১৪ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (স্কুল পর্যায়) ২০১৭
সাধুরীতিতে কোন পদটি দীর্ঘরূপ হয় না?
সঠিক উত্তর হলো অব্যয়। বিষয়টি আসলে বেশ সহজ। সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্যের মূল জায়গাটি হলো ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের রূপান্তর।
- ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম: সাধু রীতিতে এগুলো দীর্ঘ বা পূর্ণরূপে থাকে (যেমন: 'করিতেছে', 'তাহারা')।
- অব্যয় পদ: অব্যয় পদের কোনো রূপান্তর হয় না। এটি সাধু বা চলিত উভয় রীতিতেই অপরিবর্তিত থাকে।
সহজ কথায়, অব্যয় পদের নিজস্ব কোনো সংক্ষিপ্ত বা দীর্ঘ রূপ নেই, তাই এটি সব সময় একই রকম থাকে।
”শুকুনি মামা” এর অর্থ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কুচক্রী মামা।
বিষয়টা খুব সহজ! মহাভারতের শকুনি মামার চরিত্রের কথা মনে করলেই এর অর্থ পরিষ্কার হয়ে যায়। শকুনি মামা সবসময় কূটকৌশল আর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পাণ্ডবদের বিপদে ফেলার চেষ্টা করতেন। তাই বাংলা ভাষায় যখনই কাউকে 'শকুনি মামা' বলা হয়, তখন মূলত এমন কাউকে বোঝানো হয় যে:
- সবসময় ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তে লিপ্ত থাকে।
- নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য মানুষকে ভুল পথে চালিত করে।
- কৌশলে অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টা করে।
সহজ কথায়, যে ব্যক্তি কুটিল বুদ্ধির মাধ্যমে ঝামেলা পাকায়, তাকেই আমরা শকুনি মামা বা কুচক্রী মামা বলে থাকি।
”সংশয়”-এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
এখানে সঠিক উত্তর হলো প্রত্যয়। বিষয়টি খুব সহজভাবে মনে রাখা যায়:
- সংশয় মানে হলো কোনো কিছু নিয়ে সন্দেহ বা দ্বিধা থাকা।
- অন্যদিকে, প্রত্যয় মানে হলো দৃঢ় বিশ্বাস বা নিশ্চয়তা।
যখন আমাদের মনে কোনো বিষয়ে গভীর বিশ্বাস থাকে, তখন সেখানে কোনো সংশয় বা সন্দেহের অবকাশ থাকে না। তাই বিপরীতার্থক শব্দ হিসেবে 'সংশয়'-এর ঠিক উল্টো অর্থ প্রকাশ করে 'প্রত্যয়'।
বক্তব্য এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
বক্তব্য শব্দটির সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো বচ্ + তব্য। এটি বোঝার জন্য নিচের সহজ নিয়মটি খেয়াল করুন:
- সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, 'বচ্' ধাতুর সাথে 'তব্য' প্রত্যয় যুক্ত হলে 'চ' পরিবর্তিত হয়ে 'ক্ত' রূপ ধারণ করে।
- অর্থাৎ, বচ্ + তব্য = বক্তব্য।
- এখানে 'তব্য' প্রত্যয়টি সাধারণত উচিত বা যোগ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাই 'বক্তব্য' মানে যা বলার যোগ্য বা যা বলা উচিত।
সহজ কথায়, ধাতুর মূল রূপটি মনে রাখলেই এই ধরনের সন্ধি বা প্রত্যয় নির্ণয় করা একদম পানির মতো সহজ হয়ে যায়!
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে জাতিসংঘের মহাসচিব কে ছিলেন?
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জাতিসংঘের মহাসচিব ছিলেন উ থান্ট। তিনি ছিলেন জাতিসংঘের তৃতীয় মহাসচিব এবং মিয়ানমারের নাগরিক।
সহজে মনে রাখার উপায়:
- মুক্তিযুদ্ধের সময়কাল: ১৯৭১ সাল।
- উ থান্টের দায়িত্বকাল: ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত।
- যেহেতু ১৯৭১ সাল এই সময়ের মধ্যেই পড়ে, তাই তিনিই ছিলেন তৎকালীন মহাসচিব।
উ থান্ট তার মেয়াদে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে এবং মানবিক বিপর্যয়ের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
চিকনগুনিয়ার বাহক কোনটি?
চিকনগুনিয়ার বাহক হলো এডিস মশা। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- চিকনগুনিয়া এবং ডেঙ্গু—এই দুই রোগের প্রধান বাহকই হলো এডিস ইজিপ্টি (Aedes aegypti) মশা।
- এই মশা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায় এবং পরিষ্কার জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে।
- তাই চিকনগুনিয়া থেকে বাঁচতে হলে আমাদের চারপাশের জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে এডিস মশা ডিম পাড়তে না পারে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের ডিজােইনার কে?
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম বা জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার হলেন এএনএ সাহা। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ, কারণ আমাদের জাতীয় প্রতীকের নকশা তৈরির মূল দায়িত্বটি তিনিই পালন করেছিলেন।
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের নকশায় শাপলা ফুল, ধানের শীষ এবং পাটের পাতা ব্যবহার করা হয়েছে।
- এই ঐতিহাসিক নকশাটি তৈরির কৃতিত্ব পুরোপুরি এএনএ সাহা-র।
পরীক্ষায় প্রায়ই এই প্রশ্নটি আসে, তাই নামটা একটু ভালো করে মনে রাখলেই চলবে।
দেশের প্রথম ইলেকট্রনিক বই কোনটি?
দেশের প্রথম ইলেকট্রনিক বই বা ই-বুক হলো একুশ ই বুক। এটি মূলত বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রসারে একটি মাইলফলক হিসেবে পরিচিত।
- একুশ ই বুক প্রকল্পটি ২০০৪ সালে প্রথম যাত্রা শুরু করে।
- এটিই বাংলাদেশের প্রথম উদ্যোগ যেখানে বাংলা বইকে ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করে ইন্টারনেটে পড়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়।
- সহজ কথায়, বাংলা সাহিত্যের ডিজিটাল লাইব্রেরি তৈরির প্রথম সফল প্রচেষ্টা ছিল এটি।
I saw him going to market. (Compound)
সঠিক উত্তর হলো: I saw him and he was going to market।
সহজ কথায়, একটি Simple sentence-কে Compound-এ রূপান্তর করার সময় আমাদের দুটি স্বাধীন ক্লজ (Independent Clause) তৈরি করতে হয় এবং সেগুলোকে and দিয়ে যুক্ত করতে হয়। এখানে বিষয়টি যেভাবে কাজ করেছে:
- প্রদত্ত বাক্যে 'going' একটি পার্টিসিপল হিসেবে আছে, যা বোঝাচ্ছে সে বাজারে যাচ্ছিল।
- Compound করার সময় আমরা এই অংশটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্যে রূপান্তর করি: he was going to market।
- এরপর মূল অংশ I saw him-এর সাথে and যোগ করে দিলেই বাক্যটি Compound হয়ে যায়।
অর্থাৎ, পুরো বিষয়টি দাঁড়ায়: I saw him + and + he was going to market। এভাবে লিখলে বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে একদম নির্ভুল হয়।
I helped her solve the problem. (Passive)
এখানে সঠিক উত্তর হলো She was helped to solve the problem by me। বিষয়টি খুব সহজ, শুধু নিচের ধাপগুলো খেয়াল করলেই হবে:
- বাক্যটিতে মূল ভার্ব হলো helped, যা Past Indefinite Tense-এ আছে। তাই প্যাসিভ করার সময় সাহায্যকারী ভার্ব হিসেবে was বসবে।
- অ্যাক্টিভ ভয়েসে 'help' বা 'let'-এর পরে যদি কোনো ভার্ব (solve) থাকে, তবে প্যাসিভ করার সময় সেই ভার্বের আগে একটি to যোগ করতে হয়।
- নিয়ম অনুযায়ী: Object (She) + was + V3 (helped) + to + V1 (solve) + the problem + by + Subject (me)।
সহজ কথায়, helped-এর পর to solve বসিয়ে দিলেই বাক্যটি গ্রামাটিক্যালি সঠিক হয়ে যায়।