৫১
আম বাগানে প্রথম দেখায় বুড়ি কীরকম দৃষ্টিতে লেখকের দিকে চেয়েছিল?
উত্তর
জিজ্ঞাসু
সমাধান
আমবাগানে লেখকের সাথে প্রথম দেখাতেই বৃদ্ধা তাঁকে ঠিক চিনতে পারেননি। তিনি অত্যন্ত উৎসুক হয়ে এবং চোখে এক ধরনের গভীর জিজ্ঞাসা নিয়ে লেখকের মুখের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়েছিলেন, যেন তিনি অনেকদিন আগে হারিয়ে যাওয়া নিজের কাউকেই খুঁজে পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন প্রতিনিয়ত।
৫২
লেখকের কলকাতা চলে যাওয়ার কারণ কী?
উত্তর
ছুটি ফুরিয়ে যাওয়া
সমাধান
গল্পকথক বা লেখক মূলত তাঁর জীবিকা ও কর্মসূত্রে বড় শহর কলকাতায় স্থায়ীভাবে থাকতেন। তাঁর পৈতৃক ভিটার সংস্কার কাজ ও দীর্ঘ ছুটির সময় শেষ হওয়ার কারণেই তাঁকে বারবার শান্ত মায়াময় গ্রাম ছেড়ে যান্ত্রিক ও ব্যস্ত শহর কলকাতায় ফিরে যেতে হতো জীবিকার তাগিদে।
৫৩
কলকাতায় লেখকের একবারও বুড়িকে মনে না পড়ার কারণ কী?
উত্তর
কর্মব্যস্ততার কারণে
সমাধান
শহরের অত্যন্ত কর্মব্যস্ত জীবন এবং যান্ত্রিকতা মানুষের মন থেকে অনেক সময় সহজ ও সুন্দর স্মৃতিগুলোকে মুছে দেয়। লেখকও তেমনি কলকাতার তীব্র ব্যস্ততায় গ্রামের সেই বৃদ্ধার সহজ সরল কথা ও তাঁর পবিত্র অকৃত্রিম স্নেহের কথা সাময়িকভাবে ভুলে গিয়েছিলেন নিজের অজান্তেই।
৫৪
'ময়লা ছেঁড়া কাপড়ের প্রান্ত' শব্দগুচ্ছে কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে?
উত্তর
দারিদ্র্যের চরম দশা
সমাধান
বৃদ্ধার পরনের জীর্ণ ও নোংরা কাপড়ের বর্ণনা দিয়ে লেখক মূলত তাঁর চরম দরিদ্র দশা ও গ্রামীণ অভাবী মানুষের করুণ জীবনকে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই সামান্য একটি তথ্যের মাধ্যমেই বৃদ্ধার সারাজীবনের সীমাহীন অভাব-অনটনের এক অত্যন্ত মূর্ত ও জীবন্ত ছবি আমাদের চোখের সামনে ফুটে ওঠে।
৫৫
বুড়ির সম্বোধনে লেখকের বড় ভালো লাগার কারণ কী?
উত্তর
ঘনিষ্ঠ আদরের সম্বোধন
সমাধান
বৃদ্ধা লেখককে অত্যন্ত আপন ভেবে পরম আদরে 'ওরে আমার গোপাল' বলে ডাকত। এই মা ডাকের মতো অত্যন্ত মায়াবী ও হৃদস্পর্শী সম্বোধন লেখকের মনের গহীনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ও অকৃত্রিম ভালো লাগার সৃষ্টি করত, যা তাঁকে বারবার তাঁর ফেলে আসা শৈশবের মতো স্মৃতিকাতর করে তুলত।
৫৬
'মলিন বালিশ' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর
পুরনো বালিশ
সমাধান
বৃদ্ধা যখন একদম মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তখন তাঁর মাথার নিচে যে ময়লা বালিশটি রাখা ছিল তা ছিল অত্যন্ত পুরনো, জীর্ণ ও প্রায় ব্যবহারের অযোগ্য। এই ছোট বর্ণনার মাধ্যমেই তাঁর চরম নিঃসঙ্গ, অবহেলিত ও দারিদ্র্যপীড়িত শেষ জীবনের এক অত্যন্ত করুণ ছবি আমাদের সামনে ফুটে ওঠে।
৫৭
বুড়ির চালাঘরের পাশে কার চালাঘর অবস্থিত?
উত্তর
হাজরা ব্যাটার বউয়ের
সমাধান
বৃদ্ধার চরম একাকী জীবনে প্রতিবেশী হাজরা ব্যাটার বউই ছিল তাঁর একমাত্র প্রকৃত সহায় ও শুভাকাঙ্ক্ষী। তাদের ঘর দুটো পাশাপাশি হওয়ায় বিপদে-আপদে তারা সব সময় একে অপরকে আগলে রাখত, যা গ্রামীণ প্রতিবেশীদের মধ্যকার অকৃত্রিম ও সুগভীর ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য প্রমাণ।
৫৮
'আহ্বান' গল্পে বৃদ্ধাকে কবর দেওয়া হয়-
উত্তর
তিত্তিরাজ গাছের তলায়
সমাধান
গল্পের শেষ পর্যায়ে যখন সেই স্নেহের আধার বৃদ্ধার মৃত্যু হয়, তখন তাকে তিত্তিরাজ বা মাকাল গাছের শীতল তলায় চিরনিদ্রায় সমাধিস্থ করা হয়। এই শেষ বিদায়ের দৃশ্যটি প্রতিটি পাঠকের মনে এক গভীর শূন্যতা, মানবিক উপলব্ধি ও পরম বিষাদের সৃষ্টি করে যা সহজে ভোলার নয়।
৫৯
'রোয়াক' শব্দের অর্থ হলো-
উত্তর
দাওয়ার
সমাধান
বাংলার পুরনো ধাঁচের মাটির বাড়িগুলোতে ঘরের ঠিক সামনে যে খোলা নিচু বারান্দা বা উঁচু মাটির চাতাল থাকে, তাকেই আঞ্চলিক ভাষায় 'রোয়াক' বলা হয়। লেখক ও বৃদ্ধার জীবনের অনেক স্মৃতিবিজড়িত মায়াবী কথোপকথন এই রোয়াকেই নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়েছিল যা গল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
৬০
'আহ্বান' গল্পে বৃদ্ধার মৃত্যু হয় কোন ঋতুতে?
উত্তর
শরৎ
সমাধান
গল্পের বর্ণনানুসারে, লেখক যখন এক শরতের কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে গ্রামে আসেন, তখনই তিনি সেই বৃদ্ধার করুণ মৃত্যু সংবাদ পান। বাংলার শান্ত প্রকৃতির স্নিগ্ধ আবহের মাঝে বৃদ্ধার এই চিরকালীন বিদায় এক মরমী ও সমাহিত রূপ নিয়ে পাঠকের সামনে আবির্ভূত হয় যা অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী।