১২ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (স্কুল পর্যায়) ২০১৫
সাধু ও চলিত রীতি বাংলা ভাষার কোনরূপে বিদ্যমান?
এখানে সঠিক উত্তর হলো লেখ্য। কারণ সাধু ও চলিত রীতি হলো মূলত বাংলা ভাষার লিখিত বা লেখ্য রূপ। আমরা যখন কোনো কিছু লিখে প্রকাশ করি, তখন এই দুটিরীতির যেকোনো একটি ব্যবহার করি। মুখের বুলিতে বা কথ্য ভাষায় সাধারণত আঞ্চলিক রূপ বা চলিত রূপের কথ্য শৈলী ব্যবহার হলেও, ব্যাকরণগতভাবে সাধু ও চলিত—উভয় ভাষারীতিই মূলত বাংলা ভাষার লেখ্য রূপ হিসেবে স্বীকৃত ও ব্যবহৃত হয়।
ভাষার মৌলিক অংশ কয়টি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো চারটি।
ভাষার মৌলিক বা মূল উপাদান হলো ৪টি। এগুলো সহজে মনে রাখার নিয়ম হলো:
- ধ্বনি (Sound)
- শব্দ (Word)
- বাক্য (Sentence)
- অর্থ (Meaning)
এই চারটি উপাদানের ওপর ভিত্তি করেই যেকোনো ভাষা গঠিত হয় এবং মনের ভাব প্রকাশ পায়।
একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে অন্য একটি বাক্যের অবতারণা করতে হলে কোন চিহ্ন ব্যবহার করতে হবে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কোলন।
বাক্যে একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে যখন আরেকটি বাক্যের অবতারণা বা স্পষ্টীকরণ করা হয়, তখন তার সংযোগ ঘটাতে কোলন ($:$) চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। যেমন: সভায় সিদ্ধান্ত হলো: আগামী শুক্রবার বন্ধ থাকবে। ব্যাকরণের নিয়মে এই ধরনের বিবরণমূলক বা ব্যাখ্যামূলক বাক্যের শুরুতে কোলন বসানোই সবচেয়ে সহজ এবং সঠিক নিয়ম।
কোন বাগধারাটি স্বতন্ত্র অর্থ প্রকাশ করে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ভিজা বিড়াল। কারণ, বাগধারাটির অর্থ হলো 'কপটচারী' বা 'ভণ্ড'।
বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- বাকি তিনটি বাগধারা অর্থাৎ তুলসী বনের বাঘ, বিড়াল তপস্বী এবং বকধার্মিক—এই তিনটির অর্থই হলো 'ভণ্ড সাধু' বা 'ধর্মের ভেকধারী'।
- অন্যদিকে, ভিজা বিড়াল বাগধারাটি দিয়ে মূলত এমন কাউকে বোঝানো হয় যে বাইরে খুব শান্ত বা নিরীহ ভাব দেখালেও ভেতরে ভেতরে ধূর্ত বা ভণ্ড।
অর্থাৎ, অর্থের দিক থেকে অন্যগুলোর সাথে মিল থাকলেও ভিজা বিড়াল শব্দটির প্রয়োগ এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রটি কিছুটা ভিন্ন ও স্বতন্ত্র।
‘চক্ষুদান করা’ বাগধারার অর্থ কী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: চুরি করা।
খুব সহজভাবে মনে রাখার জন্য কৌশল হলো—'চক্ষুদান' কথাটির আক্ষরিক অর্থ চোখ দিয়ে দেওয়া হলেও, বাগধারা হিসেবে এর আসল অর্থ সম্পূর্ণ উল্টো। এটি মূলত কোনো কিছু চুরি করা বা আত্মসাৎ করার মতো চোরের কায়দাকে বোঝাতে খুব মজার ছলে ব্যবহার করা হয়।
অনুবাদে পারদর্শিতা মূলত কীসের ওপর নির্ভরশীল?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: অভ্যাসের।
অনুবাদ শুধু কিছু নিয়ম মুখস্থ করার বিষয় নয়, বরং এটি একটি দক্ষতা। নিয়মিত চর্চা বা অনুশীলনের মাধ্যমেই কেবল যেকোনো ভাষায় ভাব প্রকাশের স্বাচ্ছন্দ্য ও পারদর্শিতা অর্জন করা সম্ভব। ভাষা যতই কঠিন হোক না কেন, নিয়মিত অভ্যাসের ফলে যেকোনো লেখার মূল ভাব সহজেই অন্য ভাষায় নির্ভুলভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়।
He is out of luck এর অর্থ কী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো তার পোড়া কপাল।
ইংরেজি প্রবাদ বা বাগধারা বোঝার জন্য হুবহু আক্ষরিক অনুবাদ না করে এর ভাবার্থ বুঝতে হয়। "Out of luck" ফ্রেজটির সহজ অর্থ হলো ভাগ্য খারাপ থাকা বা দুর্ভাগ্যের মধ্যে পড়া। আর আমাদের দৈনন্দিন বাংলায় এই অবস্থাকেই খুব সুন্দরভাবে বলা হয় "তার পোড়া কপাল"। তাই এই অপশনটিই এখানে সবচেয়ে নিখুঁত ও মানানসই।
‘বনস্পতি’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
‘বনস্পতি’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো বন + পতি। এটি মূলত নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির একটি উদাহরণ।
সহজভাবে মনে রাখার কৌশল:
- সাধারণত সন্ধির নিয়মে বিসর্গ থাকার কথা থাকলেও, নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির ক্ষেত্রে ব্যাকরণের প্রচলিত নিয়ম খাটে না।
- এখানে বন শব্দের সাথে পতি যুক্ত হয়ে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই ‘বনস্পতি’ শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- পরীক্ষায় মনে রাখার জন্য শুধু এই শব্দটি মুখস্থ রাখা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ এটি সন্ধির সাধারণ নিয়মের বাইরে।
কোনটি স্বরসন্ধির উদাহরণ?
সঠিক উত্তর হলো হিমালয়। এটি স্বরসন্ধির একটি চমৎকার উদাহরণ, কারণ এখানে দুটি স্বরবর্ণের মিলন ঘটেছে। বিষয়টি খুব সহজভাবে এভাবে বোঝা যায়:
- শব্দটিকে ভাঙলে আমরা পাই: হিম + আলয়।
- এখানে প্রথম শব্দের শেষে আছে 'অ' (হিম্ + অ) এবং দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে আছে 'আ'।
- নিয়ম অনুযায়ী, অ + আ মিলে হয় 'আ'।
- অর্থাৎ, $অ + আ = আ$।
যেহেতু সন্ধিটি দুটি স্বরবর্ণের মিলনে তৈরি হয়েছে, তাই একে আমরা স্বরসন্ধি বলি।
‘আকাশে চাঁদ উঠেছে’। এখানে ‘আকাশে’ কোন প্রকারের অধিকরণ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ঐকদেশিক অধিকরণ। বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায়:
- অধিকরণ কারক মানেই হলো কোনো স্থান বা সময় বোঝানো।
- যখন কোনো বিশাল জায়গার একটি নির্দিষ্ট অংশে বা কোনো একটি বিন্দুতে কিছু ঘটে, তখন তাকে ঐকদেশিক অধিকরণ বলে।
- পুরো আকাশ বিশাল, কিন্তু চাঁদ আকাশের ঠিক একটি নির্দিষ্ট জায়গায় উঠেছে। তাই পুরো আকাশ না বুঝিয়ে আকাশের একটি অংশকে বোঝানোর কারণেই এটি ঐকদেশিক অধিকরণ।
সহজ কথায়, বিশাল স্থানের কোনো ক্ষুদ্র অংশে ক্রিয়া সম্পন্ন হলে সেটিই ঐকদেশিক অধিকরণ।