কোন বিকারটি ইথানল ও ইথানয়িক এসিড উভয়ের সাথে বিক্রিয়া করবে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option B: Na (সোডিয়াম)।
বিষয়টি খুব সহজেই এভাবে মনে রাখতে পারো:
- ইথানল ($CH_3CH_2OH$) একটি অ্যালকোহল এবং ইথানয়িক এসিড ($CH_3COOH$) একটি কার্বক্সিলিক এসিড।
- উভয় যৌগের অণুটাই সক্রিয় হাইড্রোজেন ($H$) পরমাণু ধারণ করে।
- সক্রিয় ধাতু যেমন $Na$ ইথানলের সাথে বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ইথোক্সাইড ($\text{CH}_3\text{CH}_2\text{ONa}$) ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে।
- একইভাবে, এটি ইথানয়িক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ইথানয়েট ($\text{CH}_3\text{COONa}$) ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে। তাই সোডিয়াম ধাতু উভয় যৌগের সাথেই বিক্রিয়ায় অংশ নেয়।
ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হতে যে শক্তির প্রয়োজন হয়, তা হচ্ছে-
এখানে সঠিক উত্তর হলো আয়নিকরণ শক্তি।
গ্যাসীয় অবস্থার কোনো মৌলের এক মোল বিচ্ছিন্ন পরমাণু থেকে একটি করে ইলেকট্রন অসীম দূরত্বে সরিয়ে একে এক মোল ধনাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয়, তাকেই ওই মৌলের আয়নিকরণ শক্তি (Ionization Energy) বলা হয়।
অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা - 1 2 হবে কোনটিতে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option D: $KO_2$ (পটাশিয়াম সুপারঅক্সাইড)। সুপারঅক্সাইডে অক্সিজেনের জারণ মান ব্যতিক্রম হিসেবে সাধারণ নিয়মের বাইরে হয়।
- ধরে নিই, অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা = $x$
- পটাশিয়ামের ($K$) জারণ মান সবসময় $+1$ হয়।
- যৌগটির ক্ষেত্রে সমীকরণ হবে: $+1 + 2x = 0$
- বা, $2x = -1$
- অতএব, $x = -\frac{1}{2}$
খুব সহজেই বোঝা গেল, এই যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা $-\frac{1}{2}$ বা $-1/2$ হয়।
তড়িৎ কোষের লবণ সেতুতে নিচের কোন পদার্থটি ব্যবহার করা হয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো KCl (পটাশিয়াম ক্লোরাইড)।
তড়িৎ কোষের লবণ সেতুতে সাধারণত এমন সব তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়, যাদের ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নের পরিবহনাঙ্ক প্রায় সমান। KCl এই শর্তটি খুব ভালোভাবে পূরণ করে। এছাড়া এটি অর্ধস্বচ্ছ জেলের (যেমন- আগার-আগার জেল) সাথে সহজে মিশে থেকে দুই পাত্রের দ্রবণের মধ্যে তড়িৎ নিরপেক্ষতা বজায় রাখে এবং তড়িৎ প্রবাহ সচল রাখে।
মনোহাইড্রিক অ্যালকোহল শনাক্তকরণে- i. Na ধাতু ব্যবহৃত হয় ii. P C l 5 প্রয়োজন হয় iii. স্যালিসাইলিক এসিড ব্যবহৃত হয়। নিচের কোনটি সঠিক?
এখানে সঠিক উত্তর হলো i, ii ও iii। কারণ মনোহাইড্রিক অ্যালকোহল শনাক্তকরণ এবং এর ধর্ম যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই তিনটি পরীক্ষাই অত্যন্ত কার্যকর:
- সক্রিয় সোডিয়াম ($Na$) ধাতু: অ্যালকোহলের অনুতে উপস্থিত সক্রিয় হাইড্রোজেন পরমাণুর ($–OH$ মূলক) সাথে সোডিয়াম ধাতু বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাসের বুদবুদ উৎপন্ন করে, যা অ্যালকোহল শনাক্ত করে।
- ফসফরাস পেন্টাক্লোরাইড ($PCl_5$): অ্যালকোহলের হাইড্রোক্সিল মূলকের ($–OH$) সাথে $PCl_5$-এর বিক্রিয়ায় সাদা ধোঁয়াসহ হাইড্রোজেন ক্লোরাইড ($HCl$) গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা মনোহাইড্রিক অ্যালকোহলের উপস্থিতি নিশ্চিত করে।
- স্যালিসাইলিক এসিড: অ্যালকোহলের সাথে স্যালিসাইলিক এসিডের বিক্রিয়ায় বিশেষ গন্ধযুক্ত এস্টার (যেমন- মিথাইল সেলিসাইলেট বা উইন্টারগ্রিন তেল) উৎপন্ন হয়, যা দিয়েও অ্যালকোহল শনাক্ত করা যায়।
নিম্নলিখিত জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার উৎপাদসমূহ কী কী? K 2 C r 2 O 7 ( a q ) + H 2 S O 4 ( a q ) + F e S O 4 ( a q ) → Products
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option D: K_2SO_4, Cr_2(SO_4)_3, Fe_2(SO_4)_3, H_2O (প্রমিত সমীকরণ অনুযায়ী)। এই জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক হিসেবে থাকা উপাদানগুলো পরিবর্তিত হয়ে নির্দিষ্ট ধাতব সালফেট ও পানি উৎপন্ন করে।
- পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট ($K_2Cr_2O_7$) বিজারিত হয়ে ক্রোমাস সালফেট বা $Cr_2(SO_4)_3$ উৎপন্ন করে।
- লৌহঘটিত সালফেট বা $FeSO_4$ জারিত হয়ে ফেরিক সালফেট অর্থাৎ $Fe_2(SO_4)_3$-এ পরিণত হয়।
- পটাশিয়াম অংশ থেকে পটাশিয়াম সালফেট $K_2SO_4$ এবং হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মিলে পানি ($H_2O$) তৈরি হয়।
গ্লোবিউলার প্রোটিন নয়-
এখানে সঠিক উত্তর হলো এনজাইম। গ্লোবিউলার প্রোটিন হলো এমন প্রোটিন যা পানিতে দ্রবণীয় এবং গোলাকার আকৃতির হয়। ইনসুলিন, হিমোগ্লোবিন এবং মায়োগ্লোবিন—এই তিনটিই গ্লোবিউলার প্রোটিনের চমৎকার উদাহরণ। অন্যদিকে, এনজাইম নিজেই কোনো একক প্রোটিনের কাঠামোগত নাম নয়, বরং প্রোটিন দিয়ে তৈরি এক ধরনের জৈব অনুঘটক (তবে অধিকাংশ এনজাইম গ্লোবিউলার প্রোটিন হলেও সরাসরি প্রোটিনের শ্রেণীবিভাগে এটি অন্য বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত)। তাই গ্লোবিউলার প্রোটিনের নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে সরাসরি এনজাইমকে ধরা হয় না।
C 6 H 4 ( C H 3 ) ( C l ) যৌগটির কতটি সমাণু সম্ভব?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ৪ (Option C)। যৌগটি হলো ক্লোরোটলুইন অর্থাৎ বেনজিন রিংয়ে একটি মিথাইল ($\text{–CH}_3$) এবং একটি ক্লোরিন ($\text{–Cl}$) মূলক যুক্ত আছে। এদের আপেক্ষিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে সমাণু সংখ্যা বের করা খুব সহজ:
- বেনজিন রিংয়ে দুটি প্রতিস্থাপক মূলক থাকলে তারা একে অপরের সাপেক্ষে মূলত ৩টি ভিন্ন অবস্থানে থাকতে পারে: অর্থো (ortho), মেটা (meta) এবং প্যারা (para)।
- কিন্তু প্রদত্ত যৌগে মূলক দুটি ভিন্ন ($\text{–CH}_3$ এবং $\text{–Cl}$)।
- এর ফলে অર્થো ($\text{o-}$), মেটা ($\text{m-}$) এবং প্যারা ($\text{p-}$) অবস্থানে ক্লোরিন ও মিথাইল মূলকের আদান-প্রদান বা বিন্যাসের কারণে মোট সমাণু পাওয়া যায় ৪টি।
যৌগগুলোর অবস্থান বিবেচনা করলে দেখা যায়: $2$-ক্লোরোটলুইন, $3$-ক্লোরোটলুইন এবং $4$-ক্লোরোটলুইন—এই ৩টি মূল অবস্থানের সাথে সাথে অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে মোট ৪টি সমাণু গঠন করা সম্ভব।
C H 3 - C H = C H - C H 2 - C H 2 - O H যৌগটির IUPAC নাম কি ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো পেন্ট-3-ইন-1-অল। জৈব যৌગের নামকরণের নিয়ম খুব সহজ:
- সবচেয়ে দীর্ঘ কার্বন শিকল নির্ধারণ করতে হবে যেখানে প্রধান কার্যকরী মূলক ($-\text{OH}$) এবং দ্বিবন্ধন ($=\text{}$) উভয়ই উপস্থিত থাকে। এখানে শিকলে কার্বন সংখ্যা ৫টি, তাই মূল শব্দ হলো পেন্ট।
- নামকরণের সময় কার্যকরী মূলক ($-\text{OH}$) যে দিক থেকে কাছে পায়, সে দিক থেকে নাম্বারিং শুরু করতে হয়। ডান দিক থেকে নাম্বারিং করলে $1$-অবস্থানে $-\text{OH}$ মূলক এবং $3$-অবস্থানে দ্বিবন্ধন পাওয়া যায়।
- দ্বিবন্ধনের অবস্থান ও নামের শেষে অল যুক্ত করে সম্পূর্ণ নামটি দাঁড়ায়: পেন্ট-3-ইন-1-অল।
গ্রাফাইটে কোন ধরনের সংকরণ বিদ্যমান?
এখানে সঠিক উত্তর হলো $sp^2$। বিষয়টি খুব সহজে এভাবে মনে রাখতে পারো:
- গ্রাফাইটের গঠন কাঠামোর প্রতিটি কার্বন পরমাণু তার পার্শ্ববর্তী অন্য তিনটি কার্বন পরমাণুর সাথে সমযোজী বন্ধন তৈরি করে যুক্ত থাকে।
- যেহেতু প্রতিটি কার্বন তিনটি করে সিগমা ($\sigma$) বন্ধন গঠন করে, তাই এদের মুক্ত ইলেকট্রন বা হাইব্রিড অরবিটালের হিসাব অনুযায়ী সংকরণ হয় $sp^2$।
- এই বিশেষ $sp^2$ সংকরণের কারণেই গ্রাফাইটের গঠন স্তরভিত্তিক বা ষড়ভুজাকৃতির হয় এবং এটি বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে।