১৫ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (স্কুল পর্যায়) ২০১৮
নিচের কোন শব্দটি প্রাতিপদিক?
এখানে সঠিক উত্তর হলো লাঙ্গল।
এর কারণ হলো, কোনো শব্দের মূল রূপ বা বিভক্তিহীন নাম শব্দকেই প্রাতিপদিক বলা হয়। 'লাঙ্গল' শব্দটির সাথে কোনো অতিরিক্ত বিভক্তি যুক্ত নেই, এটি একটি মৌলিক ও স্বাধীন শব্দ। অন্যদিকে বাকি শব্দগুলো প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগে সাধিত বা পরিবর্তিত রূপ। তাই ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী এটিই সঠিক প্রাতিপদিক শব্দ।
কোনটির আগে স্ত্রীবাচক শব্দযোগে লিঙ্গান্তর করতে হয় ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কবি। কারণ কিছু নিত্য-পুরুষ বা সাধারণবাচক পদের আগে 'মহিলা' বা 'স্ত্রীবাচক' শব্দ যোগ করে লিঙ্গান্তর করতে হয়।
- 'কবি' একটি সাধারণবাচক শব্দ, তাই এর স্ত্রীবাচক রূপ করতে হলে আগে 'মহিলা' বা 'স্ত্রী' যোগ করতে হয় (যেমন: মহিলা কবি)।
- অন্য অপশনগুলোর ক্ষেত্রে প্রত্যয় যুক্ত করে সরাসরি লিঙ্গ পরিবর্তন করা যায় (যেমন: নেতা > নেত্রী, দাতা > দাত্রী, বাদশাহ > বেগম)।
’আমন্ত্রণ’ শব্দের সমার্থক শব্দ নিচের কোনটি নয় ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো প্রত্যাবান।
বিষয়টা খুব সহজ! 'আমন্ত্রণ' শব্দের সাধারণ অর্থ হলো কাউকে কোনো কিছুতে ডেকে পাঠানো বা আমন্ত্রণ জানানো। এর পরিচিত সমার্থক শব্দগুলো হলো আহ্বান, নিমন্ত্রণ এবং আবাহন। কিন্তু 'প্রত্যাবান' শব্দটি আমন্ত্রণ বা এর সমার্থক কোনো অর্থে ব্যবহৃত হয় না, তাই এটি এখানে সঠিক উত্তর।
’মন না মতি’ বাগধারার অর্থ কী ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো অস্থির মানব মন।
মন এমন একটা জিনিস যা কখনই এক জায়গায় স্থির থাকে না, ক্ষণে ক্ষণে তার সিদ্ধান্ত বা চিন্তা বদলায়। এই ভাবার্থ থেকেই মানুষের চঞ্চল ও পরিবর্তনশীল মনকে বোঝাতে ’মন না মতি’ বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়।
অম্বু শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো পানি। কারণ বাংলা ব্যাকরণে 'অম্বু' শব্দটির অর্থ হলো জল বা পানি। একইভাবে বারি, উদক, সলিল—এগুলো সবই পানির সমার্থক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই খুব সহজেই আমরা বলতে পারি সঠিক অপশনটি হলো পানি।
’দীপ্যমান’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো $\sqrt{\text{দীপ}} + \text{শানচ}$। কারণ ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমান কৃৎপ্রত্যয় সাধने ধাতুর উত্তর শানচ (আন/মান) প্রত্যয় যুক্ত হয়।
- এখানে মূল ধাতু হলো $\sqrt{\text{দীপ}}$।
- এর সাথে বর্তমান কালের অর্থে শানচ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে 'দীপ্যমান' শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- শর্টকাট নিয়ম: সংস্কৃত নিয়মে গঠিত এসব শব্দ চেনার জন্য মূল ধাতুটির সাথে 'শানচ' প্রত্যয়ের যোগসূত্র মনে রাখলেই উত্তর করা খুব সহজ হয়ে যায়।
নিচের কোনটি ঘোষ অল্পপ্রাণ বর্ণ ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো ড।
খুব সহজে মনে রাখার শর্টকাট হলো—প্রতিটি বর্গের ৩য় বর্ণ হলো ঘোষ অল্পপ্রাণ।
- 'ট' বর্গীয় বর্ণগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়: ট (অঘোষ মহাপ্রাণ/অল্পপ্রাণ), ঠ (অঘোষ মহাপ্রাণ), ড (ঘোষ অল্পপ্রাণ), ঢ (ঘোষ মহাপ্রাণ), ণ (নাসিক্য)।
- যেহেতু 'ড' হলো ট বর্গের ৩য় বর্ণ, তাই এটি একটি ঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
শুদ্ধ বানান কোনটি ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো রুগ্ণ।
বানানটি নির্ভুল হওয়ার কারণ:
- শব্দটিতে ণ-ত্ব বিধান অনুসারে মূর্ধন্য ণ ব্যবহৃত হয়েছে।
- এর মূল রূপ হলো 'রোগ' থেকে 'রুগ্ন', এবং সঠিক গঠনশৈলীতে এটি রুগ্ণ হিসেবে লেখা হয়।
- অন্য অপশনগুলোতে বানানে হ্রস্ব-দীর্ঘ বা ন-ত্ব/ণ-ত্ব বিধানগত ভুল রয়েছে।
’মহকুমা’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো আরবি। 'মহকুমা' শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আমাদের বাংলা ভাষায় এসেছে। এটি মূলত একটি প্রশাসনিক শব্দ, যা খুব সহজেই মনে রাখতে পারেন কারণ আমাদের দৈনন্দিন প্রশাসনিক বা দাপ্তরিক অনেক শব্দের শেকড় আরবি ভাষার সাথে জড়িত।
’পাহাড়ের ঢাল বেয়ে জল নামছে’ – বাক্যে ‘জল’ কোন কারকে কোন বিভক্তি ?
এখানে সঠিক উত্তর হলো কর্তৃকারকে শূন্য। খুব সহজ একটা ট্রিক দিয়ে বিষয়টি বুঝে নেওয়া যাক:
- বাক্যটিতে জল নিজে নিজেই পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নামছে। অর্থাৎ, কাজটা কে করছে? ‘জল’ নিজে করছে।
- যিনি বা যা নিজে কাজ সম্পন্ন করেন, তিনিই হলেন কর্তা। তাই ‘জল’ হলো কর্তৃকারক।
- শব্দটির সাথে বাড়তি কোনো বিভক্তি (যেমন: এ, তে, রে ইত্যাদি) যুক্ত নেই, তাই এটি শূন্য বিভক্তি।