স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হলো- i. A, D, E Il. A, B, C iii. A, D, K নিচের কোনটি সঠিক?
সঠিক উত্তর হলো i ও iii। ভিটামিনগুলোকে মূলত তাদের দ্রবণীয়তার ওপর ভিত্তি করে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে চর্বি বা স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো মনে রাখার একটি সহজ কৌশল হলো "ADEK"।
- ভিটামিন A, D, E এবং K হলো স্নেহে দ্রবণীয়।
- অন্যদিকে, ভিটামিন B কমপ্লেক্স এবং C হলো পানিতে দ্রবণীয়।
যেহেতু প্রশ্নে উল্লেখিত i (A, D, E) এবং iii (A, D, K) উভয় সেটই এই নিয়মের মধ্যে পড়ে, তাই সঠিক উত্তরটি হবে i ও iii।
গাজরে প্রধানত কোনটি পাওয়া যায়?
গাজরে প্রধানত বিটা ক্যারোটিন পাওয়া যায়। বিষয়টি বেশ সহজ, কারণ গাজরের উজ্জ্বল কমলা রঙের পেছনে এই উপাদানটিই মূল ভূমিকা পালন করে।
- আমাদের শরীর এই বিটা ক্যারোটিনকে গ্রহণ করার পর তা সরাসরি ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত করে।
- এটি চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কার্যকর।
- প্রকৃতিতে থাকা এই প্রাকৃতিক রঞ্জকটিই গাজরকে পুষ্টিগুণে ভরপুর করে তোলে।
পানির pH এর মান খুব কমে গেলে জলজ প্রাণীর- i. অঙ্গপ্রত্যল সঠিকভাবে বিকশিত হবে না ii. দেহাভ্যন্তরে খনিজ পদার্থ কমে যাবে iii. রোগব্যাধি সৃষ্টি হবে নিচের কোনটি সঠিক?
সঠিক উত্তর হলো Option D: i, ii ও iii। পানির pH এর মান স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে গেলে অর্থাৎ পানি অতিরিক্ত অম্লীয় (acidic) হয়ে পড়লে জলজ প্রাণীর ওপর এর প্রভাবগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়া: পানির অম্লতা বাড়লে মাছ বা অন্যান্য জলজ প্রাণীর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়া এবং তাদের শারীরিক বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- খনিজ পদার্থের ঘাটতি: অতিরিক্ত অম্লীয় পরিবেশে জলজ প্রাণীর দেহাভ্যন্তরে ক্যালসিয়ামসহ প্রয়োজনীয় খনিজ লবণের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, যা তাদের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়।
- রোগব্যাধি সৃষ্টি: পানির pH কমে গেলে প্রাণীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং তারা বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ও পরজীবীর আক্রমণের শিকার হয়।
সহজ কথায়, পানির pH এর ভারসাম্য নষ্ট হওয়া মানেই জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকার পরিবেশ বিষিয়ে ওঠা, যার ফলে তাদের শারীরিক গঠন, পুষ্টি এবং স্বাস্থ্য—সবকিছুই হুমকির মুখে পড়ে।
কোন উদ্ভিদটি পানিতে এবং স্থলে উভয় জায়গায় জন্মে?
সঠিক উত্তর হলো শ্যাওলা। বিষয়টি খুব সহজ, কারণ শ্যাওলা এমন এক ধরনের উদ্ভিদ যা আর্দ্র বা ভেজা যেকোনো পরিবেশে টিকে থাকতে পারে।
- শ্যাওলা সাধারণত স্যাঁতসেঁতে মাটি, পাথরের গায়ে বা গাছের বাকলে জন্মে, যেখানে সামান্য পানি বা আর্দ্রতা থাকে।
- আবার এরা পুকুর, ডোবা বা জলাশয়ের পানিতেও অনায়াসে বেঁচে থাকতে পারে।
- এদের কোনো প্রকৃত মূল, কাণ্ড বা পাতা নেই, তাই পানি ও স্থল উভয় জায়গার পরিবেশের সাথে এরা খুব দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে।
উদ্দীপকের প্রক্রিয়াকে কি বলা হয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো হার্ট বিট। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায় এভাবে:
- আমাদের হৃদপিণ্ড একটি নির্দিষ্ট ছন্দে সংকুচিত (systole) এবং প্রসারিত (diastole) হয়।
- এই ছন্দময় সংকোচন ও প্রসারণের ফলে যে স্পন্দন তৈরি হয়, তাকেই আমরা হার্ট বিট বা হৃদস্পন্দন বলি।
- একজন সুস্থ মানুষের হৃদপিণ্ড সাধারণত প্রতি মিনিটে প্রায় $72$ বার স্পন্দিত হয়।
সহজ কথায়, হৃদপিণ্ডের এই নিয়মিত ছন্দময় স্পন্দনই হলো হার্ট বিট, যা আমাদের শরীরে রক্ত সঞ্চালনকে সচল রাখে।
বিজ্ঞানীদের মতে বিবর্তনের সর্বশ্রেষ্ঠ মতবাদ কে দিয়েছেন?
এখানে সঠিক উত্তর হলো গ্রেগর মেন্ডেল। যদিও বিবর্তনের ক্ষেত্রে চার্লস ডারউইনের নাম বেশি পরিচিত, কিন্তু আধুনিক বংশগতিবিদ্যার জনক হিসেবে মেন্ডেলের কাজই বিবর্তনকে একটি শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দিয়েছে।
- মেন্ডেল মটরশুঁটি গাছের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে বংশগতির যে সূত্রগুলো দিয়েছিলেন, তা বিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
- ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের সাথে মেন্ডেলের বংশগতিবিদ্যার সমন্বয় ঘটিয়েই আধুনিক 'নিও-ডারউইনবাদ' বা বিবর্তনের আধুনিক সংশ্লেষণ তত্ত্ব তৈরি হয়েছে।
- সহজ কথায়, জীবের বৈশিষ্ট্য কীভাবে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়, তার গাণিতিক ব্যাখ্যা মেন্ডেলই প্রথম দিয়েছিলেন, যা বিবর্তনের প্রক্রিয়াকে বুঝতে অপরিহার্য।
নিচের কোনটি মহিউদ্দিনের চোখের জন্য ভালো?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ক্লান্ত চোখকে ঘুমের মাধ্যমে সতেজ করা। কারণ আমাদের চোখ শরীরের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অঙ্গ, যা দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। চোখের যত্নে এই বিষয়টি কেন সবচেয়ে কার্যকর, তা নিচে দেওয়া হলো:
- বিশ্রাম: একটানা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের পেশিতে চাপ পড়ে। ঘুম বা পর্যাপ্ত বিশ্রাম এই চাপ কমিয়ে চোখের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনে।
- সতেজতা: ঘুমের সময় চোখের পাতা বন্ধ থাকে, যা চোখের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং শুষ্কতা দূর করে।
- দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা: চোখের ক্লান্তি দূর করার সবচেয়ে প্রাকৃতিক এবং কার্যকর উপায় হলো পর্যাপ্ত ঘুম, যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
সহজ কথায়, চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে তাকে নিয়মিত বিশ্রাম দেওয়াই হলো চোখের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো অভ্যাস।
তন্তুর রাণী কাকে বলা হয়?
সঠিক উত্তর হলো রেশম। তন্তুর রাণী বা 'Queen of Fibers' হিসেবে রেশমকে চেনার কারণগুলো খুব সহজ:
- উজ্জ্বলতা ও মসৃণতা: রেশম প্রাকৃতিকভাবেই অত্যন্ত উজ্জ্বল, নরম এবং মসৃণ, যা অন্য কোনো প্রাকৃতিক তন্তুর মধ্যে সেভাবে দেখা যায় না।
- বিলাসবহুল গুণমান: এর স্থায়িত্ব এবং রাজকীয় আবেদনের কারণে প্রাচীনকাল থেকেই একে তন্তুর জগতে শ্রেষ্ঠ বা 'রাণী' হিসেবে গণ্য করা হয়।
- আরামদায়ক: রেশম খুব হালকা এবং এটি শরীরের তাপমাত্রার সাথে মানিয়ে নিতে পারে, তাই এটি সব ঋতুতেই আরামদায়ক।
সহজ কথায়, রেশমের অনন্য গঠন এবং এর থেকে তৈরি কাপড়ের আভিজাত্যই একে এই বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করেছে।
ইব্রাহিমের জমির মাটির pH কোনটি?
ইব্রাহিমের জমির মাটির pH ৩ এর কম হওয়ার কারণ হলো মাটিটি অত্যন্ত অম্লীয় বা অ্যাসিডিক। সাধারণত ফসলের জন্য মাটির pH ৬.০ থেকে ৭.৫ এর মধ্যে থাকা আদর্শ। কিন্তু কোনো কারণে মাটির pH যদি ৩ এর নিচে নেমে যায়, তবে তা অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
সহজ কথায় বিষয়টি এভাবে বোঝা যায়:
- pH স্কেলে ৭ হলো নিরপেক্ষ বা নিউট্রাল।
- ৭ এর নিচে মান যত কমতে থাকে, মাটির অম্লতা বা অ্যাসিডের পরিমাণ তত বাড়তে থাকে।
- pH মান ৩ এর কম হওয়া মানে মাটিতে অ্যাসিডের মাত্রা অনেক বেশি, যা গাছের পুষ্টি উপাদান শোষণে বাধা দেয় এবং মাটির স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট করে ফেলে।
A দ্বারা নিচের কোনটিকে নির্দেশ করা হয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো বায়বীয় পদার্থ। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায়:
- মাটির উপাদানের কথা চিন্তা করলে আমরা জানি, মাটির কণাগুলোর মাঝে যে ফাঁকা জায়গা থাকে, সেখানে বাতাস বা গ্যাস অবস্থান করে।
- মাটির এই ফাঁকা জায়গা বা রন্ধ্রগুলোই মূলত বায়বীয় পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে।
- সহজ কথায়, মাটির কণার মাঝখানের এই গ্যাসীয় অংশটিই এখানে 'A' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তাই মাটির গঠন বিশ্লেষণে এই অংশটি সবসময় বায়ুর উপস্থিতি নির্দেশ করে।