১৩ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (স্কুল পর্যায় ২) ২০১৬
’আনারস’ কোন ভাষার শব্দ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো পর্তুগিজ।
আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারে অনেক বিদেশি শব্দ মিশে আছে। এর মধ্যে যেসব খাবার, ফল বা উপকولی জিনিস পর্তুগিজদের হাত ধরে আমাদের সংস্কৃতিতে এসেছে, তার একটি হলো 'আনারস'। এভাবে খুব সহজেই একটু মনে রাখলেই পরীক্ষার হলে সঠিক উত্তরটি দাগিয়ে ফেলা সম্ভব।
নাটকের সংলাপের উপযোগী ভাষার কোন রীতি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো চলিত রীতি। কারণ চলিত ভাষা অত্যন্ত সাবলীল, সহজবোধ্য ও মানুষের মুখের ভাষার কাছাকাছি হওয়ায় নাটকের সংলাপের জন্য এটি সবচেয়ে বেশি উপযোগী ও প্রাকৃতিক শোনায়।
বিস্ময় বিহ্নের বিরতিকাল কতটুকু?
এখানে সঠিক উত্তর হলো এক সেকেন্ড। খুব সহজে মনে রাখার টেকনিক হলো, বাংলা ব্যাকরণের নিয়মে বিস্ময় বা আবেগ প্রকাশকারী চিহ্নের (!) পর বক্তাকে শ্রোতার মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য কিংবা নিজের আবেগকে ফুটিয়ে তোলার জন্য সাধারণত এক সেকেন্ডের মতো বিরতি দিতে হয়।
‘চাঁদের হাট’ বাগধারাটির সঠিক অর্থ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো আনন্দের প্রাচুর্য।
‘চাঁদের হাট’ একটি জনপ্রিয় বাংলা বাগধারা। এর আক্ষরিক অর্থে চাঁদে হাট বসার কথা মনে হলেও, বাস্তবিকভাবে এটি এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যেখানে অনেক গুণী মানুষের মিলন ঘটে অথবা একসঙ্গে প্রচুর আনন্দের সমাহার ঘটে। অর্থাৎ, কোথাও যখন অনেক খুশির মুহূর্ত বা আনন্দের ছড়াছড়ি একসঙ্গে দেখা যায়, তখন তাকে এককথায় 'চাঁদের হাট' বলা হয়।
‘ছকড়া নকড়া’ – বাগধারাটির অর্থ কী?
অনুবাদের পারদর্শিতা কীসের ওপর নির্ভরশীল?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অভ্যাসের ওপর।
যেকোনো ভাষা থেকে অন্য ভাষায় সুন্দর ও নিখুঁত অনুবাদ করতে হলে শুধু ব্যাকরণের নিয়ম জানলে হয় না, এর জন্য নিয়মিত চর্চা বা চর্চার বিকল্প নেই। যত বেশি অনুশীলন বা চর্চা করা হয়, অনুবাদের হাত তত বেশি পাকা হয়। তাই বলা যায়, অনুবাদের আসল পারদর্শিতা পুরোপুরি নির্ভর করে নিয়মিত অভ্যাসের ওপর।
সমাসবদ্ধ পদগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখানোর জন্য কোন চিহ্ন বসে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো হাইফেন। সমাসবদ্ধ বা সমস্ত পদগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক স্পষ্ট করতে কিংবা সেগুলোকে ভেঙে আলাদা করে দেখানোর জন্য হাইফেন (-) চিহ্ন ব্যবহার করা হয়; যেমন— মাতা-পিতা, ভাই-বোন।
‘দুর্যোগ’ – এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো দুঃ + যোগ।
বিষয়টা খুব সহজ! এটি বিসর্গ সন্ধির একটি নিয়ম। বিসর্গ সন্ধির নিয়ম অনুযায়ী, বিসর্গের (`ঃ`) পরে যদি ক, খ, প বা ফ থাকে, তবে বিসর্গটি সাধারণত দন্ত্য স (`স`) বা মূর্ধন্য স (`ষ`) এ রূপান্তরিত হয়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে বিসর্গ অপরিবর্তিত থাকে বা র (`র`) এ পরিণত হয়। এখানে 'দুঃ' এর সাথে 'যোগ' যুক্ত হয়ে বিসর্গটি উহ্য বা পরিবর্তিত হয়ে সঠিক শব্দ গঠন করে ‘দুর্যোগ’।
‘ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে’ – কোন কারকে কোন বিভক্তি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো করণে ৭মী।
- বাক্যটিতে ফুল হলো ঘর ভরার মাধ্যম বা যন্ত্র।
- কোনো কিছু দ্বারা বা সাহায্যে কাজ সম্পন্ন বোঝাতে ব্যাকরণে করণ কারক হয়।
- 'ফুল' শব্দের সাথে 'এ' বিভক্তি যুক্ত থাকায় এটি ৭মী বিভক্তি হয়েছে।
সহজে মনে রাখার উপায়: কী দিয়ে ঘর ভরেছে? উত্তর আসে "ফুল দিয়ে", তাই এটি করণে ৭মী বিভক্তি।
‘আমি কি ডরাই সখি ভিখারি রাঘবে’ – এখানে ‘রাঘবে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: অপাদানে ৭মী।
বাক্যটিতে ‘ডরাই’ (ভয় পায়) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, ভয় পাওয়া, রক্ষা পাওয়া, উৎপন্ন হওয়া, বিরত থাকা ইত্যাদি বোঝালে অপাদান কারক হয়।
- ‘রাঘবে’ শব্দের সাথে ‘এ’ (অথবা ∅) বিভক্তি যুক্ত আছে, যা সপ্তম বা ৭মী বিভক্তির নির্দেশক।
- যেহেতু এখানে রাঘব বা রামের ভয়ে ভীত হওয়ার ভাব প্রকাশ পেয়েছে, তাই এটি স্পষ্টতই অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।