্রিকা মহাদেশ (প্রধানত মিশর, সুদান ও ইরিত্রিয়া)।
- এর পূর্ব দিকে রয়েছে এশিয়া মহাদেশ (সৌদি আরব ও ইয়েমেন)।
- এই দুই মহাদেশের মাঝখানে সংকীর্ণ জলপথ হিসেবে লোহিত সাগর একটি প্রাকৃতিক সীমানা তৈরি করেছে।
তাই মানচিত্রের দিকে তাকালে খুব সহজেই বোঝা যায় যে, লোহিত সাগর এই দুই বিশাল ভূখণ্ডকে একে অপরের থেকে আলাদা করে রেখেছে।
মধ্যযুগের শেষ কবি?
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের সর্বশেষ এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হলেন ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর। তাকে মধ্যযুগের সমাপ্তি নির্দেশক কবি বলা হয়, কারণ তার রচনার পর থেকেই বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের পদধ্বনি শোনা যায়।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- সময়কাল: ভারতচন্দ্র অষ্টাদশ শতাব্দীর কবি। তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'অন্নদামঙ্গল' মধ্যযুগের কাব্যধারার চূড়ান্ত বিকাশ।
- বৈশিষ্ট্য: তার রচনায় মধ্যযুগীয় দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচারের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের ছোঁয়া ও নাগরিক রুচির পরিচয় পাওয়া যায়, যা মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগে উত্তরণের একটি বড় ধাপ।
- উপাধি: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাকে 'রায় গুণাকর' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন, যা তার পাণ্ডিত্য ও কাব্যশৈলীর অনন্যতার প্রমাণ দেয়।
তাই সাহিত্যিক বিচারে ভারতচন্দ্র রায় গুণাকরকেই মধ্যযুগের শেষ বড় মাপের কবি হিসেবে গণ্য করা হয়।
যুগ সন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে পরিচিতি?
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্তকে 'যুগ সন্ধিক্ষণের কবি' বলা হয়। এর কারণটা খুব সহজ:
- বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগ এবং আধুনিক যুগের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছেন।
- তার লেখায় একদিকে যেমন মধ্যযুগীয় কাব্যরীতির প্রভাব ছিল, অন্যদিকে আধুনিক যুগের নতুন চিন্তা ও সমাজ সচেতনতার ছাপও স্পষ্ট ছিল।
- এই দুই যুগের বৈশিষ্ট্য তার কবিতায় মিশে গিয়েছিল বলেই তাকে এই বিশেষ অভিধায় ভূষিত করা হয়।
সহজ কথায়, তিনি ছিলেন পুরনো ধারার শেষ এবং নতুন ধারার প্রথম দিকের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি।
চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেটের প্রবর্তক?
সঠিক উত্তর হলো মাইকেল মধুসুদন দত্ত। বাংলা সাহিত্যে সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতার প্রবর্তক হিসেবে তিনিই সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী নাম।
বিষয়টি মনে রাখার সহজ কিছু পয়েন্ট:
- বাংলা সাহিত্যে সনেটের জনক হিসেবে মাইকেল মধুসুদন দত্তকে গণ্য করা হয়।
- তিনি ইতালীয় কবি পেত্রার্কের সনেট রীতি অনুসরণ করে বাংলা ভাষায় সনেট রচনা করেন।
- তার বিখ্যাত সনেট সংকলনের নাম 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী', যা ১৮৬৬ সালে প্রকাশিত হয়।
সহজ কথায়, বাংলা কবিতায় সনেটের গঠনশৈলী এবং এর সার্থক প্রয়োগ প্রথম তিনিই নিয়ে আসেন, তাই তাকেই এই ধারার প্রবর্তক বলা হয়।
‘পাবক’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
সঠিক উত্তর হলো অগ্নি। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ!
বাংলা ব্যাকরণে 'পাবক' শব্দটি আগুনের একটি বিশেষ নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর পেছনের কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- 'পাবক' শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো যা পবিত্র করে বা যা শুদ্ধ করে।
- অগ্নি বা আগুন যেকোনো কিছুকে পুড়িয়ে শুদ্ধ করে ফেলে, তাই অগ্নিকে 'পাবক' বলা হয়।
- সমার্থক শব্দ মনে রাখার জন্য এই ছোট কৌশলটি মাথায় রাখতে পারেন: আগুন, অনল, দহন এবং পাবক—এগুলো সবই একই অর্থ বহন করে।
তাই পরীক্ষার খাতায় 'পাবক' দেখলেই চোখ বন্ধ করে অগ্নি দাগিয়ে দিতে পারেন!
‘অলীক’ এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সত্য। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ 'অলীক' শব্দের অর্থ হলো যা মিথ্যা, অবাস্তব বা কল্পনাপ্রসূত।
সহজ কথায় মনে রাখার উপায়:
- অলীক মানে যা বাস্তবে নেই বা ভিত্তিহীন।
- এর বিপরীত বা উল্টো অর্থ হলো যা বাস্তবে আছে বা সঠিক, অর্থাৎ সত্য।
তাই যেকোনো জায়গায় 'অলীক' শব্দটির বিপরীত হিসেবে চোখ বন্ধ করে 'সত্য' বেছে নিতে পারেন!
‘সুলতানার স্বপ্ন’ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত
‘সুলতানার স্বপ্ন’ বা ‘Sultana's Dream’ হলো বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের লেখা একটি কালজয়ী নারীবাদী সায়েন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি। সাহিত্যের শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী এটি একটি উপন্যাস বা ছোটগল্পের আদলে লেখা রূপকধর্মী আখ্যান।
- এটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়, যেখানে লেখিকা একটি কাল্পনিক নারীশাসিত দেশ ‘লেডি ল্যান্ড’-এর বর্ণনা দিয়েছেন।
- গল্পের মূল উপজীব্য হলো বিজ্ঞান ও যুক্তির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কুসংস্কারের সমালোচনা।
- সাহিত্যের গঠনশৈলী ও বর্ণনার ধরনে এটি একটি সার্থক উপন্যাস হিসেবেই স্বীকৃত।