১৩ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (কলেজ পর্যায়) ২০১৬
বাংলা ভাষা কোন ভাষা থেকে এসেছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো গৌড়ীয় প্রাকৃত। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- আমাদের বাংলা ভাষার মূল উৎস মূলত প্রাচীন ভারতীয়্য আর্যভাষা।
- এই আর্যভাষা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়ে প্রথমে প্রাকৃত রূপ নেয়।
- পরবর্তীতে পূর্ব ভারতের প্রাকৃত রূপটি গৌড়ীয় প্রাকৃত নামে পরিচিত হয়, যেখান থেকেই ধাপে ধাপে আজকের বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।
কোনটি মৌলিক স্বরধ্বনি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো এ। বাংলা ব্যাকরণে মৌলিক স্বরধ্বনি হলো মোট ৭টি, যার মধ্যে একটি হলো 'এ'। বাকিগুলো যৌগিক স্বরধ্বনি বা দীর্ঘ স্বরধ্বনি হিসেবে গণ্য হয়। খুব সহজে মনে রাখার জন্য মাথায় রাখবে, যে স্বরধ্বনিগুলোকে ভাঙা যায় না বা অন্য কোনো ধ্বনির সাহায্য ছাড়াই একা উচ্চারিত হতে পারে, তাই মৌলিক স্বরধ্বনি।
বাংলা ভাষারীতির কয়টি রূপ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: ২টি।
বাংলা ভাষার মূলত দুটি রূপ রয়েছে:
- কথ্য বা মৌখিক রূপ: মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত ভাষা, যার আঞ্চলিক ভিন্নতা দেখা যায় (যেমন: চলিত রূপ)।
- লিখিত রূপ: লেখার কাজে ব্যবহৃত মানসম্মত রূপ, যা মূলত দুই ভাগে বিভক্ত—সাধু ও চলিত রীতি।
তাই সার্বিকভাবে বাংলা ভাষার মূল রূপ হলো দুটি।
‘ষষ্ঠ‘ – এর সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ষষ্ + থ।
ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম অনুযায়ী, ট-বর্গীয় ধ্বনির পর যদি 'থ' থাকে, তবে 'থ' পরিবর্তিত হয়ে 'ঠ' এবং 'ট' বা এর আগের বর্ণে পরিবর্তন আসে। এই নিয়মের সহজ প্রয়োগেই ষষ্ + থ মিলে তৈরি হয় ‘ষষ্ঠ‘ শব্দটি।
‘অদ্য‘ শব্দটি কোন ভাষারীতির উদাহরণ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সাধু।
বাংলা ভাষারীতিতে কিছু শব্দ তৎসম বা প্রাচীন রূপের কারণে সাধু রীতির অন্তর্ভুক্ত হয়। ‘অদ্য’ একটি তৎসম শব্দ, যার অর্থ 'আজ'। এই ধরনের তৎসম শব্দ, সর্বনাম ও ক্রিয়ার রূপ মূলত সাধুীতিতেই বেশি ব্যবহৃত হয়।
কোনটি ওষ্ঠ্য ধ্বনি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ম।
খুব সহজে মনে রাখার একটা দারুণ উপায় আছে! বাংলা বর্ণমালায় উচ্চারণস্থানের দিক থেকে বর্ণগুলোকে আলাদা করার একটি চমৎকার ছন্দ বা সূত্র রয়েছে। যেমন—ওষ্ঠ বা ঠোঁটের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনিগুলো হলো প-বর্গীয় বর্ণগুলো (প, ফ, ব, ভ, ম)। যেহেতু 'ম' উচ্চারণের সময় আমাদের দুই ঠোঁট একে অপরকে স্পর্শ করে, তাই এটি একটি নিশ্চিত ওষ্ঠ্য ধ্বনি।
চন্দ্রের প্রতিশব্দ নয়-
এখানে সঠিক উত্তর হলো সবিতা। কারণ 'সবিতা' শব্দটি চন্দ্রের প্রতিশব্দ নয়, এটি মূলত সূর্যের একটি প্রতিশব্দ।
অন্যদিকে, সোম, হিমাংশু এবং দ্বিজরাজ—তিনটি শব্দই চাঁদের বা চন্দ্রের সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
কোনটি তৎপুরুষ সমাস?
এখানে সঠিক উত্তর হলো মধুমাখা।
বিষয়টা খুব সহজ! ব্যাসবাক্য করলে এর অর্থ দাঁড়ায় ‘মধু দিয়ে মাখা’। এখানে ‘দিয়ে’ অনুসর্গটি লোপ পেয়ে তৎপুরুষ সমাস গঠিত হয়েছে। তৎপুরুষ সমাসে সাধারণত পূর্বপদের বিভক্তি বা অনুসর্গ (যেমন—কে, রে, দ্বারা, দিয়া, হইতে, থেকে) লোপ পায়।
‘পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন‘- এখানে ‘নীড়‘ শব্দটি কী অর্থে ব্যবহার হয়েছে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো আশ্রয়। জীবনানন্দ দাশ তাঁর বিখ্যাত কবিতায় ক্লান্ত প্রাণ এক শান্তির পরশ বা নিরাপদ ঠিকানার খোঁজ বুঝাতে ‘নীড়’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। মূলত, পাখির বাসা যেমন ক্লান্ত পাখিকে নিরাপদ আশ্রয় দেয়, বনলতা সেনের চোখও তেমনি দীর্ঘ পথচলার পর এক্রান্ত মানুষের মনে শান্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতি এনে দেয়।
‘গোবর গণেশ“- বাগধারাটির অর্থ কী?
এখানে সঠিক উত্তর হলো নিরেট মূর্খ।
'গোবর গণেশ' একটি খুব পরিচিত বাংলা বাগধারা। গোবর যেমন কোনো কাজে লাগে না এবং এর কোনো সারবত্তা নেই, তেমনি কোনো বুদ্ধি বা জ্ঞানহীন ভোঁতা প্রকৃতির মানুষকে বোঝাতে এই মজার বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়। তাই এর প্রকৃত অর্থ হলো সম্পূর্ণ নির্বোধ বা নিরেট মূর্খ।