১০ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (স্কুল পর্যায় ২) ২০১৪
‘ষড়ঋতু’ শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ-
এখানে সঠিক উত্তর হলো ষট্ + ঋতু। খুব সহজ একটা ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মের মাধ্যমে এটা মনে রাখা যায়:
- সন্ধির নিয়ম অনুযায়ী, বর্গের প্রথম বর্ণ (ক, চ, ট, ত, প) এর পরে যদি স্বরধ্বনি থাকে, তবে সেই প্রথম বর্ণটি তার নিজ বর্গের তৃতীয় বর্ণে পরিণত হয়।
- উল্টোভাবে ভাবলে, 'ড়' ধ্বনির জায়গায় মূল শব্দে 'ট্' থাকে।
- তাই 'ষড়ঋতু' শব্দটিকে ভাঙলে পাই: ষট্ + ঋতু।
বাক্যে কোন যতি চিহ্নের প্রয়োগে থামার প্রয়োজন নেই?
এখানে সঠিক উত্তর হলো হাইফেন। কারণ বাংলা ব্যাকরণে একমাত্র হাইফেন বা সংযোগ চিহ্নের ক্ষেত্রেই পড়ার সময় কোথাও থামার বা বিরতি নেওয়ার কোনো প্রয়োজন হয় না। এটি কেবল দুটি শব্দকে জুড়ে দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।
This collar is too limp এর অর্থ-
‘বক্তব্য’-এর প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো √বচ্ + তব্য। খুব সহজেই এটি মনে রাখতে পারেন:
- সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, 'বক্তব্য' শব্দটি তৈরি হয়েছে √বচ্ ধাতুর সঙ্গে তব্য প্রত্যয় যুক্ত হয়ে।
- এখানে √বচ্ ধাতুর চ-কার অনেক সময় ক-এ রূপান্তরিত হয় এবং এর অর্থ দাঁড়ায় 'যা বলা উচিত' বা 'বক্তব্য বিষয়'।
- তাই নিয়ম মেনে সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়টি হলো: √বচ্ + তব্য।
‘উপভাষা’ কোন সমাসের উদাহরণ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অব্যয়ীভাব সমাস। খুব সহজে মনে রাখার টেকনিক হলো, যে সমাসে পূর্বপদে অব্যয় (এখানে 'উপ' একটি অব্যয়) যুক্ত হয়ে অর্থের প্রাধান্য পায় এবং পুরো পদটি অব্যয়ের অর্থ প্রকাশ করে, সেটাই অব্যয়ীভাব সমাস।
‘ভাষা’-র ক্ষুদ্র অর্থ বা সাদৃশ্যে ‘উপ’ অব্যয় যোগে ‘উপভাষা’ শব্দটি গঠিত হয়েছে। তাই এটি নির্দ্বিধায় অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।
বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক কে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো প্রমথ চৌধুরী। বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও রূপকার হলেন তিনি। তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত 'সবুজপত্র' পত্রিকার মাধ্যমেই বাংলা গদ্যে চলিত ভাষার চটজলদি ও শিল্পসম্মত রূপ প্রতিষ্ঠিত হয়। ছদ্মনাম 'বীরবল' ব্যবহার করে তিনি এই আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
‘পৃথিবী’-এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: ভূধর।
কারণ 'ভূধর' শব্দটির অর্থ হলো পাহাড় বা পর্বত (ভূ বা পৃথিবীকে যে ধারণ করে), যা পৃথিবীর সমার্থক শব্দ নয়। অন্যদিকে, অবনী, ধরিত্রী এবং ধরণি—সবগুলোই সরাসরি পৃথিবীর বিভিন্ন সুন্দর নাম বা সমার্থক শব্দ।
শকুনি মামা – এর অর্থ-
এখানে সঠিক উত্তর হলো কুচক্রী লোক।
মহাভারতের শকুনি চরিত্রের কথা তো আমরা সবাই জানি, যিনি নানা রকম চক্রান্ত আর কুটিল বুদ্ধির মাধ্যমে মহাভারতের যুদ্ধের বীজ বুনেছিলেন। তাঁর এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই সমাজে অতীব চালাক, ক্ষতিকর ও ষড়যন্ত্রকারী মানুষদের রূপক অর্থে 'শকুনি মামা' বলা হয়ে থাকে। তাই খুব সহজেই মনে রাখতে পারো—শকুনি মামা মানেই হলো একদল চতুর ও কুচক্রী মানুষ।
তার বয়স বেড়েছে, কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি—
এখানে সঠিক উত্তর হলো যৌগিক বাক্য। কারণ, এই বাক্যে দুটি স্বাধীন বাক্য বা খণ্ডবাক্য (তার বয়স বেড়েছে এবং বুদ্ধি বাড়েনি) 'কিন্তু' অব্যয় দিয়ে একে অপরের সাথে যুক্ত হয়েছে।
সহজ কথায় মনে রাখার টেকনিক:
- যে বাক্যে দুটি বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য 'এবং', 'কিংবা', 'অথচ', 'কিন্তু', 'নতুবা' ইত্যাদি অব্যয় দিয়ে যুক্ত থাকে, সেটাই যৌগিক বাক্য।
জল পড়ে, পাতা নড়ে – নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: কর্তায় শূন্য। কারণ বাক্যটিতে 'জল' নিজে নিজেই পড়ার কাজটি করছে।
সহজ ভাষায় মনে রাখার উপায়:
- বাক্যের মূল কাজ বা ক্রিয়া হলো 'পড়ে'।
- 'কী পড়ে?' — প্রশ্ন করলে উত্তর আসে 'জল'। অর্থাৎ, যে কাজটি করে সেই হলো কর্তা।
- 'জল' শব্দের সাথে অতিরিক্ত কোনো বিভক্তি (যেমন: এ, তে, রে) যুক্ত নেই, তাই এটি শূন্য (০) বিভক্তি।
সব মিলিয়ে এটি হলো কর্তায় শূন্য বিভক্তি।