১৮ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা প্রশ্ন সমাধান (স্কুল সমপর্যায়-২) (15-03-2024)
চলিত রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া কেমন হয়?
চলিত রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সবসময় সংক্ষিপ্ত বা চলিত রূপ ব্যবহার করা হয়। এর কারণ হলো, চলিত রীতি মূলত মানুষের মুখের ভাষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা বেশ গতিশীল ও সহজবোধ্য।
- সাধু রীতিতে আমরা বলি 'করিতেছে', কিন্তু চলিত রীতিতে তা হয়ে যায় 'করছে'।
- সাধু রীতিতে সর্বনাম হয় 'তাহারা', যা চলিত রীতিতে সংক্ষেপে হয় 'তারা'।
অর্থাৎ, ভাষার সাবলীলতা ও দ্রুততা বজায় রাখার জন্য চলিত রীতিতে শব্দগুলোকে ছোট বা সংক্ষিপ্ত করে ফেলা হয়।
কোনো অংশ বাদ দিতে চাইলে কোন চিহ্ন বসবে?
সঠিক উত্তর হলো ত্রিবিন্দু। কোনো উদ্ধৃতি বা লেখার মাঝখান থেকে অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দিয়ে মূল ভাব ঠিক রাখতে আমরা সাধারণত এই চিহ্নটি ব্যবহার করি।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- লেখার মাঝে কোনো অংশ বাদ দিলে সেখানে তিনটি ডট বা ... চিহ্ন বসানো হয়।
- বাংলা ব্যাকরণে একেই বলা হয় ত্রিবিন্দু।
- এটি মূলত পাঠককে বোঝায় যে, এখানে কিছু তথ্য সংক্ষেপ করা হয়েছে বা বাদ দেওয়া হয়েছে।
সাধু ও চলিত রীতির শব্দ একই বাক্যে ব্যবহার করলে তাকে কি বলে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো গুরুচণ্ডালী। বিষয়টি খুব সহজ—বাংলা ভাষায় সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণকে ব্যাকরণের ভাষায় গুরুচণ্ডালী দোষ বলা হয়।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- সাধু ভাষার ক্রিয়া বা সর্বনাম পদ (যেমন: 'করিয়াছি', 'তাহারা') এবং চলিত ভাষার রূপ (যেমন: 'করেছি', 'তারা') যখন একই বাক্যে মিশিয়ে ফেলা হয়, তখন বাক্যের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়।
- এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ মিশ্রণকেই ব্যাকরণে গুরুচণ্ডালী দোষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
তাই বাক্যে শুদ্ধতা বজায় রাখতে যেকোনো একটি রীতি (হয় সাধু, নয়তো চলিত) অনুসরণ করাই হলো নিয়ম।
হাইফেন কোথায় বসে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো দুই শব্দের সংযোগ দেখাতে। বিষয়টি বেশ সহজ, কারণ হাইফেন মূলত দুটি শব্দকে একীভূত করে একটি নতুন অর্থ তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
সহজভাবে মনে রাখার উপায়:
- যখন দুটি আলাদা শব্দ মিলে একটি একক ধারণা বা বিশেষ কোনো পদ তৈরি করে, তখন তাদের মাঝে হাইফেন ( - ) বসে।
- উদাহরণস্বরূপ: 'মা-বাবা', 'চা-কফি', বা 'বই-খাতা'—এখানে প্রতিটি শব্দ আলাদা হলেও হাইফেনের মাধ্যমে তারা একটি জোড়া হিসেবে কাজ করছে।
- বাক্যের ভেতরে শব্দের পারস্পরিক সম্পর্ক বা সংযোগ বোঝাতে এটি সবচেয়ে কার্যকর বিরামচিহ্ন।
যে নারীর হাসি পবিত্র তাকে কী বলে?
এখানে সঠিক উত্তর হলো শুচিস্মিতা। বিষয়টি মনে রাখা খুব সহজ:
- শব্দটি দুটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত: শুচি (যার অর্থ পবিত্র বা নির্মল) এবং স্মিতা (যার অর্থ মৃদু হাসি)।
- যে নারীর হাসি পবিত্র বা নির্মল, তাকে এক কথায় প্রকাশ করলে হয় শুচিস্মিতা।
- বানানের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন, এখানে 'শুচি' শব্দটিতে মূর্ধন্য-শ (শু) ব্যবহৃত হয়, তাই সঠিক বানানটি হবে শুচিস্মিতা।