২৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান 2008
রেফ্রিজারেটরে কমপ্রেসরের কাজ কী ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ১ ও ২। কারণ রেফ্রিজারেটরের কমপ্রেসর মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে:
- এটি শীতলকারী পদার্থ বা ফ্রেয়নকে উচ্চ চাপে সংকুচিত করে।
- এর ফলে ফ্রেয়নে তাপ উৎপন্ন হয় এবং এর তাপমাত্রা ও চাপ উভয়ই বৃদ্ধি পায়, যা পরবর্তীতে তাপ বাইরে ছেড়ে দিতে সাহায্য করে।
সহজ কথায়, কমপ্রেসর ফ্রেয়ন গ্যাসকে পাম্প করে পুরো সিস্টেমে ঠান্ডা করার প্রক্রিয়াটি সচল রাখে।
এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা ২০ হতে ৩০ সেলসিয়াসে বৃদ্ধির জন্যে কত তাপের প্রয়োজন?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: ১০ ক্যালরি। খুব সহজেই বিষয়টি বুঝে নেওয়া যাক:
- পানির তাপমাত্রার ক্ষেত্রে আমরা জানি, ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১ $^\circ\text{C}$ বাড়াতে ঠিক ১ ক্যালরি তাপের প্রয়োজন হয়, যাকে পানির আপেক্ষিক তাপ বলা হয়।
- এখানে পানির ভর হলো $m = ১$ গ্রাম।
- তাপমাত্রার পরিবর্তন, $\Delta T = ৩০ - ২০ = ১০$ $^\circ\text{C}$।
- প্রয়োজনীয় তাপ $Q = m s \Delta T$ সূত্র অনুযায়ী, $Q = ১ \times ১ \times ১০ = ১০$ ক্যালরি।
অর্থাৎ, ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ২০ $^\circ\text{C}$ থেকে বাড়িয়ে ৩০ $^\circ\text{C}$ করতে মোট ১০ ক্যালরি তাপ লাগবে।
টেপ রেকর্ডার এবং কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় কী ধরনের চুম্বক ব্যবহৃত হয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো স্থায়ী চুম্বক।
টেপ রেকর্ডার বা কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক এবং ম্যাগনেটিক টেপের প্রধান কাজ হলো তথ্য বা ডেটা দীর্ঘদিন ধরে নিজের মধ্যে সংরক্ষণ বা সেভ করে রাখা। আর এই কাজের জন্য এমন চুম্বকের প্রয়োজন হয় যার চৌম্বকত্ব সহজে নষ্ট হয় না। তাই এখানে স্থায়ী চুম্বক বা ম্যাগনেটিক মেটেরিয়াল ব্যবহার করা হয়, যা বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াও দীর্ঘদিন তথ্য মনে রাখতে পারে।
টেলিভিশনে রঙ্গিন ছবি উৎপাদনের জন্যে কয়টি মৌলিক রং এর ছবি ব্যবহার করা হয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ৩টি। টেলিভিশনে রঙিন ছবি ফুটিয়ে তোলার জন্য মূলত তিনটি প্রাথমিক বা মৌলিক রং ব্যবহার করা হয়। রংগুলো হলো—লাল (Red), সবুজ (Green) এবং নীল (Blue)। এই তিনটি মৌলিক রঙের বিভিন্ন মাত্রার মিশ্রণ ঘটিয়েই স্ক্রিনে অন্যান্য সব রঙের বৈচিত্র্য তৈরি করা হয়।
পৃথিবীতে কখন ল্যাপটপ কম্পিউটার প্রবর্তিত হয় এবং কোন কোম্পানি এটি তৈরি করে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো এপসন, ১৯৮১।
প্রযুক্তি বিশ্বে সহজে মনে রাখার একটি দারুণ তথ্য হলো— জাপানি প্রতিষ্ঠান এপসন (Epson) ১৯৮১ সালে বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে সফল পোর্টেবল বা ল্যাপটপ কম্পিউটার বাজারে আনে, যার নাম ছিল Epson HX-20। এটি ওজনে হালকা হওয়ায় ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই যেকোনো জায়গায় বহন করতে পারত।
যে যন্ত্রের সাহায্যে পরবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয়, তার নাম কী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ট্রান্সফর্মার। এটি একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশের নীতিতে কাজ করে।
- উচ্চ বিভব বা ভোল্টেজকে কমিয়ে নিরাপদ নিম্ন ভোল্টেজে রূপান্তর করতে এটি ব্যবহৃত হয়।
- ঠিক একইভাবে, প্রয়োজন অনুযায়ী নিম্ন ভোল্টেজকে বাড়িয়ে উচ্চ ভোল্টেজ তৈরিতেও ট্রান্সফর্মার সাহায্য করে।
বিদ্যুৎ বিলের হিসাব কীভাবে করা হয়?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কিলোওয়াট আওয়ারে। কারণ আমাদের বাড়িতে বা প্রতিষ্ঠানে যে বিদ্যুৎ খরচ হয়, তার হিসাব করা হয় বাণিজ্যিক এককে, যার নাম কিলোওয়াট আওয়ার (kWh) বা সংক্ষেপে 'বোর্ড অব ট্রেড ইউনিট' (BOTU)।
- ১ কিলোওয়াট আওয়ার বা ১ হাজার ওয়াটের কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ১ ঘণ্টা চালালে যে বিদ্যুৎ খরচ হয়, তাকে ১ ইউনিট বলা হয়।
- বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো এই কিলোওয়াট আওয়ার বা ইউনিট হিসেবেই আমাদের মাসিক বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণ করে থাকে।
মানুষের স্পাইনাল কর্ডের দৈর্ঘ্য কত?
মানুষের স্পাইনাল কর্ড বা সুষুম্নাকাণ্ডের দৈর্ঘ্য সাধারণত ১৮ ইঞ্চি বা প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। এটি আমাদের মস্তিষ্কের নিচের অংশ থেকে শুরু হয়ে মেরুদণ্ডের ভেতর দিয়ে নিচের দিকে নেমে গেছে।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে এর গড় দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ ইঞ্চি।
- এটি আমাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা মস্তিষ্ক থেকে সারা শরীরে সংকেত আদান-প্রদান করে।
- দৈর্ঘ্যের এই পরিমাপটি সাধারণত মেরুদণ্ডের কশেরুকাগুলোর অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
জীবজগতের জন্যে সবচেয়ে ক্ষতিকারক রশ্বি কোনটি ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো আলট্রা-ভ্যায়োলেট রশ্মি বা অতিবেগুনি রশ্মি। সূর্য থেকে আসা এই ক্ষতিকারক রশ্মি জীবজগতের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
- অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি ত্বকে লাগলে ত্বকের ক্যানসার, রোদে পোড়া ভাব এবং চোখের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
- এটি উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে বাধা দেয় এবং জলজ ecosytem বা বাস্তুতন্ত্রের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর।
- বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর আমাদের এই ক্ষতিকর রশ্মির হাত থেকে রক্ষা করে।
কোথায় দিন-রাত্রি সর্বত্র সমান ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো নিরক্ষরেখায়। কারণ পৃথিবী গোল হওয়ার কারণে সূর্যরশ্মি সারাবছর নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে বা প্রায় সমানভাবে পতিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সারা বছরই দিন এবং রাতের দৈর্ঘ্য সমান অর্থাৎ ১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাত হয়ে থাকে।