৩৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০১৬
‘বিজ্ঞান’ শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ কোনটি?
‘বিজ্ঞান’ শব্দটিতে থাকা যুক্তবর্ণটি হলো জ্ঞ। এটি মূলত দুটি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত। সহজভাবে মনে রাখার কৌশলটি নিচে দেওয়া হলো:
- ‘বিজ্ঞান’ শব্দটি উচ্চারণ করলে আমরা পাই ‘বি-জ্-ঞ-আন’।
- এখানে জ্ঞ বর্ণটি তৈরি হয়েছে জ এবং ঞ-এর মিলনে।
- অর্থাৎ, গাণিতিক রূপটি হলো: জ + ঞ = জ্ঞ।
তাই সঠিক উত্তর হলো জ + ঞ। এই যুক্তবর্ণটি মনে রাখলে আপনি খুব সহজেই যেকোনো শব্দের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করতে পারবেন।
নিচের কোন শব্দে ণত্ব বিধি অনুসারে ‘ণ’ –এর ব্যবহার হয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো প্রবণ। ণত্ব বিধির সহজ নিয়মটি হলো, কোনো শব্দের শুরুতে যদি প্র, পরা, পরি, নির—এই উপসর্গগুলো থাকে, তবে তার পরবর্তী দন্ত্য-ন (ন) মূর্ধন্য-ণ (ণ)-এ পরিণত হয়।
- শব্দটি বিশ্লেষণ করলে আমরা পাই: প্র + বণ।
- এখানে প্র উপসর্গের প্রভাবে শব্দের শেষের 'ন' পরিবর্তিত হয়ে ণ হয়েছে।
- সহজ কথায়, শব্দের শুরুতে 'প্র' থাকলে সাধারণত তার পরের 'ন' মূর্ধন্য-ণ হয়, তাই এখানে প্রবণ শব্দটি সঠিক।
‘মিথ্যাবাদীকে সবাই অপছন্দ করে’— বাক্যটিকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলে হয় —–
সঠিক উত্তর হলো: মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না।
বাক্যটিকে নেতিবাচক করার সময় আমাদের মূল অর্থের দিকে খেয়াল রাখতে হয়। এখানে সহজ কৌশলটি হলো:
- মূল বাক্যের ক্রিয়া বা বিশেষণের বিপরীত শব্দ ব্যবহার করা।
- 'সবাই' এর বিপরীত হিসেবে 'কেউ না' ব্যবহার করা।
- 'অপছন্দ' শব্দটিকে নেতিবাচক করতে 'পছন্দ' লিখে তার সাথে 'না' যোগ করা।
অর্থাৎ, সবাই অপছন্দ করে-এর বিপরীত অর্থ দাঁড়ায় কেউ পছন্দ করে না। এতে বাক্যের মূল ভাব ঠিক থাকে এবং বাক্যটি নেতিবাচক রূপ পায়।
‘Null and Void’ –এর বাংলা পরিভাষা কী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো বাতিল। আইনি বা দাপ্তরিক ভাষায় কোনো চুক্তি, দলিল বা আদেশ যখন আইনত অকার্যকর হয়ে যায়, তখন তাকে ইংরেজিতে 'Null and Void' বলা হয়। বাংলায় এর সহজ ও প্রচলিত অর্থ হলো যা আর কার্যকর নেই বা যা পুরোপুরি বাতিল।
- Null: যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই বা শূন্য।
- Void: যা অকার্যকর।
- একত্রে এদের অর্থ দাঁড়ায় যা আইনত বাতিল বা অকার্যকর।
‘হেড মৌলভী’ কোন কোন ভাষার শব্দ যোগে গঠিত হয়েছে?
‘হেড মৌলভী’ শব্দটি মূলত দুটি ভিন্ন ভাষার সংমিশ্রণে তৈরি একটি চমৎকার উদাহরণ। এখানে সঠিক উত্তর হলো ইংরেজি + আরবি। বিষয়টি খুব সহজভাবে এভাবে মনে রাখতে পারেন:
- হেড (Head): এটি একটি ইংরেজি শব্দ, যার অর্থ প্রধান বা শীর্ষস্থানীয়।
- মৌলভী: এটি একটি আরবি শব্দ, যা মূলত ধর্মীয় বা শিক্ষাগত জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
অর্থাৎ, ইংরেজি শব্দ Head এবং আরবি শব্দ মৌলভী মিলে গঠিত হয়েছে ‘হেড মৌলভী’, যা আমাদের বাংলা ভাষায় প্রচলিত একটি মিশ্র শব্দ।
‘প্রকর্ষ’ শব্দের সমার্থক শব্দ —–
‘প্রকর্ষ’ শব্দের অর্থ হলো কোনো কিছুর বিশেষ উৎকর্ষ বা শ্রেষ্ঠত্ব। সহজ কথায়, যখন কোনো কিছুর মান বা গুণ অনেক উন্নত হয়, তখন তাকেই আমরা ‘প্রকর্ষ’ বা ‘উৎকর্ষ’ বলে থাকি।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- প্রকর্ষ এবং উৎকর্ষ—এই দুটি শব্দই মূলত গুণগত মান বা শ্রেষ্ঠত্ব বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ব্যাকরণে সমার্থক শব্দ খোঁজার সময় শব্দের মূল ভাবটি খেয়াল করলেই হয়; এখানে ‘প্রকর্ষ’ মানেই হলো উন্নত অবস্থা বা উৎকর্ষ।
তাই সঠিক উত্তর হলো উৎকর্ষ।
‘সবুজপত্র’ প্রকাশিত হয় কোন সালে?
সঠিক উত্তর হলো ১৯১৪ সাল। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত এই পত্রিকাটি বাংলা গদ্যের চলিত রীতিকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক ভূমিকা পালন করেছিল।
সহজে মনে রাখার জন্য কিছু তথ্য:
- সম্পাদক: প্রমথ চৌধুরী।
- প্রকাশকাল: ১৯১৪ সালের এপ্রিল মাস (বৈশাখ, ১৩২১ বঙ্গাব্দ)।
- গুরুত্ব: এই পত্রিকার মাধ্যমেই বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষার ব্যবহার সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অনেক বিখ্যাত লেখকের লেখা এখানে প্রকাশিত হয়েছিল।
কোনটি জসীমউদ্দীনের নাটক?
এখানে সঠিক উত্তর হলো বেদের মেয়ে। জসীমউদ্দীন মূলত তার পল্লী-প্রকৃতি নির্ভর কাব্যগ্রন্থের জন্য পরিচিত হলেও, তিনি বেশ কিছু চমৎকার নাটকও রচনা করেছেন।
সহজে মনে রাখার জন্য নিচের পয়েন্টগুলো খেয়াল করুন:
- বেদের মেয়ে জসীমউদ্দীনের লেখা একটি জনপ্রিয় নাটক।
- পল্লী কবি জসীমউদ্দীন তার সাহিত্যকর্মে গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের জীবন, সংস্কৃতি এবং লোকজ উপাদানকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
- তার এই নাট্যকর্মটি বাংলা লোকনাট্যের ধারায় একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
তাই পরীক্ষার খাতায় এই প্রশ্নটি দেখলে সরাসরি বেদের মেয়ে অপশনটি বেছে নিন। এটি মনে রাখা খুব সহজ কারণ এটি তার অন্যতম আলোচিত নাট্যগ্রন্থ।
‘বিষাদ সিন্ধু’ একটি —-
সঠিক উত্তর হলো ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস। মীর মশাররফ হোসেনের কালজয়ী এই সৃষ্টিটি মূলত কারবালার ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে লেখা।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: এটি ইমাম হোসেন (রা.)-এর জীবনের করুণ ও ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- উপন্যাসধর্মী শৈলী: যদিও এটি ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে লেখা, কিন্তু লেখক এতে নিজের কল্পনা ও সাহিত্যিক রস মিশিয়ে একে একটি চমৎকার উপন্যাসের রূপ দিয়েছেন।
- শ্রেণিবিভাগ: সাহিত্যের ভাষায় একে তাই 'ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস' বলা হয়, কারণ এটি ইতিহাসের সত্যতা এবং উপন্যাসের সৃজনশীলতার এক দারুণ সংমিশ্রণ।
মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ১৭৬০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। সাহিত্যিক ইতিহাস মনে রাখার জন্য এই সালটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি সহজে মনে রাখার জন্য নিচের ধাপটি খেয়াল করুন:
- ভারতচন্দ্রের জন্ম: ১৭১২ সাল।
- ভারতচন্দ্রের মৃত্যু: ১৭৬০ সাল।
অর্থাৎ, তিনি মাত্র ৪৮ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তাকে 'রায়গুণাকর' উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং তার মৃত্যুকেই মধ্যযুগের সমাপ্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।