বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড নিয়োগ পরীক্ষা ২০১৬
‘আলোকিত মানুষ চাই’ এটি কোন প্রতিষ্ঠানের স্লোগান?
এখানে সঠিক উত্তর হলো বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।
প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক ও সংগঠক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে দেশে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে এবং মননশীল সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এই সুন্দর আন্দোলনের মূল প্রতিপাদ্য বা স্লোগানই হলো ‘আলোকিত মানুষ চাই’।
‘যদি সত্য বল, তাহলে মুক্তি পাবে’ -এটি কোন ধরনের বাক্য?
সঠিক উত্তর হলো মিশ্র বাক্য। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝার জন্য নিচের পয়েন্টগুলো খেয়াল করুন:
- মিশ্র বা জটিল বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের ওপর অন্য একটি আশ্রিত খণ্ডবাক্য নির্ভরশীল থাকে।
- এখানে 'যদি' এবং 'তাহলে' অব্যয় জোড়াটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা শর্ত সাপেক্ষে একটি বাক্যকে অন্যটির ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে।
- যে বাক্যে একটি সাপেক্ষ সর্বনাম বা অব্যয় জোড়া (যেমন: যদি-তাহলে, যে-সে, যিনি-তিনি) থাকে, সেটিই মূলত মিশ্র বাক্য।
সহজ কথায়, যখন একটি বাক্যের অংশ অন্যটির ওপর নির্ভর করে অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে আমরা চোখ বন্ধ করে মিশ্র বাক্য বলতে পারি।
‘দুই এবং নব্বই’ = বিরানব্বই কোন ধরনের সমাসের উদাহরণ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো নিত্য সমাস।
খুব সহজ একটা টেকনিক মনে রেখো—যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদটিকে ভেঙে আলাদা কোনো ব্যাসবাক্য তৈরি করা যায় না, বরং অর্থ বোঝাতে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকেই নিত্য সমাস বলে।
- যেমন: ‘দুই এবং নব্বই’ বললে স্বাভাবিকভাবে আলাদা পদের সমষ্টি মনে হতে পারে।
- কিন্তু এর সমস্ত পদ ‘বিরানব্বই’ একটি বিশেষ সংখ্যাকে বোঝায়।
- যেহেতু এর কোনো স্বাভাবিক ব্যাসবাক্য হয় না এবং পদের স্বাভাবিক অর্থ বজায় থাকে না, তাই এটি সরাসরি নিত্য সমাসের উদাহরণ।
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের রচয়িতা -
এখানে সঠিক উত্তর হলো বড়ু চণ্ডীদাস। কারণ মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের আবিষ্কৃত পুথির ভণিতায় বড়ু চণ্ডীদাস নামটি পাওয়া যায়। বাংলা সাহিত্যে চণ্ডীদাস নামে একাধিক কবি থাকলেও, এই অমর কাব্যের রচয়িতা হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাস নামটাই বিশেষভাবে পরিচিত ও প্রামাণিক।
‘মোদের গরব মোদের আশা আ-মরি বাংলা ভাষা’ এর রচয়িতা কে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অতুলপ্রসাদ সেন।
খুব সহজেই মনে রাখার উপায় হলো, আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে নিয়ে লেখা বিখ্যাত ও আবেগঘন এই গানটির গীতিকার হলেন বিশিষ্ট সুরকার ও গীতিকার অতুলপ্রসাদ সেন। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই তিনি এই অমর পঙ্ক্তিমালা রচনা করেছিলেন।
‘সৃষ্টি’ এর প্রকৃতি প্রত্যয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option C: সৃজ্ + তি।
সন্ধি বা প্রকৃতি-প্রত্যয় মনে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো মূল ধাতু বা শব্দের শেকড়টা চিনে রাখা। 'সৃষ্টি' শব্দটি এসেছে 'সৃজ্' ধাতু থেকে, যার সাথে 'তি' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে শব্দটি গঠিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী ‘জ্’ এর জায়গায় ‘ষ্’ হয়ে ‘সৃষ্টি’ রূপটি তৈরি হয়। তাই সরাসরি মনে রাখবেন—
- মূল ধাতু: সৃজ্
- প্রত্যয়: তি
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রথম প্রধান ছিলেন -
এখানে সঠিক উত্তর হলো উইলিয়াম কেরী।
যাঁরা বাংলা গদ্যের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে উইলিয়াম কেরী অন্যতম। ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বাংলা ভাষায় পাঠ্যপুস্তক রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
যুগ সন্ধিক্ষণের কবি -
নিচের কোনটি সূর্যের প্রতিশব্দ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সবিতা। সূর্যের অনেকগুলো নামের মধ্যে 'সবিতা' একটি অত্যন্ত পরিচিত ও প্রচলিত শব্দ।
সহজভাবে মনে রাখার জন্য কিছু টিপস:
- সবিতা মানেই হলো সূর্য বা রবি।
- অন্যদিকে, অবনী বলতে পৃথিবী বোঝায়।
- সুধাকর এবং কলানিধি—এই দুটি শব্দই মূলত চাঁদকে নির্দেশ করে।
তাই পরীক্ষার খাতায় যখনই সূর্যের প্রতিশব্দ খুঁজবেন, তখন সবিতা, রবি, ভানু বা ভাস্কর—এই শব্দগুলো মাথায় রাখলেই খুব সহজে সঠিক উত্তরটি বেছে নিতে পারবেন।
‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকা কার সম্পাদনায় বের হতো?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
খুব সহজে মনে রাখার শর্টকাট টেকনিক হলো—বাংলা সাংবাদিকতার ইতিহাসে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত নামটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি বিখ্যাত এই দৈনিক পত্রিকাটির সম্পাদনা শুরু করেন, যা পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্য ও সংবাদজগতের এক মাইলফলক হয়ে ওঠে।