৬ষ্ঠ বেসরকারি প্রভাষক নিবন্ধন পরীক্ষা প্রশ্ন সমাধান ১০-১২-২০১০
“বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’ – এ উক্তিটির প্রকৃত তাৎপর্য হচ্ছে–
এখানে সঠিক উত্তর হলো জীবমাত্রই স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর।
বিষয়টা খুব সহজ! বন্য প্রাণীরা যেমন বনেই মানায় এবং শিশুরা মায়ের কোলেই নিরাপদ ও সুন্দর থাকে, তেমনি পৃথিবীর প্রতিটি সৃষ্টিই তার নিজ নিজ মানানসই বা স্বাভাবিক পরিবেশে সবচেয়ে বেশি সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়।
‘ইদুর কপালে’ বাগধারাটি কোন অৰ্থে ব্যবহৃত হয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো মন্দ ভাগ্য।
বাংলা ব্যাকরণে 'ইদুর কপালে' একটি অত্যন্ত পরিচিত বাগধারা। এর আক্ষরিক অর্থ ইঁদুরের মতো ছোট কপাল মনে হলেও, প্রবচনগত বা ভাবগত দিক থেকে এটি এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে মানুষের কপাল বা ভাগ্য অত্যন্ত মন্দ বা খারাপ হয়। অর্থাৎ, জীবনে যার কোনো কিছুতেই ভাগ্য সহায় হয় না, তাকেই এই বাগধারার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
“বৈরাগ্য সাধনে – সে আমার নয়” শূন্যস্থান পূরণ করুন।
এখানে সঠিক উত্তর হলো মুক্তি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত "বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি সে আমার নয়" কবিতাংশটি থেকে এটি নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কবি বুঝাতে চেয়েছেন যে, শুধু কাঠিন্য বা বৈরাগ্যের সাধনায় প্রকৃত মুক্তি পাওয়া যায় না, বরং সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দ ও কর্মের মাধ্যমেই আসল মুক্তি নিহিত রয়েছে।
বাংলা ভাষায় মাত্রাহীন বর্ণ কয়টি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ১০টি। খুব সহজেই মনে রাখার জন্য মনে রাখবেন, বাংলা বর্ণমালায় মোট মাত্রাহীন বর্ণ রয়েছে ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণে রয়েছে ৪টি ($অ, এ, ওই, ও$) এবং ব্যঞ্জনবর্ণে রয়েছে ৬টি ($ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ$)।
‘গায়ে হলুদ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো বহুব্রীহি সমাস। কারণ এই সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কারোরই অর্থের প্রাধান্য থাকে না, বরং সম্পূর্ণ নতুন একটি অর্থ প্রকাশ পায়।
'গায়ে হলুদ' কথাটি দিয়ে এমন একটি অনুষ্ঠানকে বোঝায় যেখানে গায়ে হলুদ মাখানো হয়। অর্থাৎ, সমাসবদ্ধ পদটি দিয়ে গা বা হলুদ—কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে একটি বিশেষ সামাজিক উৎসবকে বুঝিয়েছে। তাই এটি ব্যাসবাক্য করলে দাঁড়ায় "গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে" — যা বহুব্রীহি সমাসের স্পষ্ট উদাহরণ।
কোনটি “উপপদ তৎপুরুষের’ উদহারণ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ছেলেধরা।
যে তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদ কৃৎপ্রকৃতি বা কৃদন্ত পদ এবং পরপদ কৃদন্ত পদের বিশেষ্য বা বিশেষণের সাথে সমাসবদ্ধ হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
- 'ছেলে ধরে যে' — এভাবে ব্যাসবাক্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে 'ধরা' হলো কৃদন্ত পদ এবং 'ছেলে' হলো তার উপপদ।
- তাই এটি উপপদ তৎপুরুষ সমাসের চমৎকার একটি উদাহরণ।
'সূর্য’ শব্দের সমাৰ্থক শব্দ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো আদিত্য। কারণ 'সূর্য' শব্দের বেশ কিছু সমার্থক শব্দ রয়েছে, যার মধ্যে আদিত্য অন্যতম। অন্য দিকে, সুধাংশু ও বিধু হলো চাঁদের সমার্থক শব্দ। খুব সহজেই মনে রাখার জন্য মাথায় রাখতে পারো যে, প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানের নামগুলোর সঠিক উৎস ও অর্থ জানলে এ ধরনের প্রশ্ন সহজেই উত্তর করা যায়।
অনিষ্ট করতে গিয়ে ভাল করা কে কী বলে?
সঠিক উত্তর হলো শাপে বর।
বিষয়টা খুব সহজ! যখন কেউ কারো ক্ষতি বা অনিষ্ট করার চেষ্টা করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ঘটনাটিই তার জন্য আশীর্বাদ বা ভালো কিছু বয়ে আনে, তখন তাকেই আমরা বলি শাপে বর।
- শাপ মানে হলো অভিশাপ বা ক্ষতি।
- বর মানে হলো আশীর্বাদ বা ভালো কিছু।
সহজ কথায়, মন্দ থেকে ভালো কিছু ঘটার পরিস্থিতি বোঝাতেই এই বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়।
নিচের কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ?
সঠিক উত্তর হলো অনুতাপ। অব্যয়ীভাব সমাস চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো শব্দের শুরুতে কোনো উপসর্গ বা অব্যয় যোগ হওয়া।
- অনুতাপ শব্দটি গঠিত হয়েছে 'অনু' উপসর্গ যোগে, যার অর্থ হলো পশ্চাৎ বা পরে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে সাধারণত পূর্বপদের অর্থের প্রাধান্য থাকে এবং এটি কোনো উপসর্গ (যেমন: অনু, আ, উপ, প্রতি, নি) দিয়ে শুরু হয়।
- যেহেতু 'অনুতাপ' শব্দটি 'অনু' উপসর্গ দিয়ে শুরু হয়েছে এবং এটি পশ্চাৎ বা অনুগমন অর্থ প্রকাশ করছে, তাই এটি অব্যয়ীভাব সমাসের একটি নিখুঁত উদাহরণ।
কোন জোড়াটি ভিন্নার্থক?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ব্যাঙের আধুলি- ব্যাঙের সর্দি। কারণটা খুব সহজ, বাকি অপশনগুলোতে যে জোড়াগুলো দেওয়া আছে, তাদের অর্থ একই বা সমার্থক। কিন্তু এই অপশনটিতে:
- ব্যাঙের আধুলি মানে হলো সামান্য বা তুচ্ছ বস্তু।
- ব্যাঙের সর্দি মানে হলো অসম্ভব ঘটনা।
যেহেতু এই দুটির অর্থ সম্পূর্ণ আলাদা, তাই এটিই এখানে ভিন্নার্থক জোড়া। পরীক্ষার হলে এমন প্রশ্ন আসলে প্রতিটি বাগধারার অর্থ আলাদাভাবে মনে রাখলেই খুব সহজে উত্তর বের করা যায়।