১৫ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (স্কুল পর্যায়) ২০১৮
কোনটি ‘নিপাতনে সিদ্ধ’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দ ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো সৌর।
ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী সব শব্দ স্বাভাবিক নিয়মে প্রত্যয় দিয়ে গঠিত হয় না। কিছু শব্দ কোনো নিয়ম বা সূত্র না মেনে সরাসরি গঠিত হয়, যেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ শব্দ বলা হয়। যেমন— সূর্য শব্দের সাথে অ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে 'সৌর' শব্দটি গঠিত হয়েছে, যা সাধারণ নিয়মের বাইরে প্রাকৃতিকভাবে সাধিত হয়েছে।
অর্থ অনুসারে ‘হরিণ’ কোন ধরনের শব্দ ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো রূঢ়ি শব্দ।
যেসব শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগে মূল শব্দের অর্থের সরাসরি অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলোকে রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন—'হরিণ' শব্দটি প্রকৃতি ও প্রত্যয় যোগে গঠিত হলেও এর সাধারণ অর্থ না বুঝিয়ে নির্দিষ্ট একটি পশুকে বোঝায়। অনুরূপভাবে 'প্রবীণ', 'যৌগিক', 'বাঁশি' ইত্যাদিও রূঢ়ি শব্দের চমৎকার উদাহরণ।
বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা, অর্ধমাত্রা ও মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা যথাক্রমে –
এখানে সঠিক উত্তর হলো ৩২, ৮, ১০। খুব সহজে মনে রাখার জন্য বাংলা বর্ণমালার মাত্রাগুলোর সংখ্যা এভাবে মনে রাখতে পারো:
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ আছে মোট ৩২টি (স্বরবর্ণ ৬টি ও ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি)।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ আছে মোট ৮টি (স্বরবর্ণ ১টি ও ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি)।
- মাত্রাহীন বর্ণ আছে মোট ১০টি (স্বরবর্ণ ৪টি ও ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি)।
যোগ করে দেখো, মোট বর্ণ সংখ্যা: $32 + 8 + 10 = 50$টি। এভাবে ক্রমানুসারে ৩২, ৮ ও ১০ সংখ্যাগুলো মনে রাখলেই উত্তর একদম সহজ হয়ে যাবে!
নিচের কোন শব্দটি সাধু ভাষায় ব্যবহারের উপযোগী ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো জুতা।
খুব সহজে মনে রাখার টেকনিক হলো:
- সাধু ও চলিত রূপের পার্থক্যের ক্ষেত্রে কিছু শব্দের তৎসম রূপ সাধু ভাষায় বেশি ব্যবহার করা হয়।
- 'জুতা' শব্দটি একটি তৎসম শব্দ, যা সাধু ও চলিত উভয় রীতিকেই সমানভাবে এবং প্রমিত বাংলায় ব্যবহারের উপযোগী।
- পক্ষান্তরে 'শুকনো', 'সাথে' এবং 'বুনো' শব্দগুলো তুলনামূলকভাবে কথ্য বা চলিত রূপের দিকে বেশি ঝোঁকে।
উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ড বাক্যের শেষে) বসাতে হবে –
এখানে সঠিক উত্তর হলো Option A: কমা।
বাক্যের ভেতরে উদ্ধরণ বা কোটেশন চিহ্নের ঠিক আগে খণ্ড বাক্যের শেষে বিরতি বোঝাতে কমা (,) ব্যবহার করা হয়। বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী উদ্ধৃতি চিহ্নের আগের অংশটিকে আলাদা করতে এই বিরামচিহ্নটি খুবই জরুরি।
’খাতক’ – এর বিপরীত শব্দ –
এখানে সঠিক উত্তর হলো মহাজন। খুব সহজ কথায়, যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কাওকে টাকা বা ঋণ দেয়, তাকে মহাজন বা উত্তমর্ণ বলা হয়। আর এর ঠিক উল্টোটি হলো খাতক, যার অর্থ হলো যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ঋণ বা ধার গ্রহণ করে। তাই শব্দার্থের দিক থেকে খাতক-এর বিপরীতার্থক শব্দ হিসেবে মহাজন ব্যবহৃত হয়।
Phoneme শব্দের অর্থ –
এখানে সঠিক উত্তর হলো ধ্বনিমূল। খুব সহজভাবে মনে রাখার কৌশল হলো, ইংরেজি 'Phoneme' শব্দটির পরিভাষা হিসেবে বাংলা ব্যাকরণে সরাসরি 'ধ্বনিমূল' শব্দটি ব্যবহার করা হয়। এটি ভাষার ক্ষুদ্রতম একক, যা অর্থের পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
’অরুণরাঙা’ কোন সমাস নিষ্পন্ন সমস্তপদ ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো উপমান কর্মধারয়। কারণ খুব সহজে চেনার একটা দারুণ উপায় আছে—
- অরুণ মানে হলো লাল এবং রাঙা মানেও লাল। অর্থাৎ এখানে দুটি পদই রঙের কথা বলছে।
- উপমান সমাসের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ গুণবাচক পদ (যেমন: রাঙা) এবং একটি উপমান বা তুলনার বস্তু (যেমন: অরুণ বা সূর্য) পাশাপাশি বসে তুলনা বোঝায়।
- ব্যাসবাক্যটি দাঁড়ায়: অরুণের মতো রাঙা = অরুণরাঙা।
- যেহেতু এখানে সূর্যের লাল রঙের সাথে কোনো কিছুর তুলনা করা হয়েছে, তাই এটি নিশ্চিতভাবেই উপমান কর্মধারয় সমাস।
’হ্ম’ এর সঠিক বিশ্লেষণ কোনটি ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো হ + ম।
বিষয়টা খুব সহজ! যুক্তবর্ণগুলো মনে রাখার জন্য একটু খেয়াল করলেই হয়:
- 'হ্ম' যুক্তবর্ণটি ভাঙলে প্রথমে 'হ' এবং পরে 'ম' পাওয়া যায় (হ + ম)।
- যেমন— ব্রহ্ম, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি শব্দে এই যুক্তবর্ণটি ব্যবহৃত হয়।
Apenthesis -এর অর্থ –
এখানে সঠিক উত্তর হলো অপিনিহিতি।
সহজ কথায়, পরের ই-কার বা উ-কার আগে উচ্চারিত হওয়ার রীত িকেই ব্যাকরণের ভাষায় অপিনিহিতি বলা হয়। যেমন: আজি > আইজ। এখানে 'আজি' শব্দের শেষের 'ই' কারটি 'জ' এর আগে চলে এসেছে, যা অপিনিহিতির একটি চমৎকার উদাহরণ।